'কাছের মানুষদের যা কিছু খারাপ তা  নিজের করে নিতেন নির্মলা মিশ্র'। রোববার কলকাতার রবীন্দ্র সদনে সঙ্গীতশিল্পী নির্মলা মিশ্রকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে এভাবেই স্মৃতিচারণা করলেন সংগীতশিল্পী সৈকত মিত্র। তিনি বলেন, 'শেষ সাত বছরে শারীরিক অনেক জটিলতায় ভুগেছেন শিল্পী। চলে গিয়ে মুক্তি পেলেন। শিল্পী হিসেবে নির্মলা চিরজীবী হয়ে থাকবেন মানুষের মধ্যে।'

শনিবার গভীর রাতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে কলকাতার চেতলায় নিজের বাসায় শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী ও সুরকার নির্মলা মিশ্র। তার বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর । দীর্ঘদিন ধরে তিনি বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন।

নির্মলাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে এসে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন পূর্ণদাস বাউল। কান্না ভেজা কণ্ঠে সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'যখনই তাকে বলতাম কেমন আছো তিনি শয্যাশায়ী অবস্থায়ও বলতেন খুব ভালো আছি। আমাকে দাদা বলে সম্বোধন করতেন। দীর্ঘ ৫০ বছরের বেশি সময় তার সঙ্গে পরিচয়। তাকে নিয়ে যত কথাই বলি কম হয়ে যাবে।'

নির্মলাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে আসেন কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, 'আমরা একই পাড়ার বাসিন্দা। ছোটবেলা থেকে দেখতাম নির্মলাদির বাড়ির সামনে একাধিক গাড়ি। সঙ্গীতশিল্পী-পরিচালকদের ভিড় লেগেই থাকতো তার বাড়িতে। শেষ জীবনে একাধিক বাইপাস সার্জারি ব্রেন স্টোকসহ একাধিক শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন তিনি। একাধিকবার হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। আমরা রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব তার পাশে থেকেছি।'

শিল্পী নির্মলাকে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন শ্যামলা আর্ঢোসহ অসংখ্য ভক্ত। এছাড়া নির্মলার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পশ্চিম বঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়সহ সাংস্কৃতিক জগতের বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।

দুপুর ২টার পর নির্মলার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় সংগীত একাডেমিতে। সেখান থেকে তার মৃতদেহ নেওয়া হবে কেওড়াতলা মহাশ্মশানে। সেখানেই তার শেষকৃত্য হবে।

১৯৩৮ সালে অবিভক্ত ব্রিটিশ ভারতের বর্তমান পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার জয়নগর মজিলপুরে জন্ম গ্রহণ করেন নির্মলা। তার বাবা মোহিনী মোহন মিশ্র ছিলেন রাগাশ্রী গানের সাধক। জন্মসূত্রে সঙ্গীতের মধ্যে বেড়ে ওঠেন নির্মলা।

'এমন একটা ঝিনুক খুঁজে পেলাম না যাতে মুক্ত আছে’, ‘ও তোতা পাখি রে’ শিকল খুলে দেব যদি মা কে আমার এনে দাও'- এর মতো বহু জনপ্রিয় গান গেয়েছেন নির্মলা মিশ্র। পাশাপাশি বাংলা ছবির জন্য প্লে-ব্যাকও করেছেন। নির্মলা মিশ্রের স্বামী প্রদীপ দাশগুপ্তও ছিলেন একজন শিল্পী এবং গীতিকার।