সরকারি বিধি ভঙ্গ করে বয়স জালিয়াতির মাধ্যমে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে এখনও বহাল তবিয়তে আছেন তাকবীর হোসেন। 

দুর্নীতি দমন কমিশনসহ (দুদক) নানা মহলের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনা তদন্তে কমিটি গঠন করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তবে এক সপ্তাহের মধ্যে এই কমিটির প্রতিবেদন দাখিল করার নির্দেশনা থাকলেও, সময় পার হওয়ার কয়েকদিন পরও এখনো প্রতিবেদন দেখেনি আলোর মুখ। অভিযুক্ত তাকবীরকে চাকরিতে বহাল রাখতেই এমন গড়িমসি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। 

প্রসঙ্গত, গত ৫ আগস্ট ‘বয়স জালিয়াতি করেও বহাল তাকবীর!’ শিরোনামে সমকালের শেষ পৃষ্ঠায় একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। 

তাকবীর চমেক হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত আছেন। তার বিরুদ্ধে সরকারি হাসপাতাল থেকে বেসরকারি হাসপাতালে রক্ত পাচারসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এরইমধ্যে তাকে একাধিকবার তলবও করেছে দুদক। তাকবীরের আপন বড় ভাই বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। তদন্ত প্রতিবেদন দিতে গড়িমসির এটিও একটি বড় কারণ বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

চমেক হাসপাতালের কয়েকজন কর্মকর্তা বলেন, বড় ভাই বিএমএ নেতা হওয়ায় ও প্রশাসনের কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে তাকবীর হোসেনের সখ্যতা থাকায় তদন্ত প্রতিবেদন দিতে গড়িমসি করা হচ্ছে। তাকে ব্লাড ব্যাংক থেকে বদলিও করতে চান না কেউ কেউ। তদন্তে প্রকৃত ঘটনা উন্মোচন হওয়া নিয়েও শঙ্কা প্রকাশ করেন তারা।  

এ প্রসঙ্গে তদন্ত কমিটির প্রধান চমেক হাসপতালের সহকারী পরিচালক ডা. রাজীব পালিত সমকালকে বলেন, ‘নানা কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারিনি। তবে তদন্তের কাজ এখন প্রায় শেষ পর্যায়ে। দুই একদিনের মধ্যে কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারব বলে আশা করছি।’ 

প্রতিবেদন দিতে গড়িমসি ও তাকবীরের ভাই বিএমএ নেতা প্রসঙ্গে তিনি সমকালকে বলেন, ‘আমাদের ওপর কারও চাপ নেই। তদন্তের স্বার্থে কিছুটা বেশি সময় নেওয়া হচ্ছে। বড় ভাই বিএমএ নেতা এটি আমাদের দেখার বিষয় নয়। তদন্তে সঠিক তথ্য ও জড়িতদের ব্যাপারে আসল তথ্য বেরিয়ে আসবে। ১৫ আগস্টের অনুষ্ঠান নিয়ে বেশি ব্যস্ত থাকায় প্রতিবেদন জমা দিতে বিলম্ব হচ্ছে।’ 

চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম আহসান সমকালকে বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদন দিতে কিছুটা বিলম্ব হওয়ার ব্যাপারে কমিটি আমাদেরকে জানিয়েছেন। একসময় হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে নানা অনিয়ম হতো। এটাকে ঘিরে বেশকিছু গ্রুপ সক্রিয় আছে। তাদেরকেও চিহ্নিত করার কাজ চলমান রয়েছে।’ 

দুদকের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘তাকবীর হোসেনের নানা অভিযোগ তদন্ত করে সাতকর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হলেও সময় পার হওয়ার পরও তা দেওয়া হয়নি। এখনও প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় অনেক কাজ আটকে আছে।’