নাজনীন হাসান চুমকী। অভিনেত্রী ও মডেল। দীপ্ত টিভিতে প্রচার হচ্ছে তাঁর অভিনীত ধারাবাহিক নাটক 'আগুন পাখি'। এ ছাড়া মঞ্চে 'জলবাসর' নাটকে অভিনয় করছেন তিনি। নাটক ও অন্যান্য প্রসঙ্গে কথা হলো তাঁর সঙ্গে-

'আগুন পাখি' নিয়ে দর্শকের প্রতিক্রিয়া কী, তা জানার সুযোগ হয়েছে?

বেশ ভালো সাড়া পাচ্ছি। ডেইলি সোপের একটা আলাদা মেজাজ থাকে। গল্পে সেটি তুলে ধরেছেন নির্মাতা পারভেজ আমিন। গল্পের মেজাজ অনুযায়ী তিনি আমাকে পর্দায় হাজির করেছেন। 'আগুন পাখি' হাসান আজিজুল হকের বহুল পঠিত উপন্যাস। গল্প ও চরিত্র মিলে দর্শকের এ ধারাবাহিকটি ভালো লেগেছে বলে অনেকের মুখে শুনেছি।

এ সময়ে উপন্যাসনির্ভর নাটক কম হচ্ছে। এর কী কারণ বলে মনে করছেন?

এটা সত্যি যে, উপন্যাসনির্ভর নাটক এক সময় প্রচুর হতো। এখন তা কমে গেছে। পরিচালক-প্রযোজকরা এ ধরনের কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করছেন তা কিন্তু নয়। ৮০'র দশক থেকে মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট নিয়ে বহু নাটক হয়েছে। এখন সেটা চিন্তা করতেও ভয় লাগে। কারণ এখন জানালার শিক নেই, আছে গ্রিল। গ্রিল থাকলেও কাঠের পাল্লা নেই। আছে থাই অ্যালুমিনিয়ামের গ্লাস। দেয়ালের রং পরিবর্তন হয়েছে। বাড়িগুলোর মেঝে টাইলস দিয়ে সাজানো। পিরিয়ডির কাজ করা কঠিন। পুরোনো সময়কে স্ক্রিনে তুলে ধরা কঠিন।

'গুলশান অ্যাভিনিউ' নাটকে নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করছেন। চরিত্রটি কতটা চ্যালেঞ্জিং?

আমাকে তো অভিনয় করতে হয়। বিভিন্ন চরিত্র ধারণ করে অভিনয়কে জীবন্ত করার চেষ্টা করি। মন্দ চরিত্রে অভিনয় মোটেই চ্যালেঞ্জিং মনে হয়নি। কিন্তু কিংবদন্তিতুল্য অভিনেতা তারিক আনাম খানের পাশে দাঁড়িয়ে অভিনয় চ্যালেঞ্জিং লেগেছে। অভিনেত্রী ও নির্মাতা নিমা রহমানের পরিচালনায় এটি আমার প্রথম কাজ। আমার অভিনয় তাঁর মনঃপূত হবে কিনা এ নিয়ে ভাবনা ছিল।

হাতে থাকা চলচ্চিত্রের কাজ কতদূর এগোলো?

'গাঙকুমারী' ও 'মেঘ রোদ্দুর খেলা' সিনেমার কাজ শেষ। চলচ্চিত্র দুটিতে ভিন্ন চরিত্রে আমাকে দেখা যাবে। 'গাঙকুমারী'তে তারিক আনাম খানের প্রথম স্ত্রীর চরিত্রে অভিনয় করেছি। তিন সতিনের ঘরে বড় বউ। আর 'মেঘ রোদ্দুর খেলা' শিশুতোষ চলচ্চিত্রে আমার চরিত্র এক শিশুর মায়ের।

অভিনয় শিল্পী সংঘের যুগ্ম সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। সংগঠনের কার্যক্রম কেমন চলছে?

শিল্পীদের স্বার্থ নিয়ে অভিনয় শিল্পী সংঘ কাজ করছে। শিল্পীদের কতটা স্বার্থ রক্ষা করছি, তা নিয়ে আওয়াজ দিতে চাই না। অভিনয় শিল্পী সংঘ এর আগেও নীরবে কাজ করেছে। এখনও এভাবেই কাজ হচ্ছে। অনুজ ও অগ্রজ শিল্পীরা বর্তমান কমিটির ওপর আস্থা রাখছেন- এটাই বড় পাওয়া।

বর্তমান ব্যস্ততা কী নিয়ে?

এখন টিভি নাটকের চেয়ে মঞ্চেই বেশি ব্যস্ত বলা যেতে পারে। আজ 'জলবাসর' নাটকের মঞ্চায়ন রয়েছে। অক্টোবরে মঞ্চে আসছে দেশ নাটকের নতুন নাটক 'পারাপার'। ঢাকা থিয়েটার ও দেশ নাটক মঞ্চে আনছে নাটক 'পেন্ডুলাম'। এর রিহার্সাল শেষ। এতে দুটি নারী চরিত্রে অভিনয় করছি আমি। এ ছাড়া একটি রেপার্টরি কাজ করছি।

তিন দশক ধরে মঞ্চে কাজ করছেন। এ সময়ে কী পরিবর্তন চোখে পড়েছে?

আগে মঞ্চকর্মীরা যতটা নিরবচ্ছিনভাবে কাজ করতে পারত, এখন যানজটের কারণে তা পারছে না। কর্মঘণ্টা কমে গেছে। রিহার্সালে আসা-যাওয়ার সময় ঘণ্টার পর ঘণ্টা রাস্তায় বসে থাকতে হয়। ইদানীং মঞ্চের প্রতি সবার কেমন যেন অমনোযোগ লক্ষ্য করছি। থিয়েটার কর্মীরা কাজের উপযুক্ত পরিবেশ পাচ্ছেন না।