গুম নিয়ে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের ওয়ার্কিং গ্রুপ অন এনফোর্স অর ইনভলেন্টারি ডিসাপিয়ারেন্সের (ডব্লিউজিইআইডি) ১২৮তম বৈঠক জেনেভায় ১৯ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ বৈঠকে বাংলাদেশের গুম বিষয়ক তথ্য হালনাগাদ করেছে ডব্লিউজিইআইডি।

ডব্লিউজিইআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে নিয়মিত ৩০৪টি অভিযোগ পরীক্ষা করা হয়েছে। এ ছাড়া আগের করা আরও ৩৯৭টি অভিযোগ পর্যালোচনা করা হয়। এ সময় কমিটি নতুন অভিযোগ গ্রহণ করে এবং আগের অভিযোগগুলোর তথ্য হালনাগাদ করে। এ তালিকায় ছিল- বাংলাদেশ, ভুটান, চীন, কলোম্বিয়া, উত্তর কোরিয়া, ডমিনিকান রিপাবলিক, মিসর, হন্ডুরাস, লেবানন, মেক্সিকো, ওমান, পাকিস্তান, ফিলিস্তিন, এল সালভাদোর, রাশিয়া, সৌদি আরব, স্পেন, সিরিয়া, তুরস্ক, উগান্ডা ও ভেনেজুয়েলা।

জেনেভায় জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদের চলমান ৫১তম অধিবেশনে ডব্লিউজিইআইডি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। প্রতিবেদনে বাংলাদেশ অংশে বলা হয়, গুমের অভিযোগের ঘটনায় ৮ জনের বাস্তবসম্মত তথ্য দিয়েছে বাংলাদেশ। ডব্লিউজিইআইডি এটিকে স্বাগত জানায়। সেই সঙ্গে সব অনিষ্পন্ন বিষয় এবং ডব্লিউজিইআইডির ১২৫তম বৈঠকে আনা অভিযোগগুলোর বিষয়ে সব তথ্য দিতে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে প্রচেষ্টা বাড়াতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া গুম নিয়ে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) বিরুদ্ধে স্বাধীন ও পক্ষপাতহীন তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়।

গুম হয়েছেন এমন ব্যক্তির পরিবার সদস্য, সুশীল সমাজ ও ডব্লিউজিইআইডির পক্ষ হয়ে কাজ করছেন এমন মানবাধিকারকর্মীদের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও তাদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ যাতে না নেওয়া হয় সেটি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকারকে গুরুত্ব দিতে বলেছে ডব্লিউজিইআইডি। এ ছাড়া বাংলাদেশি মানবাধিকার সংগঠন অধিকারের নিবন্ধন নবায়ন না করায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।

গুম নিয়ে তদন্ত করতে ডব্লিউজিইআইডি ২০১৩ সালের ১২ মার্চ থেকে বাংলাদেশ সফরের জন্য একাধিকবার আগ্রহ জানিয়ে এসেছে। সর্বশেষ অনুরোধ ২০২০ সালের ২৪ এপ্রিল করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে সাড়া দেয়নি বাংলাদেশ। এ কমিটির দেওয়া হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে গুম নিয়ে এখনও ৮১ অভিযোগের কোনো সুরাহা হয়নি।