নায়ক নয়, অভিনেতা হিসেবেই নিজের পরিচয় তুলে ধরতে চাই। 'আগামীকাল' ছবিতে অভিনয়ের সময় থেকে নিজেকে পুরোপুরি বদলে ফেলার চেষ্টা করেছি। 'বীরত্ব' ছবিতেও অভিনয় করেছি একই ভাবনা আর চ্যালেঞ্জ নিয়ে।

তারকাখ্যাতির মোহে নয়, বরং শিল্পীসত্তাকে খুশি করতেই এ সিদ্ধান্ত। তাই অভিনয়ে নিজেকে ভেঙে নানারূপে নানা চরিত্রে তুলে ধরার চেষ্টা করছি। নায়ক পরিচয়ের খোলস থেকে বেরিয়ে আসা নিয়ে এমন কথাই শোনালেন ইমন। এও জানালেন, চলচ্চিত্র অঙ্গনে ১৫ বছরের দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে তাঁর কাছে স্পষ্ট হয়েছে, জনপ্রিয়তা চিরস্থায়ী নয়। শুধু ভালো কাজের মধ্য দিয়েই দর্শকমনে যুগের পর যুগ বেঁচে থাকা যায়। তাই জনপ্রিয়তার দৌড়ে অংশ নেওয়ার চেয়ে ভালো কাজ করে যাওয়াই মুখ্য।


যে কারণে তিনি আগামীতে সে কাজগুলোই বেছে নিতে চান, যেখানে ধাঁচের গল্প আর নতুন সব চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ থাকবে। ইমনের এই ভাবনা ও কাজের পরিকল্পনা শুনে এটা বুঝতে বাকি থাকে না যে, 'বীরত্ব' ছবির পর থেকে শুরু হয়েছে তাঁর ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় অধ্যায়। যে অধ্যায়ের প্রতিটি পরতে পরতে তাঁকে নতুনভাবে আবিস্কারে সুযোগ পাবেন দর্শক।

একটু পেছন ফিরে তাকালে আমরা দেখি, 'দারুচিনি দ্বীপ' থেকে শুরু করে 'গহীনে শব্দ', 'জোনাকির আলো', 'পদ্ম পাতার জল', 'বীরত্ব'সহ আরও কিছু ভিন্ন ধাঁচের ছবিতে অভিনয় করে দর্শক প্রশংসা কুড়িয়েছেন এই অভিনেতা। তারপরও সমসাময়িক তারকাদের চেয়ে তাঁকে নিয়ে আলোচনা খুব একটা হয় না। এর কারণ কি হাতেগোনা কয়েকটি ছবি ছাড়া ভালো কাজের সুযোগ না পাওয়া? নাকি জনপ্রিয় নায়ক হওয়ার দৌড়ে অংশ পিছিয়ে পড়া? এ প্রশ্নের উত্তরে ইমন বলেন, 'ভালো কাজের ইচ্ছা সবসময় থাকলেও সুযোগ সেভাবে পাইনি। এটা সত্যি, ছবি নির্বাচনে নিজেরও কিছু ভুল ছিল; যা সুধরে নেওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকতে হয়েছে।

'বীরত্ব' ছবিতে অভিনয়ে সুযোগের পর এই উপলব্ধি হয়েছে, দর্শকমনে বেঁচে থাকতে হলে ভালো কাজের বিকল্প নেই। তাই নিজেকে উজাড় করে গল্প-চরিত্র পর্দায় বাস্তব করে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। 'কাগজ', 'নুলিয়াছড়ির সোনার পাহাড়'সহ যেসব ছবিতে কাজ করছি, সেগুলো শিল্পীসত্তার তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি দিচ্ছে সৃষ্টির প্রকৃত আনন্দ।