বলিউড সিনেমা ফারাজের মুক্তি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে হোলি আর্টিজান জঙ্গি হামলার ঘটনায় নিহত হওয়া অবিন্তা কবিরের মা রুবা আহমেদ। তিনি বলেছেন, ফারাজ সিনেমাটি দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করবে। সিনেমাটির নির্মাতা তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেননি। এ ঘটনায় তারা সহমর্মিতাও প্রকাশ করেনি। আইনি নোটিশ পাঠিয়েও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে অবিন্তা কবিরের পরিবারের সদস্যরা। রাজধানীর শাহজাদপুরে অবিন্তা কবির ফাউন্ডশনের কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলন হয়। সেখানে কাঁদতে কাঁদতে ‘ফারাজ’ সিনেমা মুক্তি বন্ধের দাবি জানান অবিন্তার মা রুবা আহমেদ।


সংবাদ সম্মেলনে অবিন্তা কবিরের মা রুবা আহমেদ বলেন, আমার দেশে যখন এটা আসবে প্লিজ ওটিটিতে এটা প্রকাশ হতে দিয়েন না। দেশের মানুষের দরকার নেই এটা দেখার।

আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাচ্ছে বলিউড সিনেমা ‘ফারাজ’। বাংলাদেশের গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলার ঘটনার ছায়া অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমার ট্রেলার সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে। তবে ফারাজ সিনেমাটি মুক্তি পাক, তা চান না ওই ঘটনায় নিহত অবিন্তা কবিরের পরিবারের সদস্যরা।

রুবা আহমেদ বলেন, ‘এটা দেখা কোনো মায়ের পক্ষে সম্ভব না। আমি মা, আমার মেয়েকে হারিয়েছি। মেয়ের জীবন কীভাবে চলে গেছে সেটা বড় পর্দায় দেখাচ্ছে, অন্যরা উপভোগ করছে এবং অন্য মানুষ সেখান থেকে ব্যবসা করে পয়সা নিচ্ছে, এগুলো মা হিসেবে আমি কীভাবে চাইব। এতে শুধু আমার মেয়ের নয়, দেশের ভাবমূর্তিও নষ্ট হচ্ছে। আমি চাই না, ওটিটি প্ল্যাটফর্মে এই সিনেমা আসুক।

তিনি বলেন, ‘আমি ছয় মাস মুভিটাকে আটকে রেখেছি, এটা না হলে ছয় মাস আগেই মুভিটা মুক্তি পেয়ে যেত। আমি প্রথম ২০১৯ সালে এই মুভিটি সম্পর্কে জানতে পারি। এই মুভির প্রথম পোস্টার ২০২১ সালের ৫ আগস্ট প্রথম আমার হাতে এসেছে। এই মুভি বন্ধের জন্য আমি নির্মাতাদের কাছে উকিল নোটিশ পর্যন্ত পাঠিয়েছি।’

রুবা আহমেদ বলেন, ‘আমার মেয়ে সাধারণ জনতা। আমার মেয়ে কোনো পণ্য না। ও কোনো কিচ্ছু না। ও অবিন্তা কবির, আমার মেয়ে। আপনারা কেউ ওকে জানতেন না। আপনারা কী আসলেই অবিন্তা কবিরকে চিনতেন? যদি ও ২০১৬ তে মারা না যেত? চিনতেন না। আপনার ওর (অবিন্তা) নামটা জেনেছেন কারণ, শি পাসড ওয়ে দ্যাট নাইট।’

বলিউড সিনেমা ফারাজ নির্মিত হয়েছে ‘হোলি আর্টিজান: একটি জার্নালিস্টিক অনুসন্ধান’ বইয়ের সূত্র ধরে। বইটি লিখেছেন দৈনিক বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি নুরুজ্জামান লাবু।