ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

দুই মেয়েকে রেখে দেশে একা থাকি, এটা অনেক কষ্টের: দিলারা জামান

দুই মেয়েকে রেখে দেশে একা থাকি, এটা অনেক কষ্টের: দিলারা জামান

দিলারা জামান। ছবি:সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ মে ২০২৪ | ১৩:৩৬ | আপডেট: ১২ মে ২০২৪ | ১৭:৫৩

একুশে পদক ও জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া অভিনেত্রী দিলারা জামান। অভিনয়ের দীর্ঘ ক্যারিয়ার তাঁর।নাটক-সিনেমায় দীর্ঘদিন ধরেই মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে আসছেন।বিশ্ব মা দিবস উপলক্ষে এই অভিনেত্রীর সঙ্গেই কথা হয়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন- অনিন্দ্য মামুন

সমকাল: পর্দায় দীর্ঘদিন মায়ের চরিত্রে অভিনয় করে আসছেন।আজ বিশ্ব মা দিবস। দিবসটিআপনি কীভাবে দেখছেন...

দিলারা জামান: মা দিবস সাধারণ চোখেই দেখি। এই দিবস-টিবস ব্যক্তিজীবনে খুব একটা ভূমিকা রাখে বলে মনে হয় না। সোজা কথা বললে, মায়েদের জন্য আলাদাকোনোদিবস লাগে না। প্রত্যেকমানুষের কাছেই মা অনন্য। মা সন্তানকে ভালোবাসবে প্রতিদিন,প্রতিমুহূর্তে। এখন তো ইন্টারনেটের যুগ। শুনেছি সন্তানরা এই মা দিবসে তাদের মাকে নিয়ে নাকি ইন্টারনেটে (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম) নানা কিছু লেখে। আমাদের সময়ে তো এগুলো ছিল না। আমরা মায়েদের সঙ্গে ইমোশনালি সম্পৃক্ত ছিলাম। এখন তো আর তেমনটি নেই।

সমকাল: তার মানে এসব দিবসপালনের গুরুত্বনেই খুব একটা?

দিলারা জামান: সেটা বলছি না। মাকে সম্মান জানিয়ে দিবস থাকতেই পারে। আমি বলতে চাইছি, দিবস পালন করে তো আর মায়ের ওপর দায়িত্ব পালন শেষহয়ে যায় না। পৃথিবীতে কিছু সম্পর্কের কোনো বর্ণনা হয় না। সে সম্পর্ক নিয়ে কিছু বলারও প্রয়োজন পড়ে না। মা-সন্তানের সম্পর্কটা তেমনই।মা দিবস মূলত সেই সন্তানদের স্মরণ করিয়ে দেওয়ার একটি দিন; যারামায়েদের উপযুক্ত সম্মান করছে না। তবে সার্বিকভাবে আমি বলব, প্রতিটি দিনই মায়ের, প্রতিটি দিনই সন্তানের। অভিনয়ের সুবাদে কয়েকটি বৃদ্ধাশ্রমে কাজ করতে হয়েছে আমাকে। সেখানেঅনেক বাবা-মাকে দেখেছি কীভাবে দিনাতিপাত করছেন। ওই সন্তানদের প্রতি অনুরোধ থাকবে, মাকে নিজের বুকে ফিরিয়ে নিন। মাকে বুঝুন, মায়ের কষ্ট অনুভব করুন।

সমকাল: আপনার বৃদ্ধাশ্রম করার পরিকল্পনা ছিল; সেটির কাজ কতদূর?

দিলারা জামান: হ্যাঁ, বৃদ্ধাশ্রম করারপরিকল্পনা অনেক দিনের। বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে অনেক নাটকে শুটিং করতে গিয়ে সেখানে থাকা মানুষের অবস্থা দেখে এ পরিকল্পনা মাথায় আসে। এখন সেটা পরিকল্পনাতেই রয়ে গেছে। তবে ব্যক্তিগতভাবেবেশ কয়েকটি বৃদ্ধাশ্রমের সঙ্গে যুক্ত আছি।

সমকাল: প্রায় ছয় দশক  ধরে মায়ের ভূমিকায় নাটক-সিনেমায় অভিনয় করছেন; পর্দায় মায়ের ভূমিকায় অভিনয় করতে কেমন লাগে?

দিলারা জামান: মায়ের চরিত্র করতে করতে এখন দাদির চরিত্রও করছি [হাসি]। আমি তো মা। তাইমায়ের চরিত্রে অভিনয় করতে গেলে বাড়তি কিছু লাগে না। মনে হয় বাস্তব জীবনটাই রূপদান করছি। মায়ের চরিত্র করতে করতে এখন আমি নাটক-সিনেমার অধিকাংশ শিল্পীরই মা হয়ে উঠেছি। তারা আমাকে নিজেদের মায়ের মতোই সম্মান দেখায়। বিষয়টি আমার কাছে ভালোই লাগে। ওরাই তো আমার পরিবার।

সমকাল: যতদূর জানি, অভিনয়ের টানে সন্তানদের থেকেও দূরে থাকতে হচ্ছে আপনাকে...

দিলারা জামান: আমার দুই মেয়ে দেশের বাইরে থাকে। পড়াশোনা শেষ হলেও যুক্তরাষ্ট্রেই স্থায়ী হয়েছে। তারা চেয়েছিল মাকে নিয়ে যেতে। কিন্তু অভিনয় আর দর্শকের ভালোবাসার কারণে একেবারে দেশের বাইরে যাওয়া হয়নি। অভিনয়ের কারণে দর্শক ও সহকর্মীদের যে ভালোবাসা পাই, তা ছেড়ে বিদেশে স্থায়ী হইনি। দুই মেয়েকে রেখে দেশে একা থাকি। এটা অনেক কষ্টের। কিন্তু অভিনয়টাই আমি করে যেতে চাই। এটাই আমার চাওয়া।

সমকাল: যে অভিনয়ের জন্য সন্তানদের কাছে যাননি; সেই অভিনয় নিয়ে কোনো অপ্রাপ্তি রয়েছে? 

দিলারা জামান: অভিনয় নিয়ে আমার মধ্যে আর অপ্রাপ্তি নেই। এখন হয়তো দর্শকের রুচির কারণে মানের পরিবর্তন হচ্ছে। সিরিয়াস কাজ কম হচ্ছে। আমরাও কম কাজ করছি। কিন্তু অভিনয় করে যেতে পারছি, এটাই বড় প্রাপ্তি।

সমকাল: ৮১ বছর বয়সেও নিয়মিত অভিনয় করে যাচ্ছেন। ক্লান্তি আসে না?

দিলারা জামান: আমি এই বয়সেও কাজকরছি। এটা আমার জন্য বড় পাওয়া। আমার চারপাশে মানুষ বলে– অনেক তো হলো, এখন ছেড়ে দিন। আমি তখন অবাক হই! কী ছেড়ে দেব? এখন যে নতুন যাত্রা শুরু হয়েছে, এটা থেকে আমার অভিনয়ের অনেক কিছু শেখার আছে। এই জগৎ ফেলে আমি কোথায় পালাব! অভিনয়ে আমার এক

আরও পড়ুন

×