ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

সিনেমা হলে তালা: ক্ষতি হাজার কোটি টাকারও বেশি

সিনেমা হলে তালা: ক্ষতি হাজার কোটি টাকারও বেশি

অনিন্দ্য মামুন

প্রকাশ: ১৪ অক্টোবর ২০২০ | ০১:৫৬ | আপডেট: ১৪ অক্টোবর ২০২০ | ০৪:২৭

করোনা পরিস্থিতির কারণে সাতমাস ধরে দেশের সিনেমা হলগুলোতে ঝুলছে তালা। গত ২১ সেপ্টেম্বর তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে জানান, ১৬ অক্টোবর থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দেশের হলগুলো খুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত আসবে।

কিন্তু মন্ত্রীর ঘোষিত তারিখের আর মাত্র দুইদিন বাকি থাকলেও এখনো প্রেক্ষাগৃহ সংশ্লিষ্ট কেউ-ই কোনও চিঠি পাননি বলেই সমকালকে জানিয়েছেন। 

এদিকে সিনেমা সংশ্লিষ্টদের মতে, সিনেমা হল বন্ধের এই সাতমাসে দিনে সামগ্রিক বাংলা সিনেমার ক্ষতি হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। 

রাজধানী ঐতিহ্যবাহি সিনেমা হল মধুমিতার কর্ণধার ইফতেখার উদ্দিন নওশাদ বলেন, ‘এই যে দীর্ঘদিন ধরে সিনেমা হল বন্ধ রয়েছে। ফলে সিনেমা হল আর সিনেমা হল নেই। সবগুলোই গোডাউনে পরিণত হয়েছে। এই সময়ে সামগ্রীকভাবে আমাদের লোকসানের পরিমান হাজার কোটিরও উপরে। 

করোনা ভাইরাসের ছোপলে যেন বিবর্ণ দেশের চলচ্চিত্র।সিনেমাপ্রেমিদের পদচারণায় সকাল-সন্ধ্যা যে আঙিনা থাকতো সরব, সরেজমিনে দেখা গেলো তা এখন নিরব-নিস্তব্ধ। হলগুলো ভূতুরে অবস্থায় পড়ে আছে। 

সিনেমার ক্ষতির সামগ্রিক হিসেবে কষে প্রযোজক ও প্রদর্শক সমিতির সভাপতি খোরশেদ আলম খসরু বলেন, সিনেমার ব্যবসার জন্য কতগুলো বড় বড় উৎসবের দিকে আমরা সবাই তাকিয়ে থাকি। সেগুলো হচ্ছে, ঈদুল ফিতর, ঈদুল আজহা, নববর্ষ ও পূজা। সিনেমা হল বন্ধ থাকায়  এবার কোন উৎসবেই সিনেমা মুক্তি দেয়া সম্ভব হয়নি। অথচ এই উৎসবগুলোকে কেন্দ্র করে বড় বড় বাজেটের ছবি নির্মিত হয়েছে। প্রযোজকদের লগ্নিকরা টাকাগুলো আটকে আছে। তাই প্রযোজক, হল মালিক এবং সিনেমা সংশ্লিষ্ট সবাই ক্ষতির মুখে পড়েছে। সামগ্রিকভাবে হিসেবে করলে ক্ষতি তো হাজার কোটি ছাড়িয়েছে।

২০ মার্চ থেকে বন্ধ হয় দেশের ছোট-বড় সব হল। বন্ধের এই সময়ে সিনেমা হলের কর্মীরাও নিয়মিত পাচ্ছেন না বেতন। ফলে সীমাহীন কষ্টে দিন পার করছেন তারা। অনেকেই বেছে নিয়েছেন ভিন্ন পেশাও।

এই পরিস্থিতিতে  সিনেমা হলের উন্নয়নে সম্প্রতি সাত'শ কোটি টাকা বিশেষ তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। এতেই যেনো প্রাণ ফিরে পাচ্ছেন হল মালিক ও সিনেমা ব্যবসায়ীরা। দেখছেন সুসময়ে ফেরার স্বপ্নও।

আরও পড়ুন

×