ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষুব্ধ তারকারা

সাম্প্রদায়িক হামলায় ক্ষুব্ধ তারকারা

বিনোদন প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২১ | ০৬:১০ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২১ | ০৬:১৭

সম্প্রতি সারা দেশে পালিত হলো সনাতনধর্মালম্বীদের দুর্গা পূজা। এই পূজাকে কেন্দ্র করে দেশের বিভিন্ন স্থানে কয়েক দিন ধরে সাম্প্রদায়িক হামলার ঘটনা ঘটছে। সনাতনধর্মালম্বীদের বাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমনকি মন্দিরেও হামলা চালানো হয়েছে। সর্বশেষ রংপুরের পীরগঞ্জে হিন্দুদের বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।  

সাম্প্রদায়িক হামলা ও সহিংসতায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ঢাকার শোবিজের তারকা। করছেন প্রতিবাদও। 

বরেণ্য অভিনেত্রী ও সংসদ সদস্য সুবর্ণা মুস্তাফা তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘গত কয়েকদিন ধরে এক বিশ্রী অনুভূতির মধ্যে বসবাস করছি। গ্লানি, দুঃখ, ক্ষোভ সবকিছু মিলেমিশে একাকার। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপনে যেন কালো একটা পর্দা পড়ে গেল। ত্রিশ লক্ষ শহীদ আর তিন লক্ষ নারীর সর্বোচ্চ ত্যাগকে অসম্মানিত হতে দেখলাম। বঙ্গবন্ধুর ধর্মনিরপেক্ষ সোনার বাংলাকে ধর্মের ধুয়াধারীরা কলুসিত করতে উদগ্রীব। কিন্তু আর না! নতুন করে যুদ্ধ শুরু করতে হবে। দেশকে এই কুচক্রীদের হাত থেকে মুক্ত করতে হবে। যারা ষড়যন্ত্র করে আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্ট করতে চাইছে, দেশকে অস্থিতিশীল করতে চাইছে, তাদেরকে বলছি- ‘বারে বারে ঘুঘু তুমি খেয়ে যাও ধান, এবার ঘুঘু তোমার বধিব পরাণ’। বাংলাদেশ এখন পুরোটাই ডিজিটাল। তোমরা সবাই চিহ্নিত, তোমাদের আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে, আইনের শাসন দিয়েই তোমরা শাস্তি পাবে। সহনশীল হবার দিন শেষ।

নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সৈনিক উল্লেখ করে স্ট্যাটাসের শেষ অংশে তিনি লিখেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমরা আপনার সৈনিক, আপনি আদেশ করেন; ৭১-এ পারিনি, ২০২১-এ দেশের জন্য প্রাণ দিতেও প্রস্তুত।’

জনপ্রিয় নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ফেসবুকে লিখেছেন, ‘এখন আমরা কী করতে পারি? ঘটনা যা যা ঘটেছে সেটা ঠিকঠাক তদন্ত করে সবার সামনে তুলে ধরা। দ্রুততার সাথে এই হামলার ঘটনাগুলার সাথে যারা যারা জড়িত তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করা। আগামীতে যেনো এইরকম কিছু না ঘটে তার জন্য যা যা ব্যবস্থা নেয়ার সেটা নেয়া। আলেম সম্প্রদায়ের উচিৎ এই ঘটনার নিন্দা করে বয়ান দেয়া। তবে সবচেয়ে বেশি দরকার যেটা, সেটা হচ্ছে, প্রত্যেকেই যার যার জায়গা থেকে এই ঘটনার নিন্দা করা। হিন্দু বন্ধু এবং প্রতিবেশীকে জানানো, তুমি একা নও! এখন তাকে একা বোধ না করতে দেয়াই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কাজ! এই সময় এক জগতবিধ্বংসী ক্ষোভ-অভিমান চেপে বসে। তার হাতটা চেপে ধরে বলি চলেন, ইউ আর নট অ্যালোন।’

দুই বাংলার জনপ্রিয় অভিনেত্রী জয়া আহসান তার ফেসবুকের প্রোফাইল ছবি বদলে সম্পূর্ণ কালো করে দিয়েছেন। এছাড়া রংপুরের সেই অগ্নিসংযোগের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না। এই জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ আমার দেশ না। এই বিস্তীর্ণ শ্মসান আমার দেশ না। এই রক্তস্নাত কসাইখানা আমার দেশ না।’

বাপ্পি চৌধুরী ইঙ্গিতে প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে লিখেছেন, অথচ আমাদের রক্তের রঙ একই ….। তিনি আরও বলেন, রংপুর নয়, পুড়ছে স্বদেশ, পুড়ছে মাতৃভূমি। আজ পুড়ছে অসহায় কেউ, কাল পুড়বে তুমি।

হালের জনপ্রিয় নায়ক সিয়াম আহমেদ লিখেছেন, ‘আমাদের বন্ধুরা ঈদের দিন বাসায় আসে। আমাদের সাথেই আনন্দ ভাগাভাগি করে নেয়। বিপদে পড়লে সবার সাথে তারাও ছুটে আসে। একবারের জন্য মনে হয় নাই ওরা হিন্দু না মুসলমান। ২০২১ সালে এসে আমরা কী প্রমাণ করতে চাইছি? আমরা তো এমন দেখিনি! আমাদের সাম্প্রদায়িকতা তো এমন না! আমার দেশ জ্বলছে, আমাদের দেশ জ্বলছে।’

নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই চিত্রনায়িকা বিদ্যা সিনহা মিম লেখেন, কোনো ধর্মই কখনো প্রতিহিংসা শেখায় না। তাই ধর্মীয় বিশ্বাসের নামে সকল সাম্প্রদায়িক সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করছি। আরও একটা কথা, দেশটা যদি আমাদের সকলেরই হয়, তাহলে এখানে ‘সংখ্যালঘু’ বলে কোন শব্দ থাকা উচিত না। আর যদি সংখ্যাতেই কথা বলতে হয়, তাহলে পৃথিবীতে শুধুমাত্র ভালো মানুষেরাই ‘সংখ্যাগরিষ্ঠ’ হোক।”

গুণী অভিনেত্রী দীপা খন্দকার অগ্নিকাণ্ডের ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, ‘এই দেশে জন্মগ্রহণকারী প্রতিটি নাগরিকের এই দেশে বসবাস করার অধিকার আছে। সে অধিকার কোনো অমানুষ কেড়ে নিতে পারে না। যার যার ধর্ম সে সে পালন করবে। ধিক্কার জানাই অমানুষদের।’

অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা লিখেন,পোড়ার গন্ধ পাই। দম বন্ধ লাগে। আর কত পুড়তে হবে মানুষকে? আমরা কি মানুষ?


আরও পড়ুন

×