সংক্রমণের ভয় নিয়েও ইউরোপে ছুটছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা

প্রকাশ: ৩০ মে ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

করোনাভাইরাসে জেরবার পুরো বিশ্ব। ঘর থেকে বেরোচ্ছেন না কেউ পারতপক্ষে। তবু এরই মধ্যে নিজের দেশ ছেড়ে ইউরোপে পাড়ি জমাতে চাইছেন অভিবাসনপ্রত্যাশী মানুষেরা। খবর আরব নিউজের।

ইতালিতে গত কয়েকদিনে সংক্রমণের হার অনেকটাই কমে গেছে। তবু সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশটি। ইতালি বলছে, তাদের বন্দরগুলো এখনো কভিড-১৯ ঝুঁকিমুক্ত হয়নি। কিন্তু তাদের সতর্কবার্তা শুনছে না অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। অবৈধভাবে দেশটিতে ঢোকার চেষ্টায় মরিয়া মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষ।

ইতালিতে গত কয়েকদিনে সংক্রমণের হার অনেকটাই কমে গেছে। তবু সতর্ক অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের দেশটি। ইতালি বলছে, তাদের বন্দরগুলো এখনো কভিড-১৯ ঝুঁকিমুক্ত হয়নি। কিন্তু তাদের সতর্কবার্তা শুনছে না অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। অবৈধভাবে দেশটিতে  ঢোকার চেষ্টায় মরিয়া মধ্যপ্রাচ্যসহ এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের মানুষ।

এমনি উষ্ণ আবহাওয়ায় বোটে করে অবৈধ পথে সাগর পারি দেওয়া বেশ বিপজ্জনক। তবে গেল কয়েকদিন ধরে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে হওয়ায় পাচারকারী চক্র এ সময়টা কাজে লাগাতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। তবে তৎপর তিউনিসিয়ার কোস্টগার্ডও। তাদের সতর্ক পাহারার কারণে গত কয়েকদিন পাচারকারীদের বেশ কয়েকটি প্রচেষ্টা ভন্ডুল হয়ে গেছে এবং ইতালিগামী বহু অভিবাসী প্রত্যাশীকে আটকে দেওয়া হয়েছে।

তিউনিসিয়া কোস্টগার্ডের মুখপাত্র হুসেম এডিন জেবাবলি জানান, এসফাক্স ও নাবুয়েল রাজ্য থেকে বেশ কিছু মানুষকে আটকানো হয়েছে যারা ইঞ্জিনচালিত ও ডিঙ্গি নৌকায় করে ইতালির সিসিলি যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

এসফাক্স রাজ্যের এল আমরা কোস্টগার্ড ইউনিট জানায়, স্থানীয় এক জেলের চুরি হয়ে যাওয়া নৌকা আটক করেন তারা, যে নৌকায় ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী ৪০ জন মানুষ ছিলেন, যারা সবাই এসেছেন তিউনিস ও এসফাক্স থেকে। এর মধ্যে ছোটখাটো অপরাধে জড়িত থাকায় পাঁচজনকে নিজেদের জিম্মায় নেয় পুলিশ। নৌকা থেকে কিছু বিদেশি মুদ্রাও উদ্ধার করা হয়েছে। ধারণা করা হয়, অভিবাসনপ্রত্যাশীরা এসব বিদেশি মুদ্রা পাচারকারী চক্রকে দিয়েছিল তাদের সাহায্য করার জন্য।

এছাড়া নাবুয়েল রাজ্যের কোস্টগার্ড করবা অঞ্চল থেকে ২১ জন অভিবাসনপ্রত্যাশীকে বহনকারী একটি নৌকা আটক করার খবর নিশ্চিত করেছে। এদের বেশিরভাগই নাইজেরিয়ার।

ইন্টারসস চ্যারিটির মুখপাত্র বলেন, ‘অভিবাসনপ্রত্যাশীরা বলছে, উত্তর আফ্রিকা থেকে ইউরোপ যেতে তারা তাদের সব অর্থ খরচ করে ফেলেছেন। এখন তারা মরিয়া। আমরা নিশ্চিত, কোনো সুযোগ পেলে শিগগিরই তারা ইতালি পৌঁছানোর চেষ্টা আবারও করবে।’

ইতালির উত্তর পশ্চিম অঞ্চলের শহর ভেনতিমিলিয়ায় ক্যাথোলিক চ্যারিটি কারিতাস ইনতেমিলিয়া জানায়, অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ফ্রান্সের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে অবস্থান করছে। তাদের সামাজিক-আইনগত সাহায্য দেওয়া এই সংস্থাটি সম্প্রতি তাদের অফিস আবার খুলেছে। তারা জানায়, ফরাসি কর্তৃপক্ষ সীমান্তে বেশ কড়াকাড়ি আরোপ করেছে এবং সন্তানসহ মাকে ইতালির দিকে ফেরত পাঠিয়েছে। সংস্থাটি জানায়, কভিড-১৯ মহামারিতে ফ্রান্স অপেক্ষাকৃত নিরাপদ থাকায় অভিবাসনপ্রত্যাশীরা সেখানেই যেতে চাইছেন।