ইতালির জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান

প্রকাশ: ০৩ জুন ২০২০   

অনলাইন ডেস্ক

ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

ইতালির সরকার জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেছে, 'আমাদের বিজয় দাবি করার সময় এখনও আসেনি।' স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জুনিয়র মন্ত্রী সান্দ্রা জাম্পা বলেছেন, 'ইতালিয়ানদের যেন বিভ্রান্তির কবলে ফেলা না হয়।

'নতুন করোনাভাইরাস তার শক্তি হারাচ্ছে। এটি এখন আগের চেয়ে অনেক কম বিপজ্জনক। বস্তুত, ইতালিতে এটি এখন ক্লিনিক্যালি মৃত,' ইতালির এক জ্যেষ্ঠ ডাক্তারের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার ও মন্ত্রীর পক্ষ থেকে এসব কথা বলা হয়।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে বলা হয়, মানুষকে এখনও সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে, শারীরিক দূরত্ববিধি মানতে হবে, দলবদ্ধতা এড়িয়ে চলতে হবে, বারবার হাত ধুতে হবে, মুখে প্রতিরোধক আবরণী (মাস্ক) পরতে হবে।'

ইতালির একজন জ্যেষ্ঠ ডাক্তার আলবার্তো জাংগ্রিলো করোনাভাইরাসের দুর্বল হয়ে পড়ার কথা জানান প্রথমে। রোববার তিনি সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, ভাইরাসটি ইতালি থকেে চলে গছে। যারা ইতালিয়ানদের দোটানায় ফেলেছেন, তাদের আমি এটি না করতে আহ্বান জানাতে চাই।'

অ্যালবার্তো জ্যাংগ্রিলো মিলানের 'স্যান র‌্যাফায়েল হাসপাতালের প্রধান। ইতালিতে যখন করোনাভাইরাস রোগীর প্রচণ্ড চাপ, তখন এ হাসপাতালটি তাদের চিকিৎসায় প্রধান ভূমিকা পালন করেছিল। আরএআই টেলিভিশনের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে জ্যাংগ্রিলো বলেছিলেন, 'গত ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে করোনা সংক্রমিতের পরীক্ষিত নমুনায় যে পরিমাণ ভাইরাস পাওয়া যাচ্ছে, গত ১ মাস বা ২ মাস আগের তুলনায় তা অতি নগণ্য।’

করোনাভাইরাসে মৃত রোগীর সংখ্যায় ইতালির অবস্থান ৩য় সর্বোচ্চ। আক্রান্তের সংখ্যায় এ দেশের স্থান পৃথিবীতে ৬ষ্ঠ। গত ২১ ফেব্রুয়ারি তারিখে ইতালিতে প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয়। মে মাস থেকে এখানে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা স্থিতিশীলভাবে কমতে শুরু করে। ইউরোপ মহাদেশে ইতালিতেই সবচেয়ে কঠোর লকডাউন আরোপ করা হয়, যা ধীরে ধীরে তুলে নেওয়া হচ্ছে।

জ্যাংগ্রিলো বলেন, 'কোনো কোনো বিশেষজ্ঞ সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের সম্ভাবনার কথা বলছেন; তাই রাজনীতিকদের বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার। আমরা দেশের স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে যাচ্ছি; তাই আতংক সৃষ্টিকারীদের দায়িত্বশীল হতে হবে।'

উত্তর ইতালির একজন ডাক্তারও পূর্বোক্ত ডাক্তারের দাবির সত্যতা স্বীকার করে বলেছেন, তিনিও দেখতে পাচ্ছেন করোনাভাইরাস দুর্বল হয়ে পড়ছে। জেনোয়া শহরের 'সান মার্তিনো হাসপাতালের সংক্রামক ব্যাধি ক্লিনিকের প্রধান মাত্তেও বাসেত্তি বলেছেন, 'দু মাস আগে করোনভাইরাসের যে শক্তি ছিল, এখনকার ভাইরাসের সে-শক্তি নেই। এটা স্পষ্ট যে, এখন কভিড ১৯ ভিন্ন রকম।' সূত্র : রয়টার্স।