ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

ফ্রেম বাছাই

ফ্রেম বাছাই

--

প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ | ১২:০০

ফ্যাশন সচেতনরা অভিরুচি অনুযায়ী চশমার ফ্রেম বাছাই করেন। চেহারার সঙ্গে মানায় এমন ফ্রেমের প্রাধান্যই বেশি। মুখায়ব অনুসারে কোন ফ্রেম ও কোন উপাদানের চশমা বেছে নিতে পারেন তা নিয়ে লিখেছেন শামীম সৈকত
শুধু প্রয়োজন মেটানো নয়, বর্তমানে চশমাটাও যেন হয়ে উঠেছে ফ্যাশনের অনুষঙ্গ। এ কথা অনস্বীকার্য, মানুষের প্রয়োজন থেকেই চশমা ও তার ফ্রেমের চাহিদা তৈরি হয়েছিল। কালক্রমে ভিন্ন ভিন্ন মানুষের অভিরুচি ও নতুনত্ব আনার জন্য চশমার ফ্রেমেও ভিন্নতা এসেছে। তবে চশমা পরাটাই শুধু মুখ্য নয়, আজকাল চশমার ফ্রেম নিয়েও রয়েছে সচেতনতা। গ্রিন রোডের ওয়াদুদ অপটিকস অ্যান্ড কোং এর বিক্রেতা আকবার হোসেন খানের সঙ্গে কথা হচ্ছিল চশমার ফ্রেম নিয়ে। জানা যায়, চশমার ফ্রেম মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে। প্লাস্টিক ও মেটাল। টেকসই ও দাম বিবেচনায় ফ্রেম নির্ধারিত হয়ে থাকে। এই দুই ধরনের ফ্রেমের মধ্যে রয়েছে তিন ধরনের ডিজাইন। ফুল ফ্রেম, সেমি রিমলেস ও রিমলেস ফ্রেম।
ফুল ফ্রেম :এই ধরনের ফ্রেম আবদ্ধ থাকে লেন্সের চারদিকে। ফলে লেন্সের আকৃতি সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। লেন্স শক্তভাবে এঁটে থাকে। সাধারণত এই ফ্রেমের চশমার ব্যবহারের প্রচলন বেশি দেখা যায়।
সেমি রিমলেস ফ্রেম :এই ধরনের ফ্রেমে লেন্সের ওপরের অংশে ফ্রেম দিয়ে আবদ্ধ থাকে এবং বাকি অংশ সুতা দিয়ে লেন্স শক্তভাবে আটকানো থাকে। চশমা থেকে যেন লেন্স ছিটকে না যায়, এ কারণেই মূলত এই সুতা ব্যবহার করা হয়।
রিমলেস ফ্রেম :এই ধরনের ফ্রেমে লেন্সের চারদিকে কোনো রিম থাকে না। লেন্স ছিদ্র করে ফ্রেমের সঙ্গে ক্ষুদ্রাকৃতির নাটের সাহায্যে আটকানো থাকে। অনেকেই এই ফ্রেমের চশমা ব্যবহার করে থাকেন। তবে এর প্রচলন তুলনামূলক কম।
ফ্রেমের রং :একেকজনের পছন্দ একেক রকম। অফিস কিংবা ক্লাসে ব্যবহার করার চশমাটি হয়তো নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার কিন্তু ঘোরাঘুরির সময় নানা রং আর নানা ঢঙের চশমা থাকতেই হবে যেন! কারও পছন্দ সাদা-কালোয় ডোরাকাটা চশমা, কারও পছন্দ চশমায় খয়েরি রঙের ছোপ। আবার কেউ কেউ পোশাকের রঙের সঙ্গে মিলিয়ে নীল, গোলাপি, বেগুনি, কমলা রঙের চশমাও ব্যবহার করেন। বর্তমানে রঙের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি ফ্রেমে দেখা যাচ্ছে নানান কারুকাজ।
চশমার আকৃতি :বর্তমানে চশমার ফ্রেমগুলোর আকৃতিতে ব্যাপক বৈচিত্র্য এসেছে। জনপ্রিয় আকৃতির চশমাগুলোর মধ্যে বিশেষ একটি আকৃতির চশমার নাম ক্যাটস আই চশমা। আবার চারকোনা ফ্রেম বা একটু গোলাকৃতির ফ্রেমও চলছে বেশ। তবে অনেকেই আবার পছন্দ করেন হ্যালো কিটি চশমা। হ্যালো কিটির বো-এর মতো একটি বো ফ্রেমের একপাশে থাকাটাই হ্যালো কিটি চশমার বৈচিত্র্য। কেউ কেউ আবার হ্যালো কিটির বো-এর মধ্যে তারকাখচিত চশমাও পছন্দ করছেন।
চশমার উপাদান : চশমার ফ্রেমের উপাদানেও এসেছে ভিন্নতা। মেটালের তৈরি চশমার জনপ্রিয়তা আর আগের মতো নেই। সেলুলয়েডের তৈরি ফ্রেম আজকাল চলছে বেশ। চশমার ফ্রেম এখন এমনভাবে তৈরি হচ্ছে, যেন দীর্ঘদিন চশমা ব্যবহার করলেও চোখের কোনায় খুব বেশি দাগ না পড়ে।
গোলাকার মুখের আকৃতির জন্য : গোলাকার মুখগুলোয় সাধারণত কৌণিক বৈশিষ্ট্য থাকে না। এ ধরনের মুখের চিবুকও প্রায় গোলাকার হয়ে থাকে। এ ছাড়া কপাল থেকে চোয়াল প্রায় সমান মাপের হয়। সে ক্ষেত্রে বর্গাকৃতির বা আয়তাকার ফ্রেমের চশমা ভালো মানায়। এতে আপনার চেহারা লম্বাটে মনে হবে। তবে রিমলেস ফ্রেম, বৃত্তাকার ফ্রেম এবং আকারে ছোট ফ্রেমগুলো মুখের গোল আকার আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে- তাই সেগুলো এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।
ওভাল বা ডিম্বাকার আকৃতির মুখের জন্য : পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মানুষের মুখ এই আকৃতির হওয়ার কারণে মুখের এই আদলকে নিখুঁত শেপ মনে করা হয়। তাই যে কোনো ফ্রেমই এই ধরনের মুখে মানিয়ে যায়। তবে ডিম্বাকৃতির মুখের আকৃতির ক্ষেত্রে বড় সাইজের ফ্রেমওয়ালা চশমা ভালো মানায়, যেটা চেহারার দুইপাশের চাপা অংশটাকে প্রসারিত করে তোলে।
হার্ট শেপ বা পানপাতা মুখের আকৃতির জন্য :কপালের দিকটা চওড়া হলেও চোয়াল এবং চিবুকের কাছে ক্রমশ সরু হয়ে এসে হার্ট শেপ নেয়। এই ধরনের মুখের আকৃতিতে সরু আকারের ফ্রেম সুন্দর মানায়। সে ক্ষেত্রে হাফ রিম, ক্যাটস আই বা গোল ফ্রেমের চশমা বাছাই করা যেতে পারে। তবে নকশা থাকে এমন ফ্রেম বাছাই না করাই ভালো। া
মডেল:সোনিয়া রিফাত; ছবি:আজাদ

আরও পড়ুন

×