ঢাকা সোমবার, ২০ মে ২০২৪

ঢাকায় জমকালো ব্রিটিশ কারি ফেস্টিভ্যাল

ঢাকায় জমকালো ব্রিটিশ কারি ফেস্টিভ্যাল

শৈলী ডেস্ক

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২২ | ২২:৫৯

আবারও ঢাকায় শুরু হয়েছে ব্রিটিশ কারি ফেস্টিভ্যাল। ঢাকার রসনাবিলাসীরা ১২ বছর পর পাচ্ছেন ব্রিটিশ কারির স্বাদ। ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় গত ২১ অক্টোবর শুরু হওয়া এই আয়োজন চলবে ২৬ অক্টোবর পর্যন্ত। যেখানে ভিন্ন স্বাদের ব্রিটিশ খাবারের পাবেন ভোজনবিলাসীরা। ১৯ অক্টোবর ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ব্রিটিশ কারি উৎসবের ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন ব্রিটিশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ও ইউকে হাউস অব লর্ডসের আজীবন সদস্য লর্ড কারান বিলিমোরিয়া, সিটি ব্যাংকের অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মারুফ, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আতিকুর রহমান, ব্রিটিশ হাইকমিশনের ডিরেক্টর অব কমিউনিকেশনস ফ্রান্সেস জ্যাকস, কারি লাইফ ম্যাগাজিনের সম্পাদক সৈয়দ বেলাল আহমেদ ও প্রধান সম্পাদক সৈয়দ নাহাস পাশা এবং ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকার মহাব্যবস্থাপক অশ্বিনী নায়ার।

জানা গেছে, এবারের কারি ফেস্টিভ্যালে ডমিনিক চ্যাপম্যানসহ আরও পাঁচজন অ্যাওয়ার্ড বিজয়ী শেফ উপস্থিত থাকবেন। তাঁরা হলেন- কেন্টের শোজনার মালিক, শেফ জামাল উদ্দিন আহমেদ, মেইডেনহেডস দ্য ফ্যাট বুদ্ধার জাফর সোলিম উদ্দিন, দ্য ক্যাপিটাল ডারহামের এক্সিকিউটিভ শেফ সৈয়দ জহুরুল ইসলাম, হোটেল হিন্দুস্তান ইন্টারন্যাশনালের প্রাক্তন এক্সিকিউটিভ শেফ উৎপল কুমার মন্ডল এবং স্পেশালিটি গ্রুপের এক্সিকিউটিভ শেফ মলয় হালদার।
ফেস্টিভ্যাল প্রসঙ্গে ব্রিটিশ হাইকমিশনার রবার্ট চ্যাটারটন ডিকসন বলেন, 'আমি সত্যিই ভীষণ আনন্দিত, ব্রিটিশ কারি ফেস্টিভ্যালের মাধ্যমে সপ্তাহব্যাপী আয়োজনে বাংলাদেশে ঐতিহ্যবাহী ব্রিটিশ কারি প্রদর্শনী ও উদযাপন হচ্ছে। আমাদের কারি হাউসগুলো ২০০ বছরেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাজ্যের মানুষের জীবনজুড়ে আছে এবং বর্তমানে তা ব্রিটিশদের ফেভারিট। ব্রিটিশ কারির শুরুটা হয়েছিল বাঙালিদের হাত ধরে এবং এর ধারাবাহিক শক্তিশালী অগ্রগতি ব্রিটবাংলাবন্ধনেরই প্রতীক।' আয়োজনটি নিয়ে শেফ ডমিনিক চ্যাপম্যান বলেন, 'এই আয়োজনে ব্রিটিশ রেসিপির পাশাপাশি বাংলাদেশের স্থানীয় রান্নার স্বাদও নিতে চাই।' লর্ড কারান বিলিমোরিয়া বলেন, 'কারি যুক্তরাজ্যের নিত্য জীবনযাত্রার একটি অপরিহার্য অংশ। গ্রাম কিংবা শহরে, সরকারি আবাসন কিংবা বাসাবাড়িতে সেখানে সবাই কারি খান এবং খেতে বেশ পছন্দ করেন।

এই শিল্পের অগ্রগতিও বেশ লক্ষণীয়, আশির দশকের মুষ্টিমেয় কিছু রেস্টুরেন্টে কারির যাত্রা শুরু হয়েছিল। এখন ১২ হাজারেরও বেশি কারির রেস্টুরেন্ট। কারিবিপ্লব কেন হয়েছে? উত্তরটিও বেশ সহজ, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটি এবং বাংলাদেশি শেফ ও রেস্তোরাঁগুলোর ব্যাপকভাবে উত্থান, যার কারণে আজ আমাদের এখানে উপস্থিত থাকাটাও বেশ প্রাসঙ্গিক ও গুরুত্বপূর্ণ। বর্তমানে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধ কিংবা শক্তি, শ্রম ও আরও নানা খাতে সংকটের কারণে আমরা যে কঠিন একটা সময় পার করছি, তার মধ্যে এমন একটি উৎসব সূর্যরশ্মির মতো আলোকোজ্জ্বল।' বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, 'এই দেশে আসার পর থেকেই আমার মনে হয়েছে, নিজের বাড়িতেই আছি।'

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, এই উৎসবে সুস্বাদু ব্রিটিশ কারি ব্যুফে উপভোগ করা যাবে মাত্র ৭ হাজার ৫০০ টাকায় (জনপ্রতি)। সেই সঙ্গে নির্দিষ্ট ব্যাংকের কার্ডের ব্যবহারে থাকছে বাই ওয়ান গেট ওয়ান সুবিধা। এবারের আয়োজনের টাইটেল স্পন্সর সিটি ব্যাংক-আমেরিকান এক্সপ্রেস; কো-স্পন্সর হালদা ভ্যালি এবং হসপিটালিটি পার্টনার ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা। উল্লেখ্য, বিশ্ব দাপানো এই ফেস্টিভ্যাল ঢাকায় প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয় ২০০১ সালে। এরপর টানা ১০ বছর অনুষ্ঠিত হয় এ আয়োজন। তারপর প্রায় এক যুগের বিরতি শেষে আবারও ঢাকায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই উৎসব। া

আরও পড়ুন

×