ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

মজার ছলে পড়বে শিশু

মজার ছলে পড়বে শিশু

ইসরাত জাহান

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২২ | ২২:৫৭

সন্তান যখন ধীরে ধীরে বড় হয়, তাকে নিয়ে মা-বাবার স্বপ্নও ডানা মেলতে থাকে। সন্তানের মুখে যখন ভাঙা ভাঙা বুলি শোনা যায়, মা-বাবার মনে তখন নতুন সূর্য উদিত হয়। এই ভাঙা বুলি থেকে ধীরে ধীরে সে বলতে শেখে অ-আ, ক-খ। যখনই শিশু একটু বড় হয়, শুরু হয় দুষ্টুমি। পড়াশোনা করতে চায় না। পড়াশোনার কথা বললেই পেটব্যথা, মাথাব্যথা, হাত-পা ব্যথার মতো হাজারো বাহানা শুরু হয়। কিন্তু ৩ থেকে ৬ বছর বয়সে একজন শিশু যে কোনো কিছু সহজেই মনে রাখতে পারে, যদি তাকে মনোযোগী করে তোলা যায়।

শিশুকে মনোযোগী করে তোলার উপায় :মনোরোগ বিশেষজ্ঞ নাঈমা আক্তার অন্তরা বলেন, 'শিশুর মধ্যে অনেক সৃজনশীল মেধা লুকিয়ে থাকে। এ মেধাকে বিকশিত করতে অভিভাবক বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করতে পারেন। এতে ৩ থেকে ৬ বছর বয়সী শিশুরা পড়াশোনার প্রতি যেমন মনোযোগী হবে, তেমনি সৃজনশীলতা বাড়বে। শিশুর পড়ার আগ্রহ বাড়াতে প্রথমেই শিশুর সঙ্গী বই-খাতা, পেন্সিল, রাবার, স্কেল, ব্যাগ ও পড়ার টেবিল গুছিয়ে ফেলতে হবে।'

গল্প শোনানো :ছোট্ট শিশুরা বেশি পছন্দ করে গল্প শুনতে। ঘুমানোর আগে কিছুটা সময় গল্প শোনানো যায়। অভিনয় করে গল্প বললে ওরা আগ্রহী হবে। গল্পের মাঝেই ওকে প্রশ্ন করার সুযোগ দিতে হবে। এতে খুদে শ্রোতার ধৈর্য ধরে শোনার প্রবণতা তৈরি হয়। সে গল্প শুনছে কিনা, তা বুঝতে আপনিও মাঝেমধ্যে গল্পের মধ্য থেকে প্রশ্ন করে যাচাই করে নিতে পারেন।

বাদ্যযন্ত্র :ছোট থেকেই শিশুকে বাদ্যযন্ত্রের তালিম দিতে পারেন। তবলা, মাউথ অর্গান, সিন্থেসাইজার -এর যে কোনো একটি বাজানো শেখাতে পারেন। নোট ধরে সুর তোলার মধ্য দিয়ে মনোযোগ অনেকটা বৃদ্ধি পায়।

আঁকিবুঁকি :শিশুর সামনে পেন্সিল-খাতা দিয়ে বসিয়ে রাখুন। মনমতো আঁকতে দিতে পারেন। অনেক সময় দেখা যায় শিশু দেয়ালে আঁকার পর মা-বাবা বকাঝকা করেন। এটা না করে বরং তাকে বুঝিয়ে বলতে পারেন। মনমতো আঁকিবুঁকির পর এতে তার মনোযোগ বৃদ্ধি পেতে পারে।

ছবি আঁকা :মনের অভ্যন্তরীণ জিনিসই মূলত ফুটিয়ে তোলা যায় ছবি আঁকার মাধ্যমে। শিশুর অভ্যন্তরীণ
ভাবনার জগৎকে আরও বিস্তৃত করতে ছবি আঁকতে দিতে পারেন। এতে তার মনোযোগ বৃদ্ধি পাবে।

সঠিক স্থান নির্ধারণ :পড়াশোনার জন্য প্রথমেই সঠিক জায়গা নির্ধারণ করতে হবে। পড়াশোনার জন্য সংশ্নিষ্ট নয় এমন সব বিষয় শিশুর পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটাতে পারে। তাই পড়ার টেবিল এমন স্থানে রাখতে হবে, যেখানে টিভি বা অন্য কিছুর মতো মনোযোগ নষ্ট করার বস্তু নেই।

উৎসাহ প্রদান ও প্রশংসা :শিশু যে কাজই করুক; তাকে উৎসাহ দেওয়া এবং প্রশংসা করতে হবে। এতে শিশুর পড়াশোনায় আগ্রহ বেড়ে ওঠে। তাই তাদের উৎসাহ দিতে ভুলবেন না। সামান্য উন্নতিতে প্রশংসা করুন।

নির্দিষ্ট সময় :ঘণ্টার পর ঘণ্টা শিশুকে বইয়ের সামনে বসিয়ে না রেখে নির্দিষ্ট কিছু সময়ে পড়ানো উচিত। অতিরিক্ত কোনো কিছুই শিশুর জন্য ভালো নয়। তাই দিনের নির্দিষ্ট কিছু সময়ে শিশুকে পড়ানোর চেষ্টা করবেন।

খেলাধুলা :পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা খুবই জরুরি। এতে শিশুর মধ্যে একঘেয়েমি আসবে না। তার মন-মস্তিস্ক উৎফুল্ল থাকবে। খুব সহজেই সে পড়ায় মনোযোগী হতে পারবে।

অতিরিক্ত চাপ নয় :তোমাকে এখনই পড়তে হবে, এখনই পড়া শেষ করতে হবে- এসব বলে কখনোই শিশুর ওপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া উচিত নয়। এতে তার মধ্যে পড়াশোনা নিয়ে ভীতির সৃষ্টি হবে। সে মনোযোগ হারিয়ে ফেলবে।

মজার ছলে পড়া :কিছুক্ষণ পড়াশোনা করে একঘেয়েমি আসাটা স্বাভাবিক। কারণ তখন মন-মস্তিস্ক ধীরে ধীরে পড়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলে। তাই সবসময় চেষ্টা করবেন মজার ছলে পড়ানোর। যখন দেখবেন আপনার শিশু পড়তে পড়তে ক্লান্তি বোধ করছে, তখন তাকে যা পড়ল এতক্ষণ ওগুলো গল্প আকারে শোনাতে পারেন। এতে তার বিরক্তিবোধ চলে যাবে।

ঘুরতে যাওয়া :শিশুকে নিয়ে মাঝেমধ্যে ঘুরতে যাবেন। এতে তার মন ভালো থাকবে। ঘুরতে গিয়েও আপনি শিশুকে কিছু জিনিস শেখাতে পারেন। যেমন চিড়িয়াখানায় বেড়াতে গেলে পশুপাখির নাম খাঁচার বাইরে লেখা থাকে। শিশুকে আপনি সেগুলো পড়ে শোনাবেন এবং কিছুক্ষণ পর তা আবার জিজ্ঞেস করবেন।

পছন্দের খাবার :প্রত্যেক শিশুর পছন্দের খাবার থাকে। বাচ্চাকে পড়তে বসিয়ে বলবেন, তুমি যদি এই পড়াগুলো তাড়াতাড়ি শেষ করতে পার, তাহলে তোমার পছন্দের খাবার বানিয়ে দেব। এতে তার পড়ায় উৎসাহ বাড়বে এবং সে তাড়াতাড়ি পড়া শেষ করবে। এভাবে প্রতিদিন তাকে পছন্দের একেক খাবার বানিয়ে দিতে পারেন।

প্রশ্ন করা ও কথা বলা :অনেক পরিবার আছে যেখানে শিশু কোনো কিছু নিয়ে প্রশ্ন করলে, কিছুক্ষণ কথা বললে তাকে ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে রাখা হয়। তা না করে বরং তাকে বলতে দিন। এতে তার জানার আগ্রহ বাড়বে। যে কোনো কিছুর প্রতি মনোযোগও বৃদ্ধি পাবে। া

মডেল :সূচি ও নক্ষত্র

আরও পড়ুন

×