ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

নান্দনিক কুশন

নান্দনিক কুশন

--

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২২ | ২২:৫০

বাজারে বিভিন্ন ধরনের কুশন কভার পাওয়া যায়। সেসব কভারে মনের মতো নকশা করা। কেউ রং-তুলি দিয়ে ডিজাইন করছেন, আবার কেউ করছেন এমব্রয়ডারি কিংবা অ্যাপ্লিকের কাজ বাহারি কুশন কভার নিয়ে লিখেছেন অনিন্দ্য শুভ

ট্রেন্ডের কথা মাথায় রেখে সহজেই অন্দরসজ্জায় আনতে পারেন শৈল্পিকতা। এ সময় ঘরের সৌন্দর্য বাড়াতে আপনি গুরুত্ব দিতে পারেন কুশন কভারের ওপর। এখন আর চেয়ার বা সোফার এক কোণে পড়ে থাকার জন্য কুশন ব্যবহূত হয় না। ঘরের বিছানা, ব্যালকনি যে কোনো স্থানে কুশন ব্যবহার করা যায়। আজকাল শুধু চেয়ার বা সোফা নয়; ঘরের বিভিন্ন স্থানের কথা মাথায় রেখে কুশন বানানো হচ্ছে। অন্দরসজ্জাবিদদের মতে, বিভিন্ন কক্ষের আবহ অনুযায়ী পাল্টে যেতে পারে কুশন কভারের রং ও নকশা। বসার ঘরের কুশন নির্ভর করে সোফা ও চেয়ারের আকার ও ধরনের ওপর। সোফা কাঠ, বেত বা বাঁশের হলে কুশন কভারের ডিজাইন হতে পারে গ্রামীণ ঐতিহ্যনির্ভর। সে ক্ষেত্রে আপনার কুশন কভারে হেসে উঠতে পারে গ্রামীণ চেক, হ্যান্ড এমব্রয়ডারি, কাঁথা স্টিচ বা অ্যাপ্লিক কিংবা কুরুশ কাঁটার কাজ। তবে গদিওয়ালা বড় সোফার কুশনে চাপিয়ে দিতে পারেন কাতান, শার্টিন, লেস, নেটের কুশন কভার।

অনেকের বসার ঘর হয় আকৃতিতে বড়। সেখানে সোফার পাশাপাশি স্থান পায় ডিভান ও শতরঞ্জি। ডিভান ও শতরঞ্জির ওপর রাখা কুশনের কভার


হতে পারে নকশিকাঁথার ডিজাইনের। এ ক্ষেত্রে মাথায় রাখতে হবে কভারের রং যেন জানালা-দরজার পর্দার রঙের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ হয়। তাহলে সব মিলিয়ে হবে শতভাগ সমন্বয়। আজকাল শোয়ার ঘরেও কুশন ঠাঁই পেয়েছে। অনেকে বালিশের কাজও সারেন কুশন দিয়ে। এ ক্ষেত্রে বিছানার চাদরের সঙ্গে মিল রাখতে হবে কুশন কভারের। কাপড় নির্বাচনে প্রাধান্য পাবে দেশীয় সুতি কিংবা চায়নিজ বা জাপানি কাপড়। কাপড়ের মানের দিকটাও মাথায় রাখা উচিত।

কুশনের অবাধ বিচরণ চলে শিশুদের ঘরেও। এ ঘরের কুশন কভার নির্বাচনে আরও সচেতন হতে হবে। যেহেতু শিশুদের ঘর, তাই শিশুতোষ বিষয়টি মাথায় রাখা উচিত। সে জায়গা থেকে কুশন কভারে রাখা যেতে পারে প্রজাপতি, টেডি বিয়ার, সিনড্রেলা বা ফুটবলের ছবি। লিভিং রুমের কুশন হতে পারে অন্যগুলোর চেয়ে আলাদা। কেননা, এখানকার জন্য কুশনগুলো একটু বড় করে বানানো হয়। এ ঘরের কুশন কভারে মিল থাকতে পারে দেয়ালের রঙের। পাশাপাশি আজকাল রং-বেরঙের কুশন কভারও বেশ প্রচলিত। এ ক্ষেত্রে একই রঙের কাপড়ের ওপর হতে পারে বিভিন্ন ধরনের নকশা।

কোনোটায় ফুটিয়ে তোলা যেতে পারে গোলাপ; কোনোটায় বেলি, রজনীগন্ধাসহ অন্যান্য ফুল। কভারের ওপর এসব ডিজাইনের ক্ষেত্রে হ্যান্ডপেইন্টের জুড়ি নেই। সেদিক থেকে বলা যায়, কুশনের কভার হতে পারে শিল্পীর ছবি আঁকার ক্যানভাস। শহুরে যান্ত্রিক জীবনে আমাদের নিঃশ্বাস নেওয়ার সময়ও মেলে না এ সময়। সে ক্ষেত্রে কুশন কভার সময় নিয়ে ধোয়া ও আয়রন করা অনেকের কাছেই বাড়তি কাজ বলে মনে হতে পারে। সে জন্য এক নিমেষেই পরিস্কার করা যায় এমন কাপড়ের কভার বেশি উপযোগী। এ ক্ষেত্রে কৃত্রিম তন্তুর কাপড় ব্যবহার করা যেতে পারে। কেননা, এগুলো সহজেই ধুয়ে পরিস্কার করা যায়।

আজকাল দেশীয় পোশাকের বিভিন্ন শোরুমে পাওয়া যায় কুশন কভার। এর মধ্যে আড়ং, বিবিয়ানা, যাত্রা উল্লেখযোগ্য। মখমলের নকশা করা বা চুমকি বসানো, এমব্রয়ডারি, অ্যাপ্লিক, ফুল-পাতার নকশাসহ হরেক রকমের কুশন কভার মিলবে এখানে। এসব শোরুম থেকে কিনলে আপনাকে একটু বেশি টাকা গুনতে হবে। যদি আপনি অল্পের মধ্যে ভালো কুশন কভার পেতে চান, সে ক্ষেত্রে ঢুঁ মারতে পারেন বিভিন্ন পণ্যমেলায়। া

আরও পড়ুন

×