ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

রূপশৈলী

খুশকিহীন মাথার ত্বক

খুশকিহীন মাথার ত্বক

--

প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২২ | ১২:০০ | আপডেট: ২৫ অক্টোবর ২০২২ | ২২:৫০

শীত শুরুর আগে কারও কারও ত্বক রুক্ষ হয়ে যায়। আবহাওয়া পরিবর্তন, ধুলাবালি, ঘামের কারণে মাথার ত্বক ও চুলে খুশকি দেখা দেয়। কিছু ঘরোয়া উপায় মেনে চললে খুশকিকে বিদায় জানানো সম্ভব। লিখেছেন মনিকা আকতার

আবহাওয়া শুস্ক হতে থাকলে নারী-পুরুষ উভয়ের চুল পড়া বাড়ে। অনেকের মাথার ত্বকে চুলকানি ও প্রদাহ দেখা দেয়। মাথার ত্বকে খুশকি বাড়লেই এমনটা হয়। রাজিয়া'স মেকওভার স্টুডিওর রূপ বিশেষজ্ঞ রাজিয়া সুলতানা জানান, ত্বক পরিস্কার রাখার পাশাপাশি একটু বাড়তি যত্ন নিলে এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। প্রাকৃতিক ও ভেষজ উপাদান দিয়ে মাথার ত্বক ও চুলের যত্ন নিলে খুশকি থেকে মুক্তি মেলে।

টক দই খুশকি দূর করার জন্য উপকারী। টক দই মাথায় লাগিয়ে ১০ মিনিট রেখে চুল ধুয়ে ফেলুন। সিকি কাপ টক দইয়ের সঙ্গে অর্ধেক পরিমাণ লেবুর রস মিশিয়ে ২০ মিনিট রেখে চুল ধুয়ে নিন। লেবুর রসে থাকা এসিড চুলের খুশকি দূর করে এবং চুলে উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনে। তবে চুলে কালার, রিবন্ডিং করা থাকলে টক দই এড়িয়ে যাওয়া উচিত। মেথি ভিজিয়ে সারারাত রেখে সকালে বেঁটে চুলে লাগান। কয়েক ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু দিয়ে চুল ধুয়ে ফেলুন। মেথিতে থাকা অ্যান্টি ফাঙ্গাল উপাদান চুলের খুশকি কমাতে সাহায্য করবে।

এক টুকরা আদা বেঁটে নিয়ে তার সঙ্গে মধু মিশিয়ে চুলে লাগালে খুশকি সমস্যা কমে যাবে।

খুশকি কমাতে জলপাই তেল ও নারকেল তেল একসঙ্গে মিশিয়ে কুসুম গরম করে নিন। এবার মাথার তালুতে আঙুল দিয়ে ঘষে ঘষে লাগিয়ে নিন। সারারাত রেখে সকালে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে এক-দু'দিন এটি ব্যবহার করলে চুল নরম হবে এবং খুশকির সমস্যা কমে যাবে। জলপাই ও নারকেল তেল মাথার ত্বকের কোষ ভালো রাখে। নারকেল তেলের সঙ্গে ভিটামিন-ই ক্যাপসুল মিশিয়ে সপ্তাহে দু-তিন দিন ব্যবহার করলে চুল পড়া কমে। খুশকি দূর হয়।
পেঁয়াজের রস খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। দু-তিনটি পেঁয়াজ ভালো করে বেঁটে নিয়ে এক মগ পানিতে মিশিয়ে নিন। চুলে লাগিয়ে ভালো করে মালিশ করুন। এক ঘণ্টা পর কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধুয়ে নিন।

নিমপাতা বেঁটে চুলে লাগিয়ে নিন। কিছুক্ষণ পর চুল ধুয়ে ফেলুন। নিমপাতা-সেদ্ধ জল চুলে লাগালেও খুশকি ও মাথার ত্বকের অন্যান্য সমস্যা থেকে বাঁচা যায়।
অ্যালোভেরা জেলে থাকা অ্যান্টি ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি ব্যাকটেরিয়াল উপাদান চুলের খুশকি কমায় এবং চুলের গোড়া মজবুত করে। অ্যালোভেরা জেলের সঙ্গে ডিম ও টক দই মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করে চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ঠান্ডা জলে ধুয়ে শ্যাম্পু করে নিন।

দুই টেবিল চামচ সাদা ভিনেগার ও সমপরিমাণ পানি মিশিয়ে মাথার ত্বকে লাগিয়ে ৮-১০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে নিন। সপ্তাহে ২-৩ দিন এই মিশ্রণ ব্যবহার করলে খুশকির সমস্যা কমে যাবে।

কলা ও অ্যাপল সিডার ভিনেগার চুলে খুশকি দূর করতে অতুলনীয়। কলায় থাকা ভিটামিন-বি রক্ত চলাচল করতে সাহায্য করে, যা মাথার ত্বকের জন্য উপকারী। অন্যদিকে অ্যাপল সিডার ভিনেগার ছত্রাক ও জীবাণু দূর করতে সাহায্য করে। একটি কলা ও দুই কাপ অ্যাপল সিডার ভিনেগার একসঙ্গে মিশিয়ে একটি ঘন মিশ্রণ তৈরি করে নিন। মিশ্রণটি পুরো মাথায় লাগিয়ে ২০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

গ্রিন টিতে থাকা অ্যান্টি ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি অক্সিডেন্ট উপাদান চুলের খুশকি দূর করতে সাহায্য করে। দুই কাপ গরম পানিতে দুটি টি-ব্যাগ ডুবিয়ে ঠান্ডা করে নিয়ে চুলে লাগিয়ে কিছুক্ষণ পর ধুয়ে ফেলুন।

মেহেদি পাতা বেঁটে নিয়ে তাতে আমলকীর রস মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে নিন। কয়েক ঘণ্টা পর ধুয়ে ফেলুন। এতে চুলের গোড়া মজবুত হবে এবং চুলের খুশকি দূর হবে। আমলকী খেলেও উপকার পাবেন। মেহেদির সঙ্গে ডিম, পেঁয়াজের রস মিশিয়ে চুলে লাগালে নতুন চুল গজায় এবং খুশকি দূর হয়।
রিঠা সারারাত পানিতে ভিজিয়ে ব্যবহার করলে খুশকি সমস্যা দূর হয় এবং চুল স্বাস্থ্যোজ্জ্বল হয়। রিঠা প্রাকৃতিক শ্যাম্পুর কাজ করে। বিট সেদ্ধ করা পানি নিয়মিত চুলে ব্যবহার করলে খুশকির প্রকোপ অনেকাংশেই কমে যাবে।

চুলের খুশকি দূর করতে শুধু বাহ্যিক চর্চা নয়; খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনতে হবে। কথায় আছে- প্রতিকারের চেয়ে প্রতিরোধ উত্তম। মাথার ত্বক ভালো রাখতে চাইলে প্রচুর পরিমাণে পানি, শাকসবজি, ফলমূল, ডিম ও মাছ খেতে হবে। এ ছাড়া চর্বি জাতীয় খাবার খেলে খুশকি দূর হয়।

বিশেষজ্ঞের মতে, ভেজা চুলে খুশকি বেশি হয়। তাই চুল পরিস্কার ও শুস্ক রাখতে হবে। চুল মোছার জন্য আলাদা তোয়ালে ও মোটা দাঁতের নিজস্ব চিরুনি ব্যবহার করুন।
মডেল: সিমরান; ছবি: সামির

আরও পড়ুন

×