ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

কালের খেয়া কুইজ ৭৭

আলবেয়ার কামুর কারুমগ্ন শিল্পী

আলবেয়ার কামুর কারুমগ্ন শিল্পী

আলবেয়ার কামু [জন্ম :৭ নভেম্বর ১৯১৩ -মৃত্যু :৪ জানুয়ারি ১৯৬০]

--

প্রকাশ: ০৩ নভেম্বর ২০২২ | ১২:০০

আলবেয়ার কামু/আলবেয়ার কাম্যু (৭ নভেম্বর ১৯১৩-৪ জানুয়ারি ১৯৬০) একজন ফরাসি বংশোদ্ভূত আলজেরীয় সাহিত্যিক। তিনি ১৯৫৭ সালে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান। সবচেয়ে কম বয়সে সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার বিজয়ীদের মধ্যে রুডইয়ার্ড কিপলিংয়ের পরই তাঁর অবস্থান।
কামু ১৯৩৬ সালে তিনজন বন্ধুর সঙ্গে প্রথম একটি নাটক প্রকাশ করেন; যার নাম ছিল 'রিভোল্ট ডান্স লে আস্তুরিয়ে' (রিভোল্ট ইন দ্য আস্তুরিয়াস)। এর বিষয়বস্তু ছিল ১৯৩৪ সালে স্পেনীয় খনিশ্রমিকদের বিদ্রোহ; যা তৎকালীন স্পেন সরকার অত্যন্ত নিষ্ঠুরভাবে দমন করে। এর ফলে ১৫০০ থেকে ২০০০ শ্রমিক মারা যান। ১৯৩৭ সালের মে মাসে তিনি তাঁর প্রথম বইটি লেখেন ল'এনভারস এট ল'এন্ড্রয়েট (বিটুইক্সট অ্যান্ড বিটুইন; একইসঙ্গে 'দ্য রং সাইড অ্যান্ড দ্য রাইট সাইড' নামেও অনূদিত)। দুটি বই-ই এডম-শার্লট নামে একটি ছোট প্রকাশনী সংস্থা প্রকাশ করেছিল।
কামু তাঁর রচনাগুলো তিনটি চক্রে ভাগ করেন। প্রতিটি চক্রে একটি উপন্যাস, একটি প্রবন্ধ এবং একটি নাটক রয়েছে। দ্বিতীয় চক্রে কামু একজন বৈপ্লবিক মানবতাবাদী হিসেবে প্রমিথিউসকে দেখিয়েছিলেন। এভাবে তিনি বিপ্লব আর বিদ্রোহের মধ্যে তফাত বুঝিয়েছিলেন। তৃতীয় চক্র ছিল প্রেমসংক্রান্ত এবং দেবী নেমেসিসকে নিয়ে রচিত। কামুর দুটি সাহিত্যকর্ম মৃত্যুর পরে প্রকাশিত হয়।
কায়েস আহমেদ অনূদিত আলবেয়ার কামুর ছোটগল্প বইয়ের 'কারুমগ্ন শিল্পী' গল্প থেকে কিছু অংশ দেওয়া হলো-

চিত্রশিল্পী গিলবার্ট জোনাস ভাগ্যে বিশ্বাসী ছিলেন। বলতে গেলে, এতেই তাঁর একমাত্র বিশ্বাস ছিল। যদিও অন্য মানুষের ভাগ্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ, এমনকি এক ধরনের সপ্রশংস দৃষ্টিভঙ্গিরও অধিকারী ছিলেন তিনি। তাঁর নিজের বিশ্বাসও অবশ্য নির্গুণ ছিল না। কেননা, এর ভেতর ছিল অস্পষ্ট এক স্বীকৃতি। যেমন- প্রাপ্য কিছু না হলেও প্রাপ্তি তাঁর ভালোরকমই হবে। ফলত, তাঁর পঁয়ত্রিশ বছর বয়সে এক ডজন সমালোচক যখন সর্বপ্রথম তাঁর প্রতিভা আবিস্কার করেছেন- এই বিতর্কে মশগুল, তখন একটুও বিস্মিত হননি তিনি। তাঁর এই প্রশান্তি, কেউ কেউ যাকে তাঁর পরিচ্ছন্নতাই বলেন, তা একটা বিশ্বাসী নম্রতারই ফলশ্রুতি বরং। নিজস্ব প্রতিভা নয়, জোনাস সবকিছুর জন্য তাঁর ভাগ্যকেই নিয়ামক মনে করতেন।
আরও বিস্ময়ের কারণ ঘটল, যখন একজন চিত্র ব্যবসায়ী মাসোহারার প্রস্তাব পাঠালেন তাঁকে, যা তাঁর সকল দুশ্চিন্তার অবসান ঘটাবে। স্থপতি রাতু, স্কুলজীবন থেকেই যে জোনাস আর তাঁর ভাগ্যকে ভালোবেসে এসেছে, স্পষ্ট করে না বললেও এই মাসোহারায় যে নিতান্ত দিন-গুজরান ছাড়া বেশি কিছু হবে না এবং ব্যবসায়ী যে কোনো ঝুঁকিই নেননি তা বলার চেষ্টা করছিল। 'একই কথা' বলছিলেন জোনাস। রাতু, কঠিন পরিশ্রমই যাঁকে সব কাজে সাফল্য এনে দিয়েছিল, ভর্ৎসনা করল বন্ধুকে। 'একই কথা বলতে কী বলতে চাইছ তুমি? তোমায় দরকষাকষি করতে হবে।' কিছুই হলো না তাতে। মনে মনে ভাগ্যকেই ধন্যবাদ জানালেন জোনাস। 'যেমন বলেছেন আপনি', ব্যবসায়ীকে বললেন তিনি। ছবি আঁকাতেই নিজেকে সঁপে দিতে পৈতৃক প্রকাশনী-সংস্থার চাকরিতেও ইস্তফা দিলেন। বললেন, 'কী সৌভাগ্য!' া

প্রশ্ন
১. মৃত্যুর পর কামুর কয়টি সাহিত্যকর্ম প্রকাশিত হয়েছিল?
২. কত সালে কামু সাহিত্যে নোবেল পুরস্কার পান?
৩. গিলবার্ট জোনাসের বন্ধুর নাম কী?
কুইজ ৭৬-এর উত্তর
১. শুদ্ধতম কবি
২. ২১টি
৩. মানুষের

কুইজ ৭৬-এর জয়ী

সুকন্যা সামিয়া
খিলগাঁও, ঢাকা

তানভীর
দেওয়ানগন্‌জ, জামালপুর


নিয়ম
পাঠক, কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন ৭ নভেম্বর সোমবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়। পরবর্তী কুইজে প্রথম তিন বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীর ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পুরস্কার।

আরও পড়ুন

×