ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

সাফল্য পেতে হলে

মেডিকেলে ভর্তি প্রস্তুতি

মেডিকেলে ভর্তি প্রস্তুতি

--

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ | ০৫:১৪

আগামী ১০ মার্চ ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের এমবিবিএস কোর্সের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই অল্প সময়ে কীভাবে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত জানাচ্ছেন- ডা. ইরফান হাফিজ

শিক্ষাজীবনের শুরু থেকে অনেকের মনেই চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন বাসা বাঁধে। একজন চিকিৎসকের পক্ষে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সাধ্যমতো সেবা করা যতটা সম্ভব অন্য পেশায় ততটা হয় না। এইচএসসির পর ভর্তির সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক হলো মেডিকেল কলেজে ভর্তি পরীক্ষা। প্রতিবারের মতো এবারও হয়তো অংশ নেবে প্রায় লাখো পরীক্ষার্থী। কিন্তু, তাদের মধ্যে অল্প কিছু ছাত্রছাত্রী সরকারি মেডিকেল কলেজগুলোতে পড়ার সুযোগ পাবে। বাকিদের হতাশ হতে হবে। কঠোর পরিশ্রম, সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য এবং গোছানো প্রস্তুতি এ তিনটির সংমিশ্রণেই কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পৌঁছানো সম্ভব। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা প্রস্তুতি নিতে হলে প্রথমেই একটি গাইডলাইন তৈরি করতে হবে। রুটিন করে পড়লে সবচেয়ে ভালো হয়।

মনে রাখতে হবে বেশি বেশি এমসিকিউ সলভ করার বিকল্প কিছু নেই। তাই বলে মূল বই না পড়ে শুধু প্রশ্ন সমাধান করে গেলেই হবে না। কারণ প্রশ্ন কখনও হুবহু প্রশ্নব্যাংক থেকে আসে না, বরং একই টপিক থেকে অনেক বেশি প্রশ্ন রিপিট হতে পারে। একেকজনের পড়ার কৌশল একেক রকম। তাই অন্যের পড়ার ধরনের সঙ্গে মেলে এমনভাবেই কোনো পরিকল্পনা করা উচিত নয়। কখনও অমুক ২০ ঘণ্টা পড়েছে, আমাকেও ২০ ঘণ্টা পড়তে হবে- এমনটা ভাবা যাবে না। কারও একবার পড়লেই মনে থাকে, কারও একই জিনিস বারবার অনুশীলন করতে হয়। সে জন্য যেভাবে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করা যায় সেভাবেই একটা পরিকল্পনা সাজিয়ে নিতে হবে। যত বেশি সম্ভব মডেল টেস্ট দিতে হবে। যত বেশি পরীক্ষা দেওয়া যাবে, তত নিজেকে মূল্যায়ন করা যাবে।

মেডিকেলে ভর্তি পরীক্ষার মোট নম্বর ৩০০। এর মধ্যে ২০০ নম্বর থাকে এসএসসি ও এইচএসসি ফলাফলের ওপর। আর এমসিকিউ পদ্ধতিতে পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত নম্বর ১০০। এর মধ্যে জীববিজ্ঞান ৩০, রসায়ন ২৫, পদার্থবিজ্ঞান ২০, ইংরেজি ১৫ এবং সাধারণ জ্ঞান (বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ ) বিষয়ে ১০ নম্বরের প্রশ্ন থাকে। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়ার জন্য এমনিতেই হাতে খুব অল্প সময় থাকে। সিলেবাসের ব্যাপকতার কারণে প্রস্তুতি গ্রহণ করতে গিয়ে যথেষ্ট হিমশিম খেতে হয়। বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে পড়ার ক্ষেত্রে একটু বেশি মনোযোগ হলেই ভর্তি পরীক্ষায় ভালো করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের মনে রাখতে হবে, মেডিকেলে চান্স পাওয়ার জন্য একটি নম্বরও অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশের ইতিহাস ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ে ১০ নম্বর বলে এ বিষয়টাকে এড়িয়ে যাওয়া অথবা অল্প প্রস্তুতি নেওয়া মারাত্মক ভুল হবে। রসায়নে নম্বর ২৫ হলেও এ সাবজেক্টেই নম্বর বেশি পাওয়াটা কঠিন। জৈব যৌগ অধ্যায় থেকে সাম্প্রতিক সময়ে তেমন বেশি প্রশ্ন আসতে দেখা যায় না। রসায়ন অংশে ভালো করতে হলে দ্বিতীয় পত্রকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। কিছু বিক্রিয়া আছে যেগুলো বিজ্ঞানের নামে নামাঙ্কিত, সেসব বিক্রিয়া ও আবিষ্কারের সাল ভালোভাবে মনে রাখতে হবে।

রাসায়নিক বন্ধন, মৌলের পর্যায়বৃত্ত ধর্ম, জৈব এসিড, তড়িৎ রাসায়নিক কোষ, অ্যালডিহাইড, হাইড্রোকার্বন ইত্যাদি বিষয়ে ভালোভাবে পড়তে হবে। ইংরেজির বেশি গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো হলো Synonym, Antonym, Voice change, Translation, spelling, Transformation. phrase and idioms and preposition ইংরেজির জন্য বিগত সালের বিসিএস এবং বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নগুলো বেশি করে পড়তে হবে। গ্রামার ছাড়াও নিচের টপিকগুলো অবশ্যই মুখস্থ করতে হবে। এসব বিষয়ে ভালো করতে হলে নিয়মিত অনুশীলন ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। মনে রাখবে, এসব বিষয় থেকে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রতি বছর কমপক্ষে ৬-৭টি প্রশ্ন আসে। পরীক্ষার এক ঘণ্টা সময়ের প্রতিটি সেকেন্ড গুরুত্বপূর্ণ। তাই নিশ্চিত হয়ে দাগানো বুদ্ধিমানের কাজ। প্রতিটি বই খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়তে হবে। আগের বছরের প্রশ্নগুলোতে যা এসেছে, সেগুলো পড়তে হবে। 

আরও পড়ুন

×