ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

ইনহেলার এবং স্পেসারের ব্যবহার

ইনহেলার এবং স্পেসারের ব্যবহার

ডা. আহাদ আদনান

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০

শ্বাসকষ্টের নানা সমস্যার জন্য শিশু এবং বয়স্ক অনেকেই ইনহেলার কিংবা স্পেসার ব্যবহার করে থাকেন। এসব উপকরণে কিছু ওষুধ সরাসরি শ্বাসনালির মাংসপেশির ওপর কাজ করে আবার কিছু স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধও কষ্ট উপশম করে। একই ধরনের ওষুধ, ধরুন সালবিউটামল মুখে খাওয়া যায় (সিরাপ বা ট্যাবলেট), নেবুলাইজারের মাধ্যমে নেওয়া যায়, আবার ইনহেলার হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। কোনটি সবচেয়ে ভালো, এই প্রশ্ন সব রোগীর।

 শিশুদের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা ইনহেলার জাতীয় ওষুধের অধিক কার্যকারিতা, তুলনামূলক কম মাত্রা, কম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং সবচেয়ে ভালো ফলাফলের কথা বলে থাকেন। সারা পৃথিবীতে হাঁপানির চিকিৎসায় কিছু ধাপ অনুসরণ করা হয়। এসব ধাপে ইনহেলার জাতীয় ওষুধ খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদি দুর্ভাগ্যজনক আপনার ঘরে শ্বাসকষ্টের রোগী থাকে, আর তার জন্য বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ইনহেলারের কথা বলে থাকেন, তাহলে অমূলক ভয় দূর করে এর ব্যবহার শিখে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।

lওষুধের মেয়াদ যাচাই করে নিন। প্রথমবার (অনেকদিন অব্যবহৃত থাকলে) ব্যবহারের ক্ষেত্রে ইনহেলারের মুখের ঢাকনাটির দুই পাশে আলতো চাপ দিয়ে খুলে, ঝাঁকিয়ে, পরপর দু’বার বাতাসে ওষুধ বের করে নিশ্চিত হোন যন্ত্রটি কাজ করছে।

lআঙুলের সাহায্যে ইনহেলারটি সোজা করে ধরুন। বৃদ্ধাঙ্গুল মাউথ পিসের নিচে থাকবে।

lজোরে নিঃশ্বাস ছাড়ুন। তার পর মাউথ পিসটি মুখের ভেতরে প্রবেশ করান এবং ঠোঁট বন্ধ করুন। মাউথ পিসে যেন দাঁতের কামড় না পড়ে।

lএবার নিঃশ্বাস নিতে শুরু করুন, ইনহেলারের ওপর তর্জনী দিয়ে চাপ দিন যাতে ওষুধ বের হয়ে আসে। নিঃশ্বাস টানতে থাকুন গভীরভাবে যেন একই সঙ্গে ওষুধ ভেতরে প্রবেশ করে।

lশ্বাস ধরে রাখা অবস্থায় ইনহেলারটি মুখ থেকে বের করুন এবং কিছুক্ষণ নিঃশ্বাস ধরে রাখুন। একাধিকবার ওষুধ নিতে হলে কমপক্ষে ৩০ সেকেন্ড অপেক্ষা করে একই নিয়ম অনুসরণ করুন।

lপানি দিয়ে কুলি করে ফেলুন। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধ ব্যবহারে পর কুলি না করলে ক্যান্ডিডা নামক ছত্রাকের সংক্রমণ হতে পারে। মুখে ঘা, গলার স্বর মোটা হয়ে যেতে পারে।

এখন আসি স্পেসারের কথায়। এটি প্লাস্টিকের তৈরি নল বা বোতলের মতো একটি চেম্বার বা ফাঁপা জায়গা, যেটি ইনহেলার থেকে আগত ওষুধ ধরে রেখে শ্বাস গ্রহণের সময় ভেতরে টেনে নিতে সাহায্য করে। এটিতে একমুখী একটি ভাল্ব থাকে যা ওষুধ শুধু শ্বাস নেওয়ার সময় খুলে যায়, আর শ্বাস ফেলার সময় বন্ধ হয়ে যায়।

lইনহেলারটি ঝাঁকিয়ে স্পেসারের ছিদ্রে লাগান। ইনহেলারে জোরে চাপ দিন। এতে ওষুধ স্পেসারে ঢুকে গেল।

lজোরে নিঃশ্বাস ছাড়ুন, স্পেসারের মাউথ পিসটি মুখের ভেতরে প্রবেশ করান এবং ধীরে ধীরে লম্বা নিঃশ্বাস নিতে শুরু করুন।

lস্পেসারের ভেতরে ৫ থেকে ১০ সেকেন্ড ওষুধ ভাসমান অবস্থায় রক্ষিত থাকার কারণে একই সঙ্গে শ্বাস নেওয়া ও ইনহেলারের ক্যানিস্টার চাপ দেওয়ার প্রয়োজন পড়ে না। বেশি শ্বাসকষ্টে সময় নিয়ে শ্বাস নিতে পারবেন।

lঅন্তত পাঁচবার স্পেসার থেকে শ্বাস নিন এবং ছাড়ুন। প্রয়োজনে একইভাবে আবার ওষুধ নিন।

lপানি দিয়ে কুলি করে ফেলুন।

শিশুদের ক্ষেত্রে এবং অতিরিক্ত শ্বাসকষ্টে শুধু ইনহেলারের চেয়ে স্পেসার ব্যবহার করলে দ্বিগুণ ওষুধ ফুসফুসে প্রবেশ করে। ওষুধের কার্যকারিতা এবং রোগের উন্নতি বেড়ে যায়। স্টেরয়েড জাতীয় ওষুধের জন্য মুখে ছত্রাকের সংক্রমণ হয় না বললেই চলে।

সব শেষে এগুলোর পরিচ্ছন্নতা সম্বন্ধে জানা দরকার। সপ্তাহে অন্তত একবার ইনহেলার পরিষ্কার করতে হবে। এজন্য প্লাস্টিকের খাপ থেকে ধাতব ক্যানিস্টার এবং মাউথ পিসের ঢাকনা খুলে ফেলুন। মৃদু গরম পানির ধারার নিচে অ্যাকচুয়েটরটি ধরুন, ধুয়ে ফেলুন এবং শুকিয়ে ফেলুন। ধাতব ক্যান স্টার এবং মাউথ পিসের ঢাকনা স্বস্থানে বসিয়ে দিন।

[রেজিস্ট্রার (শিশু বিভাগ), আইসিএমএইচ, মাতুয়াইল, ঢাকা]

আরও পড়ুন

×