ঢাকা বৃহস্পতিবার, ৩০ মে ২০২৪

স্ট্রোক: প্রতি সেকেন্ডেই থাকছে ঝুঁকি

স্ট্রোক: প্রতি সেকেন্ডেই থাকছে ঝুঁকি

ডা. মো. ফরহাদ আহমেদ

প্রকাশ: ০৪ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ০৫ আগস্ট ২০২৩ | ১২:৪৯

স্ট্রোক এ দেশে বয়স্ক মানুষের মৃত্যুর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ কারণ। মূলত চল্লিশোর্ধ্ব ব্যক্তিরা বেশি আক্রান্ত হলেও অল্প বয়সীরাও আক্রান্ত হতে পারে। মস্তিষ্কের কোনো অংশে রক্তক্ষরণ বা রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার কারণে যে গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি হয়, তাকেই বলে স্ট্রোক। স্ট্রোক থেকে প্যারালাইসিস বা পক্ষাঘাতগ্রস্ত, বিকলাঙ্গ এমনকি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

সঠিক জীবনযাত্রা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে স্ট্রোক প্রতিরোধ করা সম্ভব। সঠিক ওজন, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের নিয়ন্ত্রণ, চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার, ধূমপান পরিহার এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে আনা সম্ভব। স্ট্রোকের রোগীরা প্রায়ই অনেক দেরি করে হাসপাতালে পৌঁছান। ততক্ষণে রোগীকে সঠিক চিকিৎসা দেওয়ার আর সময় থাকে না। অথচ সময়মতো চিকিৎসা নিলে ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা যায়। রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে আনা সম্ভব হলে স্ট্রোকের ধরন অনুযায়ী রোগীকে দ্রুত চিকিৎসা করে সুস্থ করে তোলা সম্ভব।

স্ট্রোকের লক্ষণ সহজে চেনার জন্য বিশ্বব্যাপী ‘বি ফাস্ট বা দ্রুত করুন’ বাক্যবন্ধ ব্যবহার করা হয়। ইংরেজি BE FAST শব্দবন্ধ দিয়েই স্ট্রোকের লক্ষণ বা উপসর্গ মনে রাখা সম্ভব।

* বি-অর্থ ব্যালেন্স। মাথা ঘোরানো বা শরীরের ভারসাম্য ধরে রাখতে না পারা।

* ই-অর্থ আই বা দৃষ্টির সমস্যা। দৃষ্টি ঘোলা হয়ে আসা বা হঠাৎ দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলা।

* এফ-অর্থ ফেস বা মুখমণ্ডল। হঠাৎ মুখের একদিক বাঁকা হয়ে যাওয়া বা মুখমণ্ডলের অংশ বিশেষ অবশ হয়ে যাওয়া।

*এ-অর্থ আর্ম বা বাহু। হঠাৎ করে হাত দুর্বল বা অবশ হয়ে যাওয়া।

*এস-অর্থ স্পিচ বা হঠাৎ কথা জড়িয়ে আসা বা বন্ধ হয়ে যাওয়া।

*টি-অর্থ টাইম বা সময়। এই সময় বলতে বুঝাচ্ছে এ ধরনের কোনো সমস্যা দেখা দিলে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।

ওপরের লক্ষণগুলো দেখা দিলে বুঝতে হবে আক্রান্ত ব্যক্তির স্ট্রোক হয়েছে। এ ক্ষেত্রে আতঙ্কিত না হয়ে জরুরি ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে কাছের হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিতে হবে। সম্ভব হলে মস্তিষ্কের সিটিস্ক্যান করে স্ট্রোকের ধরন বুঝতে হবে। স্ট্রোক দুই ধরনের হয়। মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল ব্যাহত হওয়ার জন্য অথবা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের জন্য এবং দুই ক্ষেত্রে চিকিৎসা পদ্ধতিও ভিন্নতর হয়ে থাকে।

রোগী যদি অজ্ঞান হয়ে যায় তাহলে শ্বাস-প্রশ্বাস ও রক্ত সঞ্চালন নিয়মিত রাখতে অক্সিজেন, শিরাপথে স্যালাইনের ব্যবস্থা করা, প্রয়োজনে ভেন্টিলেটরের ব্যবস্থা রাখা। রোগীকে একদিকে কাত করে, বালিশ ছাড়া মাথা নিচু করে শোয়াতে হবে। চোখের যত্ন নিতে হবে। মূত্রথলির যত্ন নিতে হবে নতুবা প্রস্রাবের সমস্যা হতে পারে। প্রয়োজনে নাকে নলের মাধ্যমে খাবারের ব্যবস্থা করতে হবে।

স্ট্রোক হওয়ার পর প্রতিটি মুহূর্ত খুবই গুরুত্বপূর্ণ, দ্রুত চিকিৎসা শুরু করলে মস্তিষ্কের লাখ লাখ নিউরন বাঁচানো সম্ভব। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ, সুস্বাস্থ্যকর দুশ্চিন্তা মুক্ত জীবনযাপন স্ট্রোক হওয়া প্রতিরোধ করে।

[ডা. মো. ফরহাদ আহমেদ ব্রেইন, স্পাইন ও স্ট্রোক সার্জারি বিশেষজ্ঞ]

আরও পড়ুন

×