ঢাকা শনিবার, ২৫ মে ২০২৪

বইয়ের ভুবন

বিশ্বযুদ্ধ থেকে মুক্তিযুদ্ধ: অপরাজেয় মেজর আফসার

বিশ্বযুদ্ধ থেকে মুক্তিযুদ্ধ: অপরাজেয় মেজর আফসার

বিশ্বযুদ্ধ থেকে মুক্তিযুদ্ধ অপরাজেয় মেজর আফসার লেখক-ইজাজ আহ্‌মেদ মিলন, প্রকাশক-অন্যপ্রকাশ, প্রচ্ছদ-মোস্তাফিজ কারিগর, দাম-৭০০ টাকা

রেজানুর রহমান

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০

আপাদমস্তক একজন দেশপ্রেমিক ছিলেন মেজর আফসার উদ্দিন আহমেদ। নিখাদ মুক্তিযোদ্ধা মেজর আফসারও অমরতার এক অনুষঙ্গ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের লড়াকু এ সৈনিক মহান মুক্তিযুদ্ধে সফল যোদ্ধা হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে আছেন। ব্রিটিশ ভারতীয় সেনাবাহিনীর ‘সুবেদার মেজর’ আফসার শুধু একা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেননি; বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে সাড়া দিয়ে আফসার সাড়ে চার হাজার দেশপ্রেমিককে ঐক্যবদ্ধ করে গড়ে তুলেছিলেন বিশাল এক বাহিনী। তাঁর নামেই সে বাহিনীর নামকরণ করা হয়েছিল।

 দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের যোদ্ধা এবং ‘আফসার বাহিনী’র প্রতিষ্ঠাতা আফসার উদ্দিন আহমেদ নতুন প্রজন্মের কাছে অনেকটাই বিস্মৃত। ১০০ বছর আগে জন্ম নেওয়া মেজর আফসারকে এ প্রজন্মের কাছে নতুন করে উদ্ভাসিত করেছেন লেখক ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ইজাজ আহমেদ মিলন। দুই যুদ্ধের এক যোদ্ধা আফসারের যাপিত দিনগুলো সুনিপুণভাবে পাঠকের সামনে দক্ষতার সঙ্গে তুলে ধরেছেন লেখক। শুধু তা-ই নয়, মেজর আফসারের সময় এ ভূখণ্ডে ঘটে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ নানা বিষয়ও লেখক তুলে ধরেছেন বিচক্ষণতার সঙ্গে। ‘বিশ্বযুদ্ধ থেকে মুক্তিযুদ্ধ: অপরাজেয় মেজর আফসার’ গ্রন্থটি হয়ে উঠেছে এ ভূখণ্ডের জীবনী। মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস চর্চায় গ্রন্থটি পরবর্তী প্রজন্মের গবেষকদের জন্য অনিবার্য হয়ে উঠবে। নিজের কর্মগুণে ব্যক্তি আফসার থেকে নিজেই একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ থেকে শুরু করে মহান মুক্তিযুদ্ধ পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি আন্দোলন-সংগ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে লড়েছেন ব্রিটিশ বাহিনীর সদস্য হিসেবে। একইভাবে মুক্তিযুদ্ধেও রেখেছেন বীরোচিত ভূমিকা। বঙ্গবন্ধুর অনুগত অমরতার বরপুত্র আফসারের নেতৃত্বে ভালুকা, ত্রিশাল, শ্রীপুর, কালিয়াকৈর, গফরগাঁও, সখীপুর, ফুলবাড়িয়া ও ময়মনসিংহের বিভিন্ন এলাকায় ২৪২ দিনে ১৫০টি সম্মুখযুদ্ধ পরিচালিত হয়। ৭৫টি সম্মুখযুদ্ধের অগ্রভাগে থেকে তিনি সরাসরি নেতৃত্ব দিয়েছেন। দু’হাতে অস্ত্র চালাতেন আফসার উদ্দিন আহমেদ। অস্ত্র হাতে তুলে দিয়ে তিনি স্ত্রী, তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নামিয়েছিলেন মুক্তিযুদ্ধের ময়দানে। পাকিস্তানি নরপশুদের গুলিতে শহীদ হন তাঁর ছেলে বীরযোদ্ধা নাজিম উদ্দিন আহমেদ। শত বছর আগে জন্ম নেওয়া মেজর আফসারকে এ প্রজন্মের কাছে নতুনভাবে তুলে ধরা আমাদের দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে। সেই দায়িত্বটি পালন করেছেন গবেষক ও লেখক ইজাজ আহমেদ মিলন। অপরাজেয় এ যোদ্ধার যাপিত জীবন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে অংশগ্রহণ, ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে যোগদান ও মুক্তিযুদ্ধে বাহিনী গড়ে তুলে বিপুল বিক্রমে নেতৃত্ব দেওয়ার নানা অজানা অধ্যায় লিপিবদ্ধ করা হয়েছে ‘বিশ্বযুদ্ধ থেকে মুক্তিযুদ্ধ: অপরাজেয় মেজর আফসার’ গ্রন্থের প্রতিটি পাতায়। গ্রন্থটি রচনা করতে বেশ বেগ পেতে হয়েছে লেখককে; সে কথা প্রাক্‌কথনে লেখক নিজেই স্বীকার করেছেন। ১৯২৩ সালের ২১ এপ্রিল জন্ম নেওয়া আফসার সম্পর্কে নিষ্কণ্টক তথ্য খুঁজে বের করা সত্যিই কষ্টের। দীর্ঘদিন তাঁর ওপর গবেষণা করে লেখা এ গ্রন্থ পাঠ করে নিশ্চয়ই পাঠক নিরাশ হবেন না। গ্রন্থটির ভূমিকা লিখেছেন প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক ফরিদুর রেজা সাগর। ভূমিকায় তিনি লিখেছেন, “আরও একটি দুর্দান্ত কাজ করেছেন লেখক ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ইজাজ আহমেদ মিলন। বিস্মৃতপ্রায় মেজর আফসার উদ্দিন আহমেদকে নতুনভাবে উদ্ভাসিত করেছেন এ প্রজন্মের কাছে। শত বছর আগে জন্ম নেওয়া দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সৈনিক মেজর আফসারের যাপিত জীবনের নানা অজানা অধ্যায় সুনিপুণভাবে পাঠকের সামনে তুলে ধরা মোটেও সহজ নয়। ‘বিশ্বযুদ্ধ থেকে মুক্তিযুদ্ধ: অপরাজেয় মেজর আফসার’ গ্রন্থের পাতায় পাতায় লেখকের ঘামের গন্ধ পেয়েছি। শব্দের প্রয়োগ, বাক্য চয়ন আর ঘটনার ধারাবাহিক বর্ণনা দেখে মনে হয়েছে, লেখকের লেখার হাত পেকেছে আরও অর্ধশত বছর আগে। কিন্তু না, লেখক ইজাজ মিলনের বয়সই এখন পর্যন্ত চল্লিশের কোটা পেরোয়নি। কঠোর অধ্যবসায় আর নিরলস গবেষণা ছাড়া এমন একটি গ্রন্থ রচনা যে সম্ভব নয়, তা পাণ্ডুলিপি পড়েই বোঝা যায়। শিকড় থেকে তুলে আনা নির্যাস দিয়ে তিনি রচনা করেছেন এ গ্রন্থ।” লেখক ইজাজ আহমেদ মিলন এরই মধ্যে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে বেশ কিছু কাজ করেছেন। কাজের স্বীকৃতি পেয়েছেন। এ বইটিও গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ। 

আরও পড়ুন

×