ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

প্রচ্ছদ

যত সহজ সুন্দর

যত সহজ সুন্দর

রফিকুন নবী

প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৩ | ১৮:০০

আমের সুবাস

 আমার একদম শিশু বয়সটা কেটেছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। বাবা যেহেতু সরকারি চাকরি করতেন; পুলিশ ছিলেন; যখন যে থানায় তাঁর পোস্টিং হতো, আমাদেরও সেই অনুযায়ী ঘটত ঠিকানাবদল। আমার দেশের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ আমের জায়গা। সেখানকার মানুষের জীবনও আমসর্বস্ব, বলা যায়। বিশেষ করে গ্রীষ্মকালটা সমস্ত কিছুই আমকে ঘিরে। মুকুল এবার থাকবে কি থাকবে না, আম এবার ধরবে নাকি ঝরে যাবে, এসব নিয়ে ভাবনা-দুর্ভাবনা; এসবই আমরা ছোটবেলা থেকে দেখে এসেছি। বসন্তকালের শুরু থেকেই কিন্তু মুকুল ধরা শুরু করে দেয়। আর তখন থেকেই শুরু হয়ে যায় যত হিসেবনিকেশ। ঝড় হলে চারপাশে বেশ একটা চাঞ্চল্য দেখা দেয়। চাঁপাইনবাবগঞ্জে যে ব্যাপারটা আছে– আমের সময়ে, যে যেখানেই থাকুক, একটা খবরাখবর আদান-প্রদান শুরু হয়ে যায়; কে কোথায় আছে, আম হয়েছে, আসবে কিনা, খাবে কিনা। এলাকায় একটা ব্যাপার সবাই খুব মান্য করত। কারও গাছে কেউ হাত দিত না, কেউ পেড়ে খেত না। এখনও খায় না। গাছ থেকে পড়ে গেলে সেটা মানুষের, আর যতক্ষণ গাছে থাকে ততক্ষণ মালিকের। আর সবারই গাছ আছে, সবারই আম আছে। কাজেই আম খাওয়া নিয়ে কারও খুব একটা দুর্ভাবনা থাকে না। আমরা তো ঢাকা থেকে যেতাম, অনেক নিয়মকানুনই জানতাম না। একবার এক ঘটনা ঘটল। ঢাকা থেকে গেছি মামার বাড়ি। তাদের আমবাগান আছে। আমরা পাশের বাড়ির আমবাগানের আম দেখেও বেশ উৎফুল্ল হয়ে উঠলাম। যা হলো, সেই পাশের বাড়ির কিছু আম আমরা পেড়ে ফেললাম। আর তো আশপাশের মানুষ রইরই করে উঠল, ‘আরে, এ কী করলে তোমরা! অন্যের গাছের আম পাড়লে!’ যারা এসব বলছিলেন তারা কিন্তু সেই বাগানের মালিক নন। তারা আমাদের তখন ব্যাপারটা বুঝিয়ে বললেন, ‘এমন করতে নেই!’ আমরাও তখন ছোট। আমি সবেমাত্র লেখাপড়া শুরু করেছি। তাদের কথা শুনে থমকে গেলাম। তারা বললেন, ‘এখানে দাঁড়াও। যদি দুয়েকটা পড়ে, তাহলেই শুধু তোমরা নিতে পারবে।’ এ ঘটনাটা একটা শিক্ষা ছিল আমাদের জন্যে। এখনও যখন আমরা যাই, সেই শিক্ষার কথা মনে পড়ে। নিজে তো হাত দিই-ই না, অপরকেও সেদিনের কথাগুলো বলি। এ ছাড়া আমরা নিজেদের গাছের আমও যে খুব একটা পাড়ি তা না। মনে হয়, এই আছে তো, গাছেরটা গাছেই থাকুক। আহার নিলাম কেড়ে আমাদের মামার বাড়ির পেছনে একটা পুকুর ছিল। সেই পুকুরটা খুব একটা বড় ছিল না। পানিও বেশি ছিল না। সাঁতার কাটার মতোন পানি ছিল কিনা সন্দেহ। কোনো দিন দেখিনি কাউকে সেখানে সাঁতার কাটতে। মাঝে মাঝে দেখতাম, আশপাশের মানুষেরা সেখানে কাঁথা-কাপড় ধোয়াপাখলা করতেন। সেইখানে হঠাৎ একদিন শুনি একটা কিছু হঠাৎ তারস্বরে চিৎকার করছে। গিয়ে দেখি, একটা ঢোঁড়া সাপ ব্যাঙ ধরে ফেলেছে। প্রাণপণ চিৎকারটা ব্যাঙের। আমরাসহ গ্রামের আরও বেশ ক’জন ছিল, বয়সে সমান আমাদের। সবাই ক্ষেপে উঠল, ‘মার ইট সাপটাকে!’ ব্যাঙটাকে দেখে আমাদের খুবই মায়া লাগছিল। ব্যাঙের গলা দিয়ে যা বের হচ্ছিল সে এক অদ্ভুত ধরনের আওয়াজ। এখনও যখন আমি গ্রামে যাই, মাঝে মাঝে শুনতে পেলেই বুঝতে পারি, কোনো সাপ এই বুঝি একটা ব্যাঙ ধরেছে। তো, আমরা যখন ইট ছুড়ছি, একপর্যায়ে, সত্যি সত্যি সাপটা ব্যাঙটাকে ছেড়ে দিয়ে পানির নিচে হারিয়ে গেল। আর ব্যাঙটাও আস্তে আস্তে লাফিয়ে চলে গেল। সে খুব যে আহত হয়েছিল তা না। ওইখানে একজন বৃদ্ধা মহিলা কাপড় কাচছিলেন। তিনি এই গোটা সময় আমাদের দেখছিলেন, কিছু বলেননি। এর আগেও যখন তাঁর কাছেই সাপটা সেই ব্যাঙটাকে ধরেছিল, তিনি ছিলেন নির্বিকার। আমাদের ইট ছোড়া যখন সফল হলো, সাপ তলিয়ে গেল, ব্যাঙও পালিয়ে গেল, তখন তিনি বললেন, ‘এটা কী করলি তোরা?’ ‘কেন? কী করেছি আমরা?’ ‘এই যে ইট ছুড়লি?’ ‘কেন, ব্যাঙটাকে খেয়ে ফেলছিল না সাপটা!’ আমরা অবাক। ‘ব্যাঙটাকে বাঁচাতেই তো ইট ছুড়লাম। আর ব্যাঙটা তো বাঁচল!’ বৃদ্ধা বললেন, ‘বাঁচল। কিন্তু সাপটার আহারটা নষ্ট করলি না? সাপটা হয়তো অনেক কষ্ট করে একটা আহার জোগাড় করেছিল। তোরা মুখের আহার কেড়ে নিলি। এটা ভালো হলো না।’ আমাদের সহজ আনন্দ, সহজাত প্রতিক্রিয়াগুলো এভাবে একেকটা প্রশ্নের সামনে আমাদের দাঁড় করিয়ে দিয়েছিল। আমার বয়সী গ্রামের সেই ছেলেরা তখন তর্ক জুড়ল তাঁর সঙ্গে, যেন দুই পক্ষে ওরা হয়ে গেছে। বৃদ্ধা সাপের পক্ষে, আর আমরা ব্যাঙের পক্ষে। আমি তো শহর থেকে গেছি, আমার মুখে অত কথা ছিল না। কিন্তু পরে বড় হয়ে চিন্তা করে দেখে মনে হয়েছে, হ্যাঁ, বৃদ্ধার কথাটা সত্যিও বটে। আবার এও মনে হয়েছিল, ব্যাঙের পক্ষ নিয়েও আমরা ভুল করিনি। কারণ ব্যাঙটা বাঁচল তো! মৎস্যবিভ্রাট আরেকটা স্মৃতি মনে পড়ে। তখন আমরা সিংড়া থাকতাম, নাটোরে। কাছেই চলনবিল। সিংড়া ঘেঁষে আত্রাই নদী গিয়েছিল। থানার পাশেই ছিল ঘাট, ঘাটে ছিল মস্ত এক বটগাছ। সেই বটগাছের কাছে নৌকা ভিড়ত আর জেলেরা মাছ নামাত, বিরাট বিরাট সব চিতল, বোয়াল, রুই। ধপাস ধপাস করে ফেলত! থানার বারান্দা থেকে দেখা যেত, মনে আছে। তখন তো ছোট আমি। এর বেশ অনেক দিন পর, ততদিনে দেশ স্বাধীন হয়েছে, আমিও মাস্টার-টাস্টার হয়ে এক ব্যাপার দাঁড়িয়েছে। সেই সিংড়ার পাশ দিয়ে যাচ্ছিলাম, গন্তব্য রাজশাহী। রাজশাহীর যাওয়ার মূল রাস্তা ছিল বন্ধ, তাই সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলাম। সিংড়া নামটা দেখেই আমার ছোটবেলার কথা মনে হলো, আরে! এই তো সেই জায়গা– এখানেই তো আমি ছিলাম! কিন্তু ততদিনে কিছুই পরিচিত নেই, সব বদলে গেছে দালানটালান ওঠে। সেখানে এক ছাপড়া দোকান। দেখি বেশ ক’জন বসে আছে, চা খাচ্ছে। আমরা মাইক্রোবাস থামালাম। মনে আশা, গ্রামের এদিকে তো গরুর দুধের চা পাওয়া যায়। পেলাম যদি, তো খেলাম। একপাশে এক হিন্দু ভদ্রলোক বসে আছেন, বেশ বয়সী। তাদের চা-পানের মধ্যখানে আমি উপস্থিত। বললাম, ‘এখানে কি গরুর দুধের চা আছে নাকি?’ ‘আছে তো।’ ‘ঠিক আছে। লাগাও।’ কাছেই সেই বয়স্ক ভদ্রলোক বসা। আমি আলাপ জমাতে বললাম, ‘এইখানে যেই থানা, সেখানে আমি ছোটবেলায় ছিলাম।’ ‘আচ্ছা তাই নাকি। বেশ তো।’ ‘এত বড় বড় মাছ উঠত। বিরাট বড় সব মাছ। চিতল। তা সেই রকম মাছ কি এখন পাওয়া যায়?’ ‘অত বড়?’ আমার দেখানো আকৃতিকে প্রমাণ ধরে ভদ্রলোক বিস্মিত। ‘অত বড় চিতল তো আমি কখনও দেখিনি।’ ‘না না, ছিল তো। এই এত বড় হবে।’ আমি আবার দেখালাম। ভদ্রলোক কিছুক্ষণ ভেবে হাসলেন। ‘আমি তো আপনার চেয়ে বয়সে বড়ই হব। যেমন বলছেন, তেমন বড় মাছ আমি দেখিনি কোনো দিন। তবে হ্যাঁ, একটা ব্যাপার হতে পারে।’ ‘কী সেই ব্যাপার?’ ‘আপনি তখন ছোট ছিলেন। তাই ওই মাছ আপনার কাছে মনে হয়েছে বিশাল বড়। এই হলো ব্যাপার।’ তখনই আমার মনে এলো, তাই তো। আমি তো তখন বেশ ছোট। তাই আমার চোখে সাধারণ মাছগুলোও ঠেকেছে ইয়া বড় বড়। আর গুইসাপও দেখেছি এত বড় যে পরে আর চোখে পড়েনি তেমন। এ-ই হয়তো রহস্য। আমার সহজ পৃথিবীর এ রহস্যও সমাধা হলো। সেই ভদ্রলোক আমার চোখ খুলে দিলেন। এমন ভূমিকম্প আর দেখিনি এরপর বিক্রমপুরের লৌহজংয়ে থাকার সময় আরেক ঘটনা। প্রচণ্ড ভূমিকম্প হলো। অত শক্তিশালী ভূমিকম্প আর দেখিনি। দাঁড়িয়ে থাকা যায় না। আমাদের থানায় একটা পুকুর ছিল। প্রবল ভূমিকম্পে পুকুরের পানিতে তাথৈ চলছে। ভেতর থেকে মাছ লাফিয়ে ডাঙায়ও এসে পড়ছে! থানার কনস্টেবলরা সেই মাছ ধরলেন। আমাদের বাড়িতেও কিছু এলো সেই মাছ। কিছুদিন আমরা ‘ভূমিকম্পের মাছ’ বলে বলে খেলাম। সেইসব মাছের ভেতর বড় বড় রুই-কাতলাও ছিল। এর কিছুদিন পরই বাবার বদলি হলো। আমরা এলাম মানিকগঞ্জের তেওতায়। যে ভূমিকম্পের মাছ খেয়েছি, অবাক চোখে সেই ভূমিকম্পের রেশ এখানেও দেখতে পেলাম। দেখলাম হাজার হাজার গাছের গুঁড়ি যমুনা নদীতে। পঞ্চাশের ভয়াবহ ভূমিকম্প, কেন্দ্র ছিল আসামের দিকে কোথাও। সেখানে ভূমিধসে হাজার হাজার বনের গাছ পড়েছে নদীতে। তারপর সেই সব গাছ ব্রহ্মপুত্রে ভেসে পথ কেটে যমুনায় চলে এসেছে। নদীর তীরে তীরে যাদের বাড়ি, সেই মানুষগুলো যে যত পেরেছে গাছের গুঁড়ি টেনে নিয়েছে। দামি দামি গাছ ছিল নাকি; শাল, কড়ই; এমন। আমরা দৌড়ে বেড়িয়েছি নদীর কিনারে, গাছ ভেসে যাওয়া দেখতে বের হাতম। চারদিকে নানা গুজব। কে নাকি কোনো ভেসে থাকা গাছের গুঁড়িতে বাঘ বসে থাকতে দেখেছে। আবার কে নাকি দেখেছে ভেসে যাওয়া গাছের ডালে বিরাট এক অজগর পেঁচানো। এইসব কথা ভাসত। আমরাও বিশ্বাস করতাম। পরে মনে হয়েছে যে, সেইসব ছিল বানানো গল্প। আবার ভেবেছি বন ভেঙে এসেছে তো, কে জানে, হতেও পারে। আবার মনে হলো, সেই দূর আসাম থেকে এরা ভেসে ভেসে আসছে এইভাবে; সম্ভব না। যমুনার ঘূর্ণি এর কিছুদিন পরের কথা। তেওতা রাজবাড়ীতে ছিল স্কুল, তখন স্কুলে লেখাপড়া সবে শুরু করেছি, ক্লাস ওয়ানে পড়ি হয়তো। তখনই বাড়িটার বেশ ভাঙাচোরা অবস্থা। তো, সেবার বন্যা হলো। পঞ্চাশের বন্যা। বন্যায় নৌকায় চড়ে স্কুলে যেতাম। যমুনার পানি আর বন্যার পানি মিলে এক হয়ে গেছে। কখন যে নদীর মধ্য দিয়ে যাচ্ছি আর কখন যে ডাঙার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি বোঝার উপায় নেই। যে মাঝি আমাদের স্কুলে নিয়ে যেতেন, আজ আর তাঁর নাম মনে নেই। মনে আছে, তিনি থানার মাঝি ছিলেন। শুধু আমাকেই না, অন্য যে অফিসাররা ছিলেন, মেজো দারোগা-ছোট দারোগা, তাদের সবার ছেলেমেয়েদের তিনি স্কুলে পৌঁছে দিতেন। যেদিনের কথা বলছি, সেদিন এক ভয়ানক দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারত, তিনি আমাদের বাঁচালেন। যমুনায় পানির বড় বড় ঘূর্ণি দেখা দিত বন্যার সময়, যমুনার ঘূর্ণি। সেদিন স্কুলের পথে হঠাৎ আমরা তেমনই একটা ঘূর্ণির টান টের পেলাম। আমাদের থানার মাঝির সে কি প্রাণান্ত চেষ্টা! তাঁর সমস্ত শক্তি আর দক্ষতা জড়ো করে তিনি নৌকাটাকে সেই ঘূর্ণির কাছ বাঁচিয়ে দূরে নিয়ে গেলেন। যদি ওই ঘূর্ণির মধ্যে আমরা পড়তাম, মুহূর্তে পুরো নৌকা তলিয়ে যেত। তখনও সাঁতার জানতাম না। আর জানলেও কোনো লাভ হতো না। এমন পরিস্থিতিতে যমুনা, পদ্মা, মেঘনায় মাঝনদীতে সাঁতার জেনেও কোনো লাভ হয় না। দর্শনার যাত্রী এভাবে জটিলতার পাশ কাটিয়ে আমাদের সহজ জীবন চলছিল। কত জটিলতা তখন দেখেও চিনতে পারিনি, স্পর্শ করেনি। আমার জন্ম ১৯৪৩ সালে। সাতচল্লিশে দেশভাগ হয়েছে। চারদিকে এ নিয়ে অস্থিরতা তার কিছুই বুঝতে পারছি না, কিন্তু মনে দাগ রেখে যাচ্ছে। হিন্দুস্তান-পাকিস্তান দুই দেশ। ওপারের মুসলমানেরা এপারে আসছেন, এপারের হিন্দুরা ওপারে যাচ্ছেন। থানাগুলোয় তখন খুব গোলমাল। যে কারণে অফিসারদেরও বদলি ঘটছিল ঘন ঘন। আমার বাবারও। সেই সময়টায় আমাদের কিন্তু বেশ আনন্দ হতো, আজ এখানে কাল সেখানে। কখনও নৌকায় চড়ে, কখনও রেলগাড়িতে আমরা জায়গা বদল করছি। দেশের বাড়ি যেতে-আসতে পথে একটা বিশেষ স্মৃতি তৈরি হতো। বিশেষ করে আসার সময়, যখন চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে ঢাকা আসছি। সে সময় গোয়ালন্দ হয়ে আসতে হতো। গোয়ালন্দে ট্রেন থেকে নেমে স্টিমারে উঠতাম। স্টিমারে উঠে নারায়ণগঞ্জে আসতাম। গোটা পথে সঙ্গী হাজার হাজার লোক। বেশির ভাগ লোক দর্শনা থেকে উঠত। গাঁটরি-বোঁচকা, লোকজন, হইহল্লা, অন্য ভাষাভাষী লোকজন– কারও চোখেমুখে কিন্তু স্বস্তি নেই। বরং যেন একটা আতঙ্ক ছিল। তখন আমাদের ওপর বেশ একটা ধকল চলে যেত। মনে আছে গাড়িতে এত ভিড় হতো যে আমি নিঃশ্বাস নিতে পারতাম না। ভীষণ কষ্টকর একটা যাত্রার ভেতর আমরা পড়ে যেতাম। আমি জিজ্ঞেস করতাম, ‘এত লোক কেন? এরা কারা? এত মানুষ কোত্থেকে আসছে? কেন উঠল এরা?’ সহজ মন যা নিয়ে কষ্ট পেয়েছিল, বড় হওয়ার পর তার ভাব ও ভাষা গেল বদলে। তাদের চোখেমুখে সেই আতঙ্কের মানে পরে বুঝেছি। সদ্য অন্য একটা দেশে এসেছে, পেছনে রয়েছে তাদের সহায়, সম্পদ, স্বজন, স্মৃতি; সামনে কোথায় হবে ঠাঁই, কিছুই নেই জানা। 

আরও পড়ুন

×