ঢাকা সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

গুলবার্গ নগরীর সৌন্দর্য

বাকৃবি

গুলবার্গ নগরীর সৌন্দর্য

গুলবার্গ নগরীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সবাইকে মুগ্ধ করবে

তানিউল করিম জীম

প্রকাশ: ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩ | ১৮:০০

সুউচ্চ পাহাড় আর উঁচু উঁচু সারি সারি পাইনগাছের সমারোহ। যেদিকে তাকানো যায় পাহাড় আর পাহাড়। সেই পাহাড়েই আবার দাঁড়িয়ে আছে বিশাল বিশাল গাছগাছালি। চারপাশে শোনা যাচ্ছে ঘোড়ার ডাক। রাস্তার পাশেই সারি করে ঘোড়া বেঁধে রাখা আছে। ঘোড়ায় অনেকেই ঘুরে বেড়াচ্ছে। একটু দূরে থাকালেই দেখা মিলবে পাহাড়ের সঙ্গে মেঘের মিতালি। মেঘ যেন পাহাড়ের গায়ে শুয়ে পড়েছে। লেপ্টে ধরেছে পাহাড়কে। এ বন্ধন যেন অনড়। এমন মনোরম পরিবেশ কেমন হবে? অবশ্যই ভালো হবে, তাই না? শুধু ভালো বললে ভুল হবে। এখানে যদি আমি মারাত্মক শব্দ দিয়ে সেই শীতল পরিবেশকে ব্যাখ্যা করি তাহলে ভুল হবে না। সেই শীতল পরিবেশের টানেই তো সারাবিশ্বের মানুষ সবসময় এখানে ছুটে আসে প্রতি বছর। কি শীতকাল আর গ্রীষ্মকাল সারা বছর এখানে দর্শনার্থীর ভিড়। শীতকালে তুলনামূলক বেশি থাকে দর্শনার্থীর ভিড়। কারণ এলাকাটি এ সময় বরফে ঢাকা থাকে। বলছিলাম পৃথিবীর ভূস্বর্গখ্যাত কাশ্মীরের গুলবার্গ নগরের কথা। দেশ-বিদেশ থেকে মানুষ ছুটে আসে এই নগরের নৈসর্গিক প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে। আমরাও সেই সৌন্দর্যের টানে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ৯ জন শিক্ষার্থী পাসপোর্ট ভিসার বিড়ম্বনা কাটিয়ে ঘুরে আসি গুলবার্গ থেকে। এ সৌন্দর্য বলে বা ছবি দেখিয়ে ব্যাখ্যা করা কঠিন। তবে যেই এখানে আসবে, নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও শীতল পরিবেশে চোখ ও মনে প্রশান্তি আসবেই। এ পরিবেশে এলে আর চলে যাওয়ার কথা মাথাতেই আসবে না। আমরা  এই পরিবেশে অসংখ্য ছবি তুলেছি। তারপরও ছবি তোলা যেন শেষ হয় না। এর পর প্রথমবারের মতো ঘোড়া নিয়ে সবাই চলল ইউটার্ন, মহারাজাসহ পাঁচটি জায়গায়। আমি যে ঘোড়ায় চড়েছিলাম, সেটির নাম রাজা। ক্ষিপ্ত পায়ে চলা শুরু করলে আমি ভয় পেয়ে গেলাম, পড়ে যাব নাকি! ঘোড়াপ্রতি খরচ পড়ে ২০০ রুপি। এই জায়গাতেই অনেক হিন্দি সিনেমার শুটিং হয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। সামনে একটু এগিয়ে গেলেই চোখে পড়বে গলফ মাঠ।
অবসর সময় কাটাতে এখানে পরিবার নিয়ে আসেন অনেকে। কেউ খেলে, কেউ খেলা শেখে। তবে সম্ভ্রান্ত পরিবারের লোকজন এখানে বেশি আসেন। আর একটু সামনে গেলেই দেখা মিলবে পার্কের। ১০ রুপি টিকিটেই ভেতরে ঢুকতে পারবে যে কেউ। সেখানে স্থানীয়রা ছোট বাচ্চা নিয়ে বিভিন্ন রাইড ও অবসর সময় কাটান। পার্কের জায়গাটি অন্য জায়গা থেকে একটু বেশি শীতল। সেখানে নাগরদোলা দেখে ভালো লাগল। বাংলাদেশ বাংলাদেশ একটি অনুভূতি কাজ করল। এখানে আশপাশে সুন্দর সুন্দর রিসোর্ট তৈরি করে রেখেছে। তবে অনেক ব্যয়বহুল। আমরা সকাল সকালই কাশ্মীরের শ্রীনগরে আমাদের হোটেল থেকে টেম্পোতে (ছোট বাসের মতো গাড়ি, ১৪ সিট) রওনা দিই গুলবার্গের উদ্দেশে। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে শুরু হয় পথচলা। যতই সামনে যাচ্ছিলাম, ততই যেন আগ্রহ বাড়ছিল। একটু সামনে যেতেই শীতল বাতাসে যেন প্রশান্তির ছোঁয়া পেল সবাই। পরে প্রকৃতির নৈসর্গিক দৃশ্য স্মৃতিবন্দি করতে ব্যস্ত হয়ে যায় সবাই। জীবনের সেরা সুন্দর মুহূর্ত কাটিয়ে স্মৃতির পাহাড় নিয়ে আমাদের ফেরা, যে স্মৃতিটুকু বারবার ঘিরে থাকবে আমাদের।

আরও পড়ুন

×