সমাজকর্মী এস রীনা দেবীর বিরুদ্ধে মিথ্যা অপহরণ মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এ মানববন্ধনের আয়োজন করে ‘মানবাধিকার রক্ষার পক্ষে নাগরিক সমাজ’ শীর্ষক একটি মঞ্চ।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন-বাংলাদেশ কৃষক ফেডারেশনের সভাপতি বদরুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক জায়েদ ইকবাল খান, হিল উইমেন ফেডারেশনের সভাপতি নিরূপা চাকমা, আদিবাসী ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য চঞ্চনা চাকমা, বাঁচতে শেখ নারী’র সভাপতি ফিরোজা বেগম, শাহাবুদ্দীন ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের সভাপতি মো. শাহাবুদ্দীন মাতুব্বর, বাংলাদেশ শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এএএম ফায়েজ হোসেন এবং বাংলাদেশ আদিবাসী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অমলি কিস্কু। সঞ্চালনা করেন শহীদুল ইসলাম সবুজ।

বক্তারা বলেন, ২৫ সেপ্টেম্বর সিলেটের কুলাউড়া উপজেলার শেখ নূর মিয়া জামালপুরের আদালতে তার ভাই অপহরণের অভিযোগ জানিয়ে একটি মামলা করেন। মামলায় সিলেটের প্রবীণ মণিপুরী সমাজকর্মী রীনা দেবীকে তিন নম্বর আসামি করা হয়েছে। মামলায় বলা হয়েছে, রীনা দেবী অন্যান্য আসামির সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে নূর মিয়ার ভাই আবদুল আহাদকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছেন। মামলাটি তদন্তের জন্য পুলিশের গোয়েন্দা শাখাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য জামালপুর ডিবি অফিসে ১৫ জানুয়ারি উপস্থিত থাকার নোটিশ পেয়ে রীনা দেবী বিস্মিত এবং অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। এই মামলায় তাকে ষড়যন্ত্রমূলকভাবে জড়ানো হয়েছে।

আয়োজকরা আরো জানান, এস রীনা দেবীর বয়স ৭২ ও জাতিতে তিনি মণিপুরী। তার স্বামীর পরিবার বংশানুক্রমিকভাবে সিলেটের শিবগঞ্জের মণিপুরী পাড়ায় বসবাস করে আসছেন। তার স্বামী অমৃত সিংহ ২০০০ সালে মারা যান। বর্তমানে এস রীনা দেবী শিবগঞ্জে তিন সন্তান ও তাদের পরিবার নিয়ে বসবাস করেন। তার শ্বশুর অম্বিকা সিংহ এলাকার শ্রদ্ধেয় ব্যক্তি ছিলেন। শিবগঞ্জ ও এর আশেপাশের এলাকায় তার কিছু জমি ছিল। সে সময় এই এলাকায় মূলত মণিপুরীদেরই বসবাস ছিল। পরবর্তীকালে বাঙালিরাও বসতি স্থাপন করতে শুরু করলে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে পাশাপাশি বসবাস করে আসছিল। গত কয়েক দশকে চিত্রটি ধীরে ধীরে পাল্টে গেছে। স্থানীয় প্রভাবশালী ভূমিদস্যুদের হাতে অনেক মণিপুরী পরিবার তাদের জমি হারাচ্ছে।

বক্তারা আরো বলেন, এস রীনা দেবীর স্বামী অমৃত সিংহ একমাত্র পুত্র হিসাবে অম্বিকা সিংহের সব সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। ২০০০ সালে তার মৃত্যুর পর এই সম্পত্তির বর্তমান অধিকারী তার স্ত্রী। কিন্তু এসব সম্পত্তির বিরাট অংশ ইতিমধ্যে স্থানীয় প্রভাবশালী সংখ্যাগরিষ্ঠ বাঙালি সম্প্রদায়ের লোকজন বেদখল করেছে। যেটুকু বাকি আছে তা বেদখলের জন্য দুই দশকের বেশি সময় ধরে অপতৎপরতা চালাচ্ছে ভূমিদস্যুরা। পরিবারটির অভিযোগ, এই অপতৎপরতায় নেতৃত্ব দিচ্ছে সিলেটের ২০ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ। ভুয়া দলিল তৈরি, সামনাসামনি ও টেলিফোনে হুমকি, সিটি করপোরেশনের বিভিন্ন সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টিসহ নানারকমভাবে এস রীনা দেবীর পরিবারকে ভূমিদস্যুরা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে উপদ্রব করে আসছে এবং তাদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে। ২০১১ সালে এদেরই একটি দল লাঠিসোটা ও দা-চাপাতিসহ রীনা দেবীর বাড়িতে হামলা করে। তাদের দায়ের কোপে তার মেয়ে অজন্তা গুরুতর আহত হন।

নূর মিয়ার ভাই আবদুল আহাদের উদ্ধার, তার নিখোঁজ হওয়ার প্রকৃত কারণ, এর পেছনে কারা দায়ী, কী তাদের উদ্দেশ্য, কারা এস রীনা দেবীকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে নিয়ে তাকে এই মামলায় জড়িয়েছে– তদন্তের মাধ্যমে তা খুঁজে বের করার জন্য বক্তারা সরকার ও প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানান।