ঢাকা শনিবার, ১৮ মে ২০২৪

সম্পর্ক

পারিবারিক একাত্মতা বাড়াতে

পারিবারিক একাত্মতা বাড়াতে

শিরিন আক্তার

প্রকাশ: ১০ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০

পারিবারিকভাবে সময় কাটানো শিশুর বিকাশের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের সব সদস্যের সঙ্গে নিয়ে বেড়ে ওঠা শিশু আর একক পরিবারে বেড়ে ওঠা শিশুর মধ্যে আচরণগত বেশ পার্থক্য থাকে। ব্যস্ত এ সময়ে অর্থ উপার্জনসহ নানা কাজে অভিভাবকরা থাকেন ব্যস্ত। শিশুদের ঠিকমতো সময় দিতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে ডাইনিং স্পেসে অন্তত একবেলা হলেও সবার একসঙ্গে সময় কাটানো পরিবারের ছোট সদস্যদের জন্য হতে পারে খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

খাবার খেতে খেতে খোশগল্পের মাধ্যমে আপনার সন্তানের কী প্রয়োজন, পড়াশোনা, বন্ধুদের সঙ্গে কাটানো সময়, তার আগ্রহ-অনাগ্রহ জেনে নিতে পারেন। এ সময়টা ব্যস্ততার অজুহাতে মোবাইল দেখতে দেখতে বা টিভি স্ক্রিনে চোখ রেখে খাবার খাবেন না। অনেক শিশু ডাইনিংয়ে খাবার না খেয়ে প্লেটে খাবার নিয়ে বেডরুমে চলে যায়। এটা ঠিক নয়। তার কোনো সমস্যা থাকলে জানার চেষ্টা করুন।

পরিবারের সঙ্গে খাবার খাওয়া আর মুটিয়ে যাওয়া রোধের মধ্যে ওতপ্রোত সম্পর্ক রয়েছে। কারণ পারিবারিক পরিবেশ আপনার সন্তান নিয়ন্ত্রিত খাবার খায়। সেখানে থাকে পর্যাপ্ত ফল, পানি বা আমিষ জাতীয় খাদ্য। থাকছে ভিটামিন বা খাদ্যপ্রাণ। কিন্তু সে যখন বাইরের ফাস্ট ফুড বা জাঙ্ক ফুড একাকী খায়, তখন যথাযথ পুষ্টি পায় না। ধীরে ধীরে এ খাবার তাকে মুটিয়ে তোলে। এক জরিপে দেখা গেছে, পরিবারের সঙ্গে খাবার খাওয়া সন্তানদের স্থূলতা অনেকাংশে কম। বাড়ির তৈরি খাবারে থাকে পরিপূর্ণ পুষ্টি। তাই জাঙ্ক ফুড থেকে সরিয়ে মুটিয়ে যাওয়া রোধ করতে পারে ডাইনিং স্পেস। খাবার গ্রহণের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন থাকার বোধটা তৈরি করতে পারে ডাইনিং টেবিল। একেবারে শৈশব থেকে কৈশোর পর্যন্ত তার খাবার গ্রহণের জায়গার পরিচ্ছন্নতার ভার আপনার সন্তানকে দিন। এতে সে দায়িত্বশীলভাবে তার পরিচ্ছন্নতার কাজটি করবে। ডাইনিং টেবিলে পারস্পরিক ভাব আদান-প্রদান করে খোশগল্পের মাধ্যমে সন্তানের একাকিত্ব বোধ দূর করা যায়। অনেকে অফিস বা ব্যবসার কাজে বাইরে থাকেন আর আদরের সন্তানটি একাকিত্ব নিয়ে বড় হতে থাকে। তাই আমাদের উচিত সপ্তাহে ২-৩ বার বা সম্ভব হলে দিনে অন্তত একবার তাদের নিয়ে খাবার খাওয়া।

সন্তানকে আত্মবিশ্বাসী হয়ে গড়ে তুলতে পারে পারস্পরিক ভাব বিনিময়, অভিজ্ঞতা শেয়ার এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো কিছু সুন্দর সময়। যেহেতু পরিবারের বড় সদস্যদের ব্যস্ততার কারণে দূরে থাকতে হয়, সে ক্ষেত্রে একসঙ্গে খাবার গ্রহণের সময় খোঁজখবর নেওয়া তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোট থেকেই খাবার টেবিলে শিশুর বসার জায়গাটি তাকে বেছে নিতে দিন। পাশাপাশি খাবারের প্রস্তুতি-সংক্রান্ত কিছু কাজ যেমন খাবার পরিবেশন বা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার কাজ তাকেও করতে দিন। এতে সে নিজেকে পরিবারের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলে ভাবতে শিখবে।

সবাই মিলে একসঙ্গে বসে খাবার খাওয়া প্রসঙ্গে মনোবিজ্ঞানী ডা. মোহিত কামাল বলেন, যত ব্যস্তই থাকুন না কেন আপনার সন্তানের জন্য একটা নির্মল সময় বের করতে হবে। এ জন্য ডাইনিং স্পেসটা আপনারা বেছে নিতে পারেন। তাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলতে হলে তার বোধের জায়গাটা আপনাকে ধরতে হবে। সর্বপ্রথম তাকে বোঝাতে হবে, তুমি আমার কাছ থেকে এমন কিছু লুকাবে না যা তোমার জন্য মঙ্গলজনক নয়। খাবার টেবিলে সেরে নেওয়া যেতে পারে এ কথাগুলো। তিনি জানান, সন্তানকে বলতে হবে তুমি কেন তোমার রুমে একা খাবার খাবে, পারিবারিক কথাবার্তার মাধ্যমে তার কাছ থেকে সমস্যার কথাগুলো জানতে হবে। কিছু ঘটলে ওয়াইফাই কানেকশন বন্ধ করে ফেলা, মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়া এগুলো করা যাবে না। সন্তানকে সরাসরি না বলে অন্যের অভিজ্ঞতার মাধ্যমে সন্তানকে বোঝাতে পারেন। বিশেষ করে টিনএজারদের বেলায় দেখা যায়, তারা অনেক জেদি, একরোখা কথা শুনতে চায় না। এ সমাধান আপনিই দিতে পারেন। আপনার জীবনে বা অন্য কারও জীবনে ঘটে যাওয়া খারাপ অভিজ্ঞতাগুলো শেয়ার করার মাধ্যমে সন্তানকে বোঝাতে পারেন। v

আরও পড়ুন

×