ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

শিশুর ইমিউনিটি বাড়াতে

সন্তান

শিশুর ইমিউনিটি বাড়াতে

ইতি খন্দকার

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০ | আপডেট: ১৮ অক্টোবর ২০২৩ | ০৭:৪৪

বর্তমান সময়ে মৌসুমি বায়ুর পরিবর্তনের ফলে অনেকেই ঘন ঘন বিভিন্ন রোগ যেমন– জ্বর, ঠান্ডা-কাশি ইত্যাদি সমস্যায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এর প্রধান কারণ, আমাদের শরীরের ইমিউনিটি কমে যাওয়া। করোনা-পরবর্তী সময়ে সব বয়সীরই ইমিউনিটি কমে যাওয়ার প্রবণতা বেড়েছে; বিশেষ করে শিশুদের ইমিউনিটি বেশি কমে যাচ্ছে। এর কারণ, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খেলাধুলা, বাইরের খাবার, সঠিক খাদ্যাভ্যাসে না থাকা, হাত সব সময় পরিষ্কার না রাখা ইত্যাদি। শিশুর ইমিউনিটি বাড়ানোর খুব সহজ পদ্ধতি হচ্ছে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সঠিক খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে পরিপূর্ণ পুষ্টিসমৃদ্ধ প্রাকৃতিক খাবার। প্রথমেই আমাদের জানতে হবে ইমিউনিটি কী?

ইমিউনিটি হলো, মানবদেহের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা। কিন্তু কোনো কোনো সময় ইমিউনিটির অধিক মাত্রায় ক্রিয়াশীল হলে শরীরের জন্য তা ক্ষতিকারকও বটে। অর্থাৎ অতিরিক্ত এবং অতিমাত্রায় কম দুটোই আমাদের জন্য ক্ষতিকর। এ কারণে দেহের ইমিউনিটি সব সময় সমতায় রাখতে হবে। বেশির ভাগ শিশুই বাইরের খাবারের প্রতি বেশি আকৃষ্ট হয়ে থাকে এবং ঘরের খাবারে আগ্রহ কম থাকে। শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইমিউনিটি বাড়ানোর জন্য সঠিক খাদ্যাভ্যাসে অভ্যস্ত করা জরুরি। যেসব খাবার শিশুর ইমিউনিটি বাড়াতে সাহায্য করবে

রঙিন ও সবুজ শাকসবজি এবং বিভিন্ন প্রকার মৌসুমি ফল: বেশির ভাগ শিশুই শাকসবজি খেতে চায় না। শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। পাশাপাশি বিভিন্ন ভিটামিন উপাদান রয়েছে, যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। যদি শিশুরা শাকসবজি খেতে না চায়, সে ক্ষেত্রে রান্নায় কিছু পরিবর্তন এবং বৈচিত্র্য আনতে হবে। শিশুর প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন ধরনের মৌসুমি ফল রাখার চেষ্টা করবেন, বিশেষ করে ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল। একই ফল প্রতিদিন না দিয়ে ফলের মধ্যেও কিছু বৈচিত্র্য নিয়ে আসুন। তাতে শিশুর আকর্ষণ বাড়বে। বিভিন্ন জাতীয় মাছ এবং মাংস: শিশুদের কখনও একই ধরনের মাছ এবং একই ধরনের মাংস খাওয়ানোর অভ্যাস করবেন না। চেষ্টা করবেন বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ এবং দেশীয় বিভিন্ন জাতের ছোট-বড় মাছ খাওয়াতে। মাংসের ক্ষেত্রেও শুধু মুরগি কিংবা শুধু গরুর মাংসে অভ্যস্ত না রেখে হাঁসের মাংস, কবুতরের মাংস, খাসির মাংস, কোয়েলের মাংস ইত্যাদিতে অভ্যস্ত করুন। কেননা, বড়দের যেমন একই খাবার প্রতিদিন খেতে ভালো লাগে না, শিশুদেরও ঠিক তেমনি প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্নতা বজায় রাখলে খাবারের প্রতি আগ্রহ বাড়বে।

ডিম : শিশুর দৈনিক খাবারের তালিকায় একটি করে ডিম সেদ্ধ প্রতিদিন রাখতে হবে। ডিমটি হাফ বয়েল না দিয়ে ফুল সেদ্ধ করে খাওয়াবেন। ডিম সেদ্ধ দেওয়ার সময় ডিমের খোসা ফেটে না যাওয়া পর্যন্ত ডিম সেদ্ধ করে নেবেন। কারণ এতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন ডি তৈরি হয়। ওটমিল, পিনাট বাটার, দুধ এবং টক দই: দুধ এবং টক দই বাচ্চারা সচরাচর খেতে চায় না। তাই দুধের সঙ্গে বিভিন্ন ধরনের বাদাম, কলা, ওটমিল, খেজুর ইত্যাদি মিশিয়ে মিল্কশেক তৈরি করে দিতে পারেন আর ফলের সঙ্গে টক দই মিক্সড করে ফলের সালাদ কিংবা ফলের জুস দিতে পারেন। এভাবে বাচ্চার রুচির পরিবর্তন হবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে। বিভিন্ন ধরনের বাদাম, আখরোট, কিশমিশ এবং খেজুর: শিশুদের এ খাবারগুলোর সঙ্গে অভ্যস্ত করে ফেলুন। কারণ এসব খাবার মস্তিষ্কের বিকাশের পাশাপাশি শিশুদের ইমিউনো সিস্টেমকে সচল রাখে।

আদা, তুলসীপাতা এবং মধু : বাসার সবাই যখন চা কিংবা কফি খান, সেই সময় বাচ্চাকে আদা, তুলসীপাতা ছেঁচা রস সঙ্গে সামান্য গরম পানি এবং তাতে এক চামচ পরিমাণ মধু দিয়ে এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ পানীয় দিতে পারেন। টিফিন: আজকাল জীবনযাত্রা সহজ করার জন্য বাচ্চাদের টিফিন বক্সে টিফিন তৈরি করে দেওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন প্রসেস ফুড এবং দোকান থেকে বিভিন্ন খাবার কিনে দেওয়া হয়। এসব খাবারে প্রচুর পরিমাণে এমএসজি অর্থাৎ মনোসোডিয়াম গ্লুটামেট থাকে, যা শিশুর শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকর এবং শিশুদের অভ্যন্তরীণ ইমিউনিটি সিস্টেমকে ধ্বংস করে দেয়। তাই বাচ্চাদের ডুবো তেলে ভাজা, অতিরিক্ত মসলাদার খাবার কখনোই দেবেন না। বরং তাদের সেদ্ধ এবং বেকড জাতীয় খাবার বাসায় তৈরি করে দিন। ফাস্টফুড: বাচ্চাদের পছন্দের তালিকায় সবচেয়ে প্রিয় খাবারগুলোই হচ্ছে ফাস্টফুডের খাবার। অতিরিক্ত মসলা এবং অতিরিক্ত তেল ছাড়া যে খাবারগুলো রয়েছে সেগুলো বাসায় তৈরি করে দেওয়ার চেষ্টা করুন। যেমন– পিৎজা, স্যান্ডউইচ, শর্মা, বার্গার, চাওমিন, পুডিং, বিভিন্ন ধরনের স্যুপ, মমো ইত্যাদি।  লেখক: পুষ্টিবিদ

আরও পড়ুন

×