ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

উৎসবে রঙিন

ফ্যাশন

উৎসবে রঙিন

আজহার মাহমুদ

প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০

দুর্গাপূজার মাত্র কয়েকদিন বাকি। মণ্ডপে মণ্ডপে ঘোরাঘুরি, আত্মীয় ও বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানোর এ সময়গুলোতে আরামদায়ক পোশাক পরুন। সেই সঙ্গে ছেলেরা বেছে নিন ফ্যাশনেবল ও স্টাইলিশ পোশাক। বিভিন্ন ব্র্যান্ড ও অনলাইনের পেজ থেকে প্রিয় পোশাক কিনতে পারেন। চাইলে অন্যবারের চেয়ে সাজে কিছুটা ভিন্নতাও আনতে পারেন। পাঞ্জাবি-ধুতির সঙ্গে কটি, ধুতির সঙ্গে ফতুয়া, শুধু পাঞ্জাবির সঙ্গে ধুতি, প্যাচওয়ার্কের ফতুয়া, ডিজিটাল প্রিন্টের কালারফুল হাফ হাতা শার্ট এখন ট্রেন্ডে আছে।

প্রকৃতির হিসেবে এখন হেমন্তকাল। দুর্গাপূজার সবকিছুতেই যেহেতু রঙের ছড়াছড়ি, সেহেতু ছেলেদের পোশাক নির্বাচনের ক্ষেত্রেও রংটা বেশি প্রাধান্য পেলেও এ আবহাওয়ার সঙ্গে মানানসই কাপড়ের দিকেও অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। পূজার ক্ষেত্রে ধুতি-পাঞ্জাবি-উত্তরীয় পুরুষদের জন্য ঐতিহ্যবাহী পোশাক হলেও এখনকার তরুণরা শুধু এসবের ভেতরেই আবদ্ধ থাকতে চাইছেন না। টি-শার্ট, শার্ট, প্যান্ট, ফতুয়াতেও নিজেদের উপস্থাপনে আগ্রহী এখনকার তরুণরা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে স্টাইল, ডিজাইন সবই পাল্টাচ্ছে। পাল্টাচ্ছে রুচি আর সাজও। এ বিষয়ে কথা বলেছেন মহাশয় ব্র্যান্ডের পরিচালক অনিক কুণ্ডু। এবারের পূজায় কোন ধরনের ডিজাইনকে প্রধান্য দিয়ে পোশাক এনেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এবারের পূজায় আমরা ছেলেদের জন্য কিছু পোশাক নিয়ে এসেছি। শার্ট, পাঞ্জাবি আর কটির রকমারি ডিজাইন আছে মহাশয়ে। এসবের সঙ্গে ধুতি, প্যান্ট, পায়জামা পরা যাবে। শারদীয় বলতে মূলত শরতের আবহকে বোঝানো হয়। যদিও এবারের পূজার মূল আয়োজন হেমন্তকালে পড়েছে তিথির কারণে। এ আবহে অবশ্যই কাপড়ের দিকটাও দেখতে হবে। কেমন কাপড় পরা উচিত আর পূজার সঙ্গে কেমন পোশাক মানানসই সেটিও দেখতে হবে। মহাশয়ের কালেকশনে এমন কাপড়ই রয়েছে, যা এ আবহের জন্য উপযুক্ত। মূলত কাপড়টা মানুষ পছন্দ করে তাদের আরামদায়ক হলে। সেটি দেখেই কাপড় কেনা উচিত– জানান অনিক কুণ্ডু।

মহাশয় ব্র্যান্ডের পূজার পোশাকের ডিজাইন সম্পর্কে এ পরিচালক বলেন, ‘পূজার ভাইবের জন্য আমরা বিভিন্ন ডিজাইন করেছি। পূজার যেসব মোটিফ আছে সেসব পোশাকে যোগ করেছি। কটিতে শারদীয় দুর্গার থিম, বিভিন্ন প্রিন্ট দেওয়া হয়েছে। আবার বিভিন্ন বিখ্যাত শিল্পীকে ট্রিবিউট করে শার্ট, টি-শার্ট ও পাঞ্জাবি করেছি। এছাড়াও আমরা বিভিন্ন পটচিত্র নিয়েও কাজ করেছি।’ পূজায় এসব পোশাকের সঙ্গে সাজও জরুরি। এজন্য চাইলে আরও বিভিন্ন অনুষঙ্গ ব্যবহার করতে পারেন ছেলেরা। পাঞ্জাবির সঙ্গে পায়জামা এবং ধুতি ভালো মানায়। তবে এখনকার তরুণদের অনেকেই আবার ধুতি পরতে চান না। সেক্ষেত্রে পাঞ্জাবির সঙ্গে মিলিয়ে পায়জামা পরতে পারেন। শার্টের সঙ্গে প্যান্ট ভালো মানায়। সেটি শার্ট হোক আর টি-শার্ট হোক। আবার পাঞ্জাবির সঙ্গে কটি পরলে আরও গর্জিয়াস দেখায়। পূজা মোটিফের ফতুয়া, আর বাহারি টি-শার্ট এই সময়ে তরুণদের বেশ আগ্রহের তুঙ্গে থাকে। মজার বিষয় হচ্ছে, অনেক তরুণ ধুতির কোঁচা সামলাতে হিমশিম খান। তাই সেলাই করা ধুতিও এখন বাজারে পাওয়া যায়। এছাড়াও এক কালারের পাঞ্জাবি আর পায়জামার সঙ্গে একটি সুন্দর উত্তরীয় থাকলে পোশাকের সাজটা আরও দারুণ দেখাবে। অনেকেই টি-শার্ট, শার্ট, ফতুয়া এসব পরলে সঙ্গে গলায় চেইন, হাতে ব্রেসলেট, ঘড়ি এসবও স্টাইলের অনুষঙ্গ হিসেবে পরতে পারেন।

একই সঙ্গে পূজার বেলায়ও পাঞ্জাবির সঙ্গে অবশ্যই দুই ফিতার জুতা পরলে বেশি মানানসই দেখায়। তবে অনেকে চাইলে বেল্টের জুতাও পরতে পারেন। আবার কটি ব্যবহার করলে তখন শু পরলে বেশি ভালো দেখায়। শার্ট, টি-শার্টের বেলায় আবার যে কোনো মানানসই জুতাতেই সুন্দর লাগে। এক্ষেত্রে পোশাকের সঙ্গে মিলিয়ে নিলে বেশি ভালো হয়। যদি পূজায় মণ্ডপে মণ্ডপে বেশি ঘোরাঘুরি হয়, তাহলে শু ব্যবহার করা ভালো।

শুধু তা-ই নয়, অনেকেই পূজার এ সময়ে একেকদিন একেক সাজ দেন সেটিও পূজার দিনগুলোর সঙ্গে মিলিয়ে। এই যেমন সপ্তমীতে ক্যাজুয়াল পোশাক পরতে পারেন। শার্ট, প্যান্ট, মানানসই ঘড়ি এসব। আবার অষ্টমীতে পাঞ্জাবি পরাটাই বেশ ভালো। নবমীতে জমকালো পোশাক পরা যায়। যেমন ব্লেজার, কটি, শেরওয়ানিও পরতে পারেন। দশমীতেও পাঞ্জাবি, পায়জামা পরলে ভালো দেখায়। এদিন যেহেতু মন খারাপের দিন, তাই সাদা রঙের পাঞ্জাবি-পায়জামা সবচেয়ে ভালো জমবে। সঙ্গে কনট্রাস্ট করে একটি দোপাট্টা জড়িয়ে নিন গলায়।  মডেল: রাকেশ; ছবি: রেজাউল; কৃতজ্ঞতা: মহাশয়

আরও পড়ুন

×