ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

নিজেকে ভুললেও ভুলি না কাজের কথা

নিজেকে ভুললেও ভুলি না কাজের কথা

মাইক লিবেক

প্রকাশ: ২৮ অক্টোবর ২০২৩ | ১৮:০০

মাইক লিবেক। বিশ্বের আলোচিত সফল অভিযাত্রীদের একজন। পরিপূর্ণ অনুসন্ধানী বলতে যা বোঝায়, তার সবই আছে মাইক লিবেকের মধ্যে। অসংখ্য অভিযান সম্পন্ন করার তকমা গায়ে মাখা এই স্বপ্নবাজের বিভিন্ন সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণার কথা লিখেছেন মোহাম্মদ শাহনেওয়াজ

পরিপূর্ণ অনুসন্ধানী বলতে যা বোঝায়, তার সবই আছে মাইক লিবেকের মধ্যে। নতুনত্ব প্রতিনিয়ত তাকে ‘আয় আয়’ ডাকে। এই ডাকে সাড়া দিয়ে এ পর্যন্ত প্রায় ৫০টি অভিযান পরিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করার তকমা গায়ে মেখেছেন লিবেক। শুরু থেকেই অনুসন্ধানের নেশা তাকে বেশ ভালোভাবে পেয়ে বসে। তবে ২০১২ সালটা তাকে আরও বেশি টালমাটাল করে দেয়। তার ভাষায়, ‘২০১২ সালই হচ্ছে আমার সবচেয়ে ব্যস্ততার বছর।’ ২০১২ সালের শীত তখন ঘনিয়ে আসছিল। এই শীতকে অভিবাদন জানিয়ে লিবেক নিজের সঙ্গে রীতিমত যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েন।

২ হাজার ফুট উঁচু প্রাচীর জয়

‘পশ্চিম কালিমান্তোন’ একটি সুপ্রাচীন প্রাচীর। সেই প্রাচীরের গায়ে লেগে থাকা কাদা কেটে ২ হাজার ফুট উঁচু প্রাচীর জয় করে ফেলেন ৩৯ বছর বয়সী লিবেক। তাছাড়া স্নোবের্ডের মাধ্যমে তিনি আফগানিস্তানের দুর্গম ও ধসপ্রবণ ‘কোহ-ই বাবা’ পর্বতও জয় করেন। বলাবাহুল্য, তিনিই সেখানে পা রাখা প্রথম অভিযাত্রী। আফগানিস্তানের নাম শুনলে যেখানে অনেক অভিযাত্রী আঁতকে ওঠেন, সেই অফগানিস্তানে লিবেক যান সাহসিকতায় ভর করে। ‘ডেম কেয়ার’ ভাব নিয়ে জয় করেন ‘কোহ-ই বাবা’। তালেবানদের নিশ্ছিদ্র আর বিনিদ্র পাহারা লেগে থাকে সেখানে রাতের আঁধারেও। লিবেক সেসব উপেক্ষা করে ঘুড়িও উড়িয়েছিলেন কোহ-ই বাবায়। গ্রীষ্মের চক্কর খাওয়া হাওয়ায় লিবেক ছিলেন ফ্রাঞ্জ জোসেফ ল্যান্ডে। রাশিয়ার দক্ষিণের সেই দ্বীপটিও তাকে টেনে নেয়। অনুসন্ধানী লিবেক উদ্দামতায় ভর করে অনেকটা দাঁড়িয়ে হেসেখেলে সেই দ্বীপের সর্বোচ্চ চূড়া ছুঁয়ে আসেন। তার সেই অসীম সাহসিকতা দেখে রীতিমতো অবাক হয়েছেন অনেক ঝানু অভিযাত্রীও।

জাঙ্গল মাইহাম ও ফিলিপাইন পর্বতমালার প্রস্তুতি

সে বছরের আগস্টে এসে, গ্রিনল্যান্ডের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূল ধরে ছুটে চলেন লিবেক। সেখানে তিনি তাঁর সহ্যশক্তির পরীক্ষা দেন টানা ষাট ঘণ্টা পরিশ্রম করে। অবশেষে পৌঁছেন লক্ষ্যে। অর্থাৎ, ‘জাঙ্গল মাইহাম’ বা জঙ্গল বেষ্টিত চূড়ায় ওঠেন তিনি। এটি মূলত তাঁর ফিলিপাইন পর্বতমালায় ওঠার পূর্বপ্রস্তুতি ছিল।

তবুও এন্টার্কটিকা...

একের পর এক অভিযান চালানো লিবেকের কাছে সেরা অভিযানের কথা জানতে চাইলে তিনি বরাবরই সামনে রাখেন এন্টার্কটিকাকে। তাঁর বিস্ময়কর সাফল্য হচ্ছে এন্টার্কটিকার ‘কুইন মাড ল্যান্ড’ অনুসন্ধান। সেখানে ঊর্ধ্বগামী শিলা আর প্রাচীন বরফের মুখোমুখি হন তিনি। তাদের কেটে কেটে ছুটে চলা লিবেকের কাছে নতুন বিস্ময় হিসেবে ধরা দেয়। এজন্যই একের পর এক অভিযানে বের হন লিবেক। অনুসন্ধানের নেশা তাঁকে দেয়ালবন্দি করে রাখতে পারে না।

সাফল্যের গোপন মন্ত্র

লিবেকের কাছে তাঁর সাফল্যের গোপন মন্ত্র জানতে চাওয়া হলে বলেন, ‘আমি অভিযানকে সবসময় সৃষ্টিশীল মনে করি। আর আমার অদম্য ইচ্ছে এবং দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রবণতাও অভিযানের দিকে আমায় উস্কে দেয়।’ সত্যিই তাই, এসবে ভর করেই লিবেক ইতোমধ্যে অনেক সাফল্য পেয়েছেন। সাহসিকতায় ভর করে তিনি দুঃসাহসিক সব সিদ্ধান্ত নিয়ে নিতে পারেন অনায়াসেই। অভিযানের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নেওয়াটাই অনেক বড় ব্যাপার। আর লিবেক তা নিতে পারেন অন্য অনেক অভিযাত্রীর চেয়ে দ্রুততার পিঠে চড়ে। নিজের সম্পর্কে বলতে গিয়ে লিবেক বলেন, ‘মাঝেমধ্যে আমি সময়ের কথা ভুলে যাই। তবে কখনও ভুলি না আমার অনুসন্ধানী কাজের কথা। এটা আসলে আমার ডিএনএর মধ্যে মিশে আছে।’ n

আরও পড়ুন

×