ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

শিলার হেঁশেল থেকে গ্রাহকের পাতে

শিলার হেঁশেল থেকে গ্রাহকের পাতে

তাহমিনা শিলা

লাবণী মণ্ডল

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:২১ | আপডেট: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০১:৩৩

তাহমিনা শিলার জন্মস্থান রাজবাড়ী জেলায়, সেখানেই বেড়ে ওঠা। মায়ের হাতে তাঁর রান্নার হাতেখড়ি। যে যত্ন নিয়ে তাঁর মা রান্না করতেন, সেটিই শিলার প্রেরণা। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকেই রান্না নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করতে পছন্দ করতেন। তখন ইউটিউব ছিল না। পত্রিকায় পাওয়া নতুন নতুন রান্নার রেসিপি বাসায় বসে নিজে নিজে রান্নার চেষ্টা করতেন। সবাইকে নিজের রান্না খাওয়াতে ভালো লাগতো তাঁর। নতুন রেসিপিগুলো ঘরে প্রশংসিত হওয়ার পর শিলার আত্মবিশ্বাস বাড়ে। বিয়ের পর স্বামীর উৎসাহে তিনি বেইলি রোডের মহিলা সমিতি থেকে রান্নার বিভিন্ন কোর্স করেন। রান্না নিয়ে একটা কিছু করার চিন্তা আগে থেকেই মাথায় ছিল। ২০২০ সালের করোনাকালে একটা রান্নার পেইজ খোলেন। এর মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাঁর নতুনের পথে পথচলা। তিনি পছন্দের কাজ রান্নাকেই পেশা হিসেবে নিয়ে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেন। বিভিন্ন অনুষ্ঠান বা অফিসে রান্না করা খাবার সরবরাহ করার কাজ শুরু করেন।

এ প্রসঙ্গে শিলা বলেন, ‘‘আমার রান্নাঘর থেকে সরাসরি গ্রাহকের পাতে নির্ভেজাল এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পৌঁছে দেওয়াই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য ছিল। তাই এই উদ্যোগটির নাম ‘শিলার হেঁশেল’।’’ তিনি আরও বলেন, ‘এই পেশায় এসে আমি একটাই কথা ভেবেছিলাম যে, আমি যা খাই, সেটিই গ্রাহককে দেব। সেটি হবে টাটকা, স্বাস্থ্যসম্মত ও সুস্বাদু। গ্রাহকের অর্ডার পাওয়ার পরই আমি নিজে বাজার করে রান্না করি কোনো বাসি বা ফ্রোজেন খাবার কাউকে দিই না।’

শিলা জানান, তাঁর উদ্যোগের সব কাজ নিজ হাতেই করে থাকেন। পেইজে গ্রাহকদের প্রশ্নের উত্তরও তিনিই দেন। তবে মাঝে মধ্যে গ্রাহকদের কাছে সঠিক সময়ে খাবার পৌঁছে দেওয়া নিয়ে একটু সমস্যায় পড়তে হয়। শিলা বলেন, ‘যেহেতু নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় ডেলিভারি করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই আমাকে সব সময় তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভরশীল হতে হয়। এ কারণে সময় অনুযায়ী গ্রাহকের কাছে খাবার পৌঁছাতে মাঝে মাঝে সমস্যা হয়ে পড়ে।’ তবে পরিবারের কাছ থেকে সম্পূর্ণ সহযোগিতা পাচ্ছেন তাহমিনা শিলা। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আমার পরিবারই আমাকে সবচেয়ে বেশি সহায়তা এবং উৎসাহ প্রদান করেছে।’

মূলত বাঙালি খাবার রান্না করে সরবরাহ করেন শিলা। তবে ফ্রোজেন ফুড, পিঠা, মোগলাই, চাইনিজ এবং বিভিন্ন স্ন্যাক্স আইটেমও রয়েছে তাঁর হেঁশেলে। তবে ফ্রোজেন ফুড ও বাঙালি খাবারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। ‘শিলার হেঁশেল’-এর স্লোগান হলো- ‘একবার স্বাদ নিন দ্বিতীয়বার আসতে বাধ্য’। এই রিপিট কাস্টমারই এ উদ্যোগের মূল ভিত্তি বলে জানান শিলা। তিনি বলেন, ‘আমি বিভিন্ন মেলায় অংশগ্রহণ করেছি, সেসব জায়গায় খুবই সাড়া পেয়েছি। বিভিন্ন অফিসে, ডাক্তারদের রিইউনিয়নে, জন্মদিনের অনুষ্ঠানে, বর্তমানে বিভিন্ন অফিসে প্রতিদিনের খাবার সরবরাহ করে থাকি। আমি খাবার দিয়েছিলাম এমন এক অফিসে ক্যান্টিন খোলার অফারও পেয়েছি।’
নতুন উদ্যোক্তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘স্বপ্ন থাকতে হবে, স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার জন্য ধৈর্য সহকারে লেগে থাকতে হবে। তবেই ভালো কিছু করা সম্ভব। সব বাধা পেরিয়ে নিজের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার অদম্য ইচ্ছা থাকতে হবে এবং সব সময় গ্রাহককে ভেজালমুক্ত জিনিস দিতে হবে। গ্রাহকের চাহিদাকে প্রাধান্য দিতে হবে। কোনো কিছুর পেছনে শ্রম দিলে সফলতা আসতে বাধ্য।’

অনলাইনে পাওয়া অর্ডার থেকে সব খরচ বাদ দিয়ে এখন তাহমিনা শিলার প্রতি মাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকার মতো আয় হয়ে থাকে। তবে শিলার স্বপ্নটা অনেক বড়। নিজের একটি রেস্তোরাঁ খোলার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। এ উদ্যোক্তার স্বপ্ন ‘শিলার হেঁশেল’ নামটি একদিন দেশের আনাচে-কানাচে পৌঁছে যাবে। নির্ভেজাল সুস্বাদু এবং স্বাস্থ্যসম্মত খাবার এর জন্য এ নামটি যেন সবার মনে জায়গা করে নিতে পারে– এটিই তাঁর প্রত্যাশা। v

আরও পড়ুন

×