ঢাকা বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

প্রেরণা

প্রতিদ্বন্দ্বিতা হোক নিজের বিরুদ্ধে

প্রতিদ্বন্দ্বিতা হোক নিজের বিরুদ্ধে

জস ডিউক

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:৩৯

আমি পক্ষাঘাতগ্রস্ত প্রথম স্কিয়ার যে কিনা উল্টোভাবে ব্যাকফ্লিপ করে মাটিতে অবতরণ করে আর আবিষ্কার করে, বসে থেকে স্কিতে কী কী করা সম্ভব। আসলে আমাদের সবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে টিকে থাকতে হয় নিজেদের অসামর্থ্যের বিরুদ্ধে, নিজ নিজ চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে, এটা হতে পারে শারীরিক, মানসিক বা আবিষ্কার। এটি অনেকটা একান্তই নিজের অভিযান।
মৃত্যু ও সাহসকিতা 
২০১২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার হুইসলারের বাইরে পাউডার মাউন্টেন ক্যাটসস্কিংয়ের ওপর থেকে মস্ত এক লাফ দিই। সেদিন আমি ঠিকই আমার অনুভূতি শুনতে পেরে সঠিক কাজটি করতে পেরেছি। আমি কি প্রস্তুত? পারব ঠিক জায়গায় নামতে? যেখান থেকে লাফ দিচ্ছি, সেটি নিরাপদ তো? এমন সব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে চিন্তা করতে হয়েছে আমাকে। বন্ধু, ফ্রি-স্কিয়ার কিংবদন্তি সারাহ বার্ক মাত্র দিন কয়েক আগেই পার্ক সিটিতে স্কি অ্যাক্সিডেন্টে আঘাতে মারা যান। সারাহর স্বামী রোরি বুশফিল্ড বন্ধুর মতো এসেছিলেন আমাকে উৎসাহ দিতে। 
সাহসী, বেপরোয়া এবং অতিমানবিক...
কিছুক্ষণ পরেই প্রস্তুতি সেরে, লক্ষ্যে নজর রেখে, ৪০ পাউন্ডের স্কি করার জিনিসপত্র লাগিয়ে, দু’হাত পেছন থেকে সামনে এনে সাঁই করে উড়াল দিই ল্যান্ডিং টার্গেটের দিকে; উড়ন্ত অবস্থায়ই  ডিগবাজি দিলাম। এর সঙ্গে প্রথম পঙ্গু-স্কিয়ার হিসেবে উল্টো লাফে ল্যান্ড করে ইতিহাসে নাম লিখিয়ে ফেললাম।  ওই দিন এ কাজটা আরও  ছয়বার করে দেখিয়েছি আমি। এক কথায় কাজটা ছিল সাহসী, বেপরোয়া; আবার একই সঙ্গে অতিমানবিক। এর ভিডিও ফুটেজ ইউটিউবের কল্যাণে দুনিয়াজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি বিখ্যাত টিভি প্রযোজক এলেন ডিজেনারস আমাকে উপহার দেন নকশা করা পর্বতারোহীদের বিশেষ পার্কা জ্যাকেট।
পা হারানোর দিন... 
২০০৪ সালে ব্রিটিশ কলাম্বিয়ার সিলভার স্টার রিসোর্টে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন গতি হারিয়ে এক দুর্ঘটনায় প্রায় ১০০ ফুট ওপর থেকে পড়ে গিয়ে বুকে আঘাত পাই। জ্ঞান ফিরলে দেখি, আমার দু’পায়ের শক্তি হারিয়ে গেছে।    
বাস্তব গন্তব্য ও দ্বিগুণ শক্তিতে ফেরা
ভেতর থেকে আমি জানতাম, এটি ছিল খারাপ একটা আইডিয়া। আমি বলব না, আমি জানতাম কী হবে; কিন্তু সব লক্ষণই হাজির ছিল। আমার অহংবোধ আমার অনুভূতিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল তখন। বাস্তবতা হচ্ছে, আমার বাকি জীবন হুইলচেয়ারে কাটাতে বাধ্য; কিন্তু না। আমি স্কিয়িংয়ের প্রতি ভালোবাসা দ্বিগুণ করে ফেলেছি। এক বছর বসে থেকে ফের স্কি শুরু করি। ২০১০ সালে, কানাডায় হুইসলারে প্যারাঅলিম্পিকে রুপার মেডেল জিতি। পরের বছর মনো স্কি এক্স গেমসে জিতি সোনার মেডেল। যদিও আজীবন পঙ্গু হয়ে গেছি, তবু প্রতিযোগিতার বাইরের স্কির প্রতি আমার ভালোবাসা অক্ষুণ্ন রয়েছে। 
জীবনে মজাটা ধরে রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি আমি। এটা অন্যদের উদ্বুদ্ধ করছে– জানাটা অসাধারণ। যদি আমার গল্প জেনে কেউ তাদের চ্যালেঞ্জে জেতে তবে আমার আসলেই ভালো লাগবে আর মনে হবে আমি ভালো কিছু করছি। n

আরও পড়ুন

×