ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

চাকরি ছেড়ে ব্যবসা লাখের ওপরে আয়

চাকরি ছেড়ে ব্যবসা লাখের ওপরে আয়

শামসুল করিম কাউসার ও ওপরে পরে তাঁর হোম ডেকোর পণ্য... 3 ছবি : সংগ্রহ

রিক্তা রিচি

প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৩ | ০০:৪৭

ছিলেন একটি পেস্ট্রি শপের বারিস্তা-কফি মেকার। সেখান থেকে হয়ে উঠেছেন সফল উদ্যোক্তা। ত্রিশ বছর বয়সেই মাসে আয় করছেন লাখ টাকার ওপরে। কীভাবে? চলুন, সেই গল্প শুনি– করোনার ভয়াল থাবায়  বিভিন্ন কোম্পানি কর্মী ছাঁটাই করছিল; এ বাস্তব সত্য সবারই দেখা। অনেকের মতো তখন চাকরি হারানোর ভয় ঢুকেছিল ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার শামসুল করিম কাউসারের মনেও। তখনই চাকরির পাশাপাশি নিজে কিছু করার বাসনা জেঁকে বসে তাঁর মনে। শুরু করেন হোম ডেকোর পণ্যের খোঁজ। অনলাইনে ‘আর্ট অ্যান্ড ডেকোর’ পেজ খুলে শুরু করেন ব্যবসা। সঙ্গে ছিলেন বন্ধু মুহসীন আল ফারাবি। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। একসময় চাকরি ছেড়ে পুরোপুরি মন দেন নিজেদের প্রতিষ্ঠানে। ফলও পেতে থাকেন। ঘর সাজানোর বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করে মাত্র তিন-চার বছরে ব্যবধানে মাসে লাখ টাকা আয়ে পৌঁছান এই তরুণ। 
শুরুর কথা জানতে চাইলে শামসুল করিম কাউসার বলেন, ‘শুরুটা ছিল খুবই কষ্টের। সারাদিন চাকরি করে সন্ধ্যার পর হোম ডেকোর পণ্য কোথায় ভালো পাওয়া যায় তা খুঁজতাম। একসময় মোহাম্মদপুরে এক দোকানের খোঁজ পাই। পেয়েও পড়ে যাই ঝামেলায়। বিক্রেতা জানান, পাইকারি দামে পণ্য নিলে একসঙ্গে ৩০ হাজার টাকার পণ্য নিতে হবে। তখন আমি চাকরি করতাম। একসঙ্গে এত টাকা জোগাড় করা কঠিন ছিল। তবে হাল ছাড়িনি। এগারো হাজার টাকা জোগাড় করে পণ্য অর্ডার করলাম। সেসব পণ্যের ছবি ফেসবুক পেজে পোস্ট করে বুস্ট করি। এভাবেই শুরু। তবে ফেসবুকে বুস্ট করেও কোনো অর্ডার পাচ্ছিলাম না।  পরে জানতে পারি যাদের কাছ থেকে পণ্য নিয়েছি তারা আমাকে পাইকারি দামে নয়, খুচরা দামে পণ্য দিয়েছে। তারপর অন্য কারখানা খুঁজে বের করলাম। নতুন করে ফের শুরু করলাম।’
এর আগেও কাউসার ব্যবসার চেষ্টা করেছিলেন। টি-শার্ট, পোলো শার্ট, শার্ট নিয়ে শুরু করেছিলেন উদ্যোগ। সুবিধা করতে পারেননি।  পরে থেমে যান।
সে যাক, আগের ব্যর্থতার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে ব্যবসায় মনোযোগ দেন কাউসার। বাড়ান বিনিয়োগ। ফলে অর্ডার বাড়তে থাকলো। এক সময় কারখানা দিয়ে দেন। এখন কারখানার পাশাপাশি একটি শোরুমও আছে তাঁর। কাউসার বলেন, ‘ব্যবসায় ঝুঁকি বেশি থাকলেও, পরিশ্রম করার মানসিকতা থাকলে এগিয়ে যাওয়া যায়। আমি প্রয়োজন ও শখ থেকে কাজ শুরু করেছি এবং সফলতার পথে হাঁটছি। আমি মনে করি অদম্য ইচ্ছা, সাহস, ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা, পরিশ্রম করার সক্ষমতা  থাকলে, যে কেউ এ ব্যবসায়ে আসতে পারবেন।’

আরও পড়ুন

×