ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪

দেশে মরুর গোলাপ

দেশে মরুর গোলাপ

বিরল প্রজাতির অনেক অ্যাডেনিয়াম রয়েছে মারুফ হাসানের সংগ্রহে

মুহাম্মদ শফিকুর রহমান

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৪ | ০৭:৫১

মারুফ হাসান স্নাতকোত্তর পাস করেছেন সমাজকল্যাণ বিভাগে। এখন একটি কলেজে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত আছেন। স্মৃতিচারণ করে মারুফ জানান, তরুণ বয়সে নানা কারণে তিনি হতাশা ও নেশাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। মানুষ কোথায় সাহায্য করবে তা না; নানা রকম কথা বলত। এক পর্যায়ে তিনি নিজেকে গুটিয়ে নেন। বাসার ছাদে কিছু মৌসুমি গাছ এবং ১২টির মতো গোলাপ গাছ দিয়ে বাগান শুরু করেন। বাগান তাঁকে মানসিক প্রশান্তি, স্বস্তি এনে দেয়। তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন।

তবে হতাশা থেকে ফিরে আসার পথে বাগানের সেই অবদান তিনি ভোলেননি। এখন জয়পুরহাটে তাঁর ছাদবাগানে মোট গাছের সংখ্যা প্রায় ১১ হাজার। এর মধ্যে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় দশ হাজার আছে অ্যাডেনিয়াম। অ্যাডেনিয়ামকে বলা হয় মরুর গোলাপ। 

অ্যাডেনিয়ামকে বেছে নেওয়া সম্পর্কে মারুফ জানান, চিকিৎসার জন্য একবার তাঁকে ৩০ দিন ঢাকায় থাকতে হয়। ঢাকায় যাওয়ার আগে তিনি বাগানে ৭০ প্রজাতির গোলাপ, ৫টির মতো অ্যাডেনিয়াম রেখে যান। বাসায় এসে দেখেন সব গোলাপ গাছ শুকিয়ে মরে গেছে। অন্যদিকে ৫টি অ্যাডেনিয়ামেই ফুল ফুটে আছে। মারুফ বলেন, ‘অপূর্ব সে দৃশ্য! এই দৃশ্যটা আমি বলে বোঝাতে পারব না। তখন আমি আবার নতুন করে বাগান শুরু করলাম এবং অ্যাডেনিয়ামকেই বেছে নিলাম।’

বাংলাদেশে শৌখিন বাগানপ্রেমীর কাছে কমবেশি অ্যাডেনিয়াম আছে। তবে মারুফের মতো সংগ্রহ খুব বেশি নেই। মারুফ জানান, অ্যাডেনিয়ামের ৪৫০টির মতো প্রজাতি তাঁর কাছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো– পার্সিয়ান ক্যাট, এনজেলা, লিপ প্রিন্ট, এম্পসুপ, মোয়ানা, ব্ল্যাক সোয়ান, ব্ল্যাক লাভার, ব্রাউন ব্ল্যাক, ব্ল্যাক চার্ম, ব্ল্যাক বিউটি, প্রায় ৩০ ভ্যারাইটির এরাবিকাম, সোয়াজিকাম, সোমালেন্সি, ক্রিস্পাম, ক্রিম ম্যার্বন, পার্পল হানি, পার্পল রেইন ইত্যাদি।

ছোট-বড় সব মিলিয়ে কেবল অ্যাডেনিয়ামের সংখ্যাই হবে প্রায় দশ হাজার। এ ছাড়া তিনি ইনডোর প্লান্ট, ক্যাকটাস, কাঠগোলাপ, লিলি, বাগানবিলাসের বেশ কিছু দুর্লভ প্রজাতি রেখেছেন। এগুলোর সংখ্যা সাত শতাধিক বলে জানান তিনি। মারুফের বাগানের আয়তন হচ্ছে দুটো ছাদ মিলিয়ে প্রায় ২ হাজার ৮০০ বর্গফুট। আছে দুই হাজারের কাছাকাছি টব, ড্রাম ও প্লাস্টিকের বোতল, পুরোনো বালতি, গামলা, ক্রেট ইত্যাদি। একদম শখ থেকে শুরু হলেও, এখন মাসে গড়ে হাজার পঁচিশেক টাকার গাছ তিনি বিক্রি করেন। ৫০ হাজার টাকা দামের গাছও তাঁর কাছে আছে বলে জানান।

জয়পুরহাট শহরে তাঁর এই দৃষ্টিনন্দন বাগান দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে গাছপ্রেমীরা আসেন। তারা শুধু দেখেন ব্যাপারটা একদমই তা নয়। বরং হাতেকলমে অনেক শিক্ষা পান। বাস্তবে দেখিয়ে মারুফ তাদের সমস্যার সমাধানের পথ বাতলে দেন।

অ্যাডেনিয়াম নিয়ে মানুষের মধ্যে বিচিত্র সব ধারণা আছে। মারুফ জানান, কেউ মনে করে এই গাছ দিয়ে জাদু করা হয়। কেউবা ঔষধি গাছ ভেবে ভুল করেন। তবে এ কাজে তিনি বরাবরই স্ত্রী, সন্তানদের সমর্থন পেয়ে আসছেন। তাদের সমর্থন ছাড়া এভাবে বাগান করা সম্ভব হতো না বলে জানান মারুফ। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘যত দিন বেঁচে আছি, গাছপালা নিয়ে থাকতে চাই। এই আনন্দ নিতে চাই।’ 

মারুফ যখন অ্যাডেনিয়ামের বাগান শুরু করেন, তখন ফেসবুক, ইউটিউব ছিল না। ভুল করেছেন। ভুল থেকে তিনি শিখেছেন। অ্যাডেনিয়ামে আগ্রহীদের জন্য তিনি এখন বিভিন্ন ভিডিও টিপস আপলোড করেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ‘প্লান্ট এক্সচেঞ্জ অ্যান্ড কেয়ার’ নামের একটি গ্রুপের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে যুক্ত আছেন। এ গ্রুপটির সদস্য সংখ্যা এক লাখ ৯৩ হাজার। 

আরও পড়ুন

×