বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেকই নারী হলেও, নারী প্রতিনিধিরা আজও বৈষম্যের শিকার। ইউনিয়ন পরিষদে নারী জনপ্রতিনিধিদের সমান ও ন্যায্য অংশীদারিত্ব নিশ্চিত হয়নি আজও। কাগজে-কলমে নারীর ক্ষমতায়নে বাংলাদেশ অনেকটা এগোলেও পুরোটা বাস্তবায়ন এখনও অনেক বাকি। এ ক্ষেত্রে নারী প্রতিনিধিদের সুবিধা হলো, তারা কোনো অকাজের সঙ্গে জড়াচ্ছেন না। বর্তমান অবস্থায় রাজনীতিবিদরা যাদের ক্ষমতা রয়েছে তারাই কিছু করছেন। অন্যরা বঞ্চিত হয়ে পড়ছেন। স্থানীয় সরকার পরিষদ সিস্টেম ঠিকমতো কাজ না করলে সেখানে বিচ্ছিন্নভাবে নারীদের ক্ষমতায়ন করা সম্ভব নয়।

বর্তমান স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সিটি করপোরেশন থেকে শুরু করে উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদে নারীকে সরাসরি নির্বাচনের ব্যবস্থা রয়েছে। অথচ নারীরা ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হলেও মূলত তাদের কোনো গুরুত্বপূর্ণ কাজ দেওয়া হয় না। তারা জানেনও না পরিষদে তাদের সুনির্দিষ্ট ভূমিকা কী। অথচ নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান ও নানা প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোট নিতে হয়েছে। কিন্তু নির্বাচনের পর কাজ করতে গিয়ে দেখা যায় জনগণের জন্য তাদের কোনো কাজ নেই। পরিষদে নারীর অবস্থান 'নেই কাজ তো খই ভাজের মতো'। নির্বাচিত হওয়ার পর নারী সদস্যদের কাজ না থাকায় গুরুত্ব থাকছে না। ফলে জনগণও মূল্যায়ন করছে না।

এফিশিয়েন্ট অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেবল লোকাল গভর্নমেন্ট (ইএএলজি) বা কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক স্থানীয় সরকার প্রকল্প বাস্তবায়নের কারণে বেশকিছু এলাকায় সুফল মিলছে। এ প্রকল্পের কারণে নারীর ক্ষমতায়নে কিছু অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন হয়েছে। সেই দৃষ্টান্তগুলো সরকার সারাদেশের ইউনিয়ন ও উপজেলা পরিষদে ছড়িয়ে দিতে পারে। তৃণমূল পর্যায়েও নারীর পূর্ণ ক্ষমতায়নে শিক্ষিত নারীর অংশগ্রহণের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার কাঠামোয় পরিবর্তন আনা জরুরি। কারণ নারীদের বাদ রেখে উন্নয়ন সম্ভব নয়। ভোটে নির্বাচিত নারীদের মূল্যায়ন না করলে জনগণ বঞ্চিত হবে।