চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদে হিলভিউ আবাসিক এলাকায় বাড়ির ছাদে মিলল হলুদ পদ্ম! একপাশে জলজ উদ্ভিদ 'মোজাইক প্লান্ট', অন্যপাশে মেক্সিকান 'সোর্ড লিলি' সঙ্গ দিয়ে যাচ্ছে সেই পদ্মকে। বিশাল ছাদের একপাশে জলজ উদ্ভিদগুলো মাথা উঁচু করে নিজের অস্তিত্ব জানান দিচ্ছে। অবশ্য ছাদটি শুধু তিন জাতের জলজ উদ্ভিদ নয়, দেশ-বিদেশের আড়াই হাজার গাছ আর ফুলের মেলায় পরিণত হয়েছে। বিশেষভাবে তৈরি করা ছাদে গ্রিনহাউস কক্ষে মরুর দেশের ৫০ জাতের এডেনিয়াম গাছ। একেকটি এডেনিয়াম গাছে রং-বেরঙের ফুল আর ফুল।

আরেকটি কক্ষে ৮০ ধরনের কাটামুকুট সারি সারি করে সাজিয়ে রাখা হয়েছে। লাল, নীল, সবুজ, সাদা গোলাপ নজরকাড়া ফুলে সেজে রয়েছে কাটামুকুটের রাজ্য। তার পাশে ক্যাকটাসের জগৎ। সেখানে ৭০ প্রজাতির ক্যাকটাস তৈরি করেছে বাড়তি আকর্ষণ।
শখের বশে ছাদের এই বাগান গড়তে শুরু করেছিলেন মোহাম্মদ আততাওয়াবুল ইসলাম। তবে এখন সেই শখের বাগানই তার জীবনে এনে দিয়েছে সফলতার গল্প।

আততাওয়াবুল ইসলাম সমকালকে বলেন, চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে মেকানিক্যাল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে চট্টগ্রামের একটি বড় কোম্পানিতে চাকরি শুরু করি। কয়েক বছর ভালোই চাকরি করি। কিন্তু করোনার থাবায় চাকরিটি চলে যায়। মা, স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়ে যাই। তখনই শখের ছাদবাগান আমার জীবনকে বদলে দেয়। বাগানটিই হয়ে ওঠে আমার জীবিকার একমাত্র মাধ্যম। এখন ছাদবাগানই আমার পেশা ও নেশা। বিরল প্রজাতির গাছ থেকে কাটিং পদ্ধতিতে নতুন নতুন চারা তৈরি করে তা বাজারে সুলভ মূল্যে বিক্রি করছি। নগরের হিলভিউ আবাসিক এলাকার এ ব্লকের ২ নম্বর রোডের ২৩ নম্বর দ্বিতল বাসার ছাদেই গড়ে উঠেছে বৈচিত্র্যে ভরপুর ছাদবাগানটি। ২০০৫ সালে ১৫ থেকে ২০টি সাধারণ গাছ দিয়ে ছাদবাগানের যাত্রা শুরু করেন আততাওয়াবুল। তখন চট্টগ্রামে তেমন একটা ছাদবাগান কেউ করতেন না। ২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত মাঝেমধ্যে বাগানে যেতেন। মন চাইলে করতেন গাছের পরিচর্যা। সবটাই ছিল ইচ্ছানির্ভর। পড়াশোনা শেষ করে ২০১১ সাল থেকে চাকরিতে যোগদান করেন। প্রায় ১০ বছর ভালোই চাকরি করেন। চাকরি করার সময় বিকেলে ছাদে এক থেকে দুই ঘণ্টা সময় দিতেন গাছ ও প্রকৃতিকে ভালোবাসা থেকে। চাকরি যাওয়ার পর ছাদবাগানে পুরো সময় দিতে শুরু করেন তিনি। কাটিং করে বাড়াতে থাকেন দেশি-বিদেশি প্রজাতির গাছের সংখ্যা। এখন তার বাগানে আছে আড়াই হাজার দেশি-বিদেশি প্রজাতির গাছ। তার মধ্যে আড়াইশ বিরল প্রজাতির গাছও রয়েছে।ছাদের 'পুকুরে' বিলের বিরল হলুদ পদ্ম     সমকাল
ছাদবাগানে বিদেশি গাছের মধ্যে ফিলিপাইনের লাল মুছেন্দা, রেড পেন্ডা, ইয়েলো পেন্ডা, ব্ল্যাক পেন্ডা, ব্লিডিং হার্ট, নয়নতারা, জারবেরা, জাপানের হাইড্রেনজিয়া, থাইল্যান্ডের হলুদ, লাল, গোলাপ ম্যান্ডেভিলা, কাঠগোলাপ, কামিনী, গন্ধরাজ, টাইমফুল, চেরি, রঙ্গন, রোজ বেলছাসহ বিদেশি নানা জাতের ফুলগাছ রয়েছে।

আততাওয়াবুল ইসলাম বলেন, বাগান তৈরিতে ফ্ল্যাট কিংবা বাসার আবহাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। মানুষের এখন শোভাবর্ধন গাছ ও ফুলের চাহিদা বেশি। তার মধ্যে বাগানবিলাস, ক্যাকটাস, বনসাই ইত্যাদি। ২০১৯ সালে একটি বিদেশি ব্ল্যাক জিজি গাছ এক হাজার ৬০০ টাকায় কিনতাম আমরা। কাটিং করে সেই গাছ এখন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় অনলাইনে (জান্নাতশপডটকম) বিক্রি করছি আমি।