বাংলাদেশে বেশির ভাগ নারী এখনো বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। দৈনন্দিন জীবনযাপনে অনেক রকমের বৈষম্যের মুখোমুখি হতে হয় যাকে বৈষম্যকারীরা সহজাত বলে মনে করে। এ অবস্থার উত্তরণের জন্য সকল শ্রেণী-পেশার নারী পুরুষ সহ প্রত্যেকের জন্য সমান সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে কাজ করতে হবে, নিরাপদ জীবনযাপনের জন্য এবং প্রকৃত ক্ষমতায়নের জন্য নারীদের অবশ্যই আত্মনির্ভরশীল হতে হবে।

শনিবার বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ৫২ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে পেশাজীবি তরুণীদের সাথে অনলাইনে আলোচনা সভায় বক্তারা এসব কথা বলেছেন। 'বৈষম্যকে চ্যালেঞ্জ করি, সমতার চেতনা প্রতিষ্ঠা করি' শীর্ষক এ সভায় সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি ডা. ফওজিয়া মোসলেম।

বক্তারা বলেন, গতানুগতিক পেশার বাইরে কাজ করতে যেয়ে দেখা যায়, একটা মেয়েকে চিরাচরিত নানা বাধার সম্মুখীন হয়। নারী আসলেই কাজ পারবে কিনা, এমন প্রশ্নসূচক দৃষ্টিভঙ্গি অনেকের মধ্যে দেখা যায়। এছাড়া প্রযুক্তিগত কাজের ক্ষেত্রে এখনো পুরুষের আধিপত্য আছে। নারীর উচ্চ পর্যায়ের দায়িত্বে থাকা অনেক পুরুষই মেনে নিতে পারে না। মতামত নেয়াকে গুরুত্ব দেয়া হয়না।

সভাপতির বক্তব্যে ডা. ফওজিয়া মোসলেম বলেন, নারীরা প্রায় ২০০ বছর ধরে বৈষম্যের শিকার, যা ব্রিটিশ শাসকগোষ্ঠী কর্তৃক চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। এর ফলে তাদের অধিকার আদায়ের জন্য এখনও আন্দোলন করতে হয়।

পরিবারে ও রাষ্ট্রে থাকা বৈষম্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন, সম্মান, সমানাধিকার ও মর্যাদার প্রশ্নে ৫০ বছর আগে যে বৈষম্যমূলক মনোভাব ছিলো তার খুব বেশি পরিবর্তন হয়নি।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব দেন সাংগঠনিক সম্পাদক উম্মে সালমা বেগম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, থিংক স্পেস ইন্টারিওর স্টুডিও এর ইন্টারিওর আর্কিটেক্ট এন্ড কো ফাউন্ডার লাভা বিশ্বাস নন্দিনী, দয়ীতার সত্ত্বাধিকারী সাইদা সুলতানা মিলি, ট্রান্সজেন্ডার সঞ্জীবনী, অ্যাকশন এইড বাংলাদেশের প্রোগ্রাম অফিসার (উইমেন রাইটস এন্ড জেন্ডার ইক্যুয়েলিটি) ফৌজিয়া আফরোজ, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের উইমেন সাপোর্ট এন্ড ইনভেস্টিগেশন ডিভিশনের এডিশনাল ডেপুটি পুলিশ কমিশনার লায়লা ফেরদৌসী, কোডিজাইন সফটওয়ার ডেভেলপমেন্টের বিজনেস ডেভেলপমেন্ট ম্যানেজার হৈমন্তী খান, দলিত নারী ফোরামের প্রোগ্রাম অফিসার তামান্না সিং বারাইক প্রমুখ। এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আবৃত্তিশিল্পী শারমিন লাকি।