বাসাবাড়িতে ব্যবহূত স্মার্টফোন, ল্যাপটপ কিংবা ডেস্কটপ তো আছেই। পাশাপাশি এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে স্মার্ট স্পিকার, স্মার্ট অ্যালার্ম, ডোরবেল, লাইট, ফ্যান এরকম হরেক ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রিত ডিভাইস। একটু অসতর্কতাই ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রিত এসব ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে অন্যের হাতে
বাসাবাড়িতে ব্যবহূত স্মার্ট ডিভাইসের চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বাসাবাড়িতে ব্যবহূত স্মার্টফোন, ল্যাপটপ কিংবা ডেস্কটপ তো আছেই।

পাশাপাশি এ তালিকায় যুক্ত হয়েছে স্মার্ট স্পিকার, স্মার্ট অ্যালার্ম, ডোরবেল, লাইট, ফ্যান এরকম হরেক ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রিত ডিভাইস। বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইডিসির সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, অ্যামাজন ইকো স্পিকার, গুগল নেস্ট, থার্মোস্টেট, স্মার্ট স্মোক অ্যালার্ম থেকে শুরু করে স্মার্ট ডোরবেল এখন মূলধারার প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে এ কথা সত্য, প্রযুক্তি যেমন জীবনযাত্রাকে সহজ করেছে, তেমনই রয়েছে শঙ্কাও। একটু অসতর্কতাই ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রিত এসব ডিভাইসের নিয়ন্ত্রণ চলে যেতে পারে অন্যের হাতে। তাই প্রযুক্তি ব্যবহারে সতর্কতার বিকল্প নেই।

সফটওয়্যার আপডেট
স্মার্টফোন, ল্যাপটপ এবং অন্য সব গেজেটে নির্দিষ্ট সময়ের ব্যবধানে সফটওয়্যার আপডেট করতে হয়। সফটওয়্যার কোম্পানিগুলো ব্যবহারকারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নতুন নতুন নিরাপত্তাব্যবস্থা তৈরি করে। তাই এসব ডিভাইসের মতো আপনার স্মার্ট হোম ডিভাইসগুলোর সফটওয়্যারকেও নিয়মিত আপডেট করতে হবে।

রাউটারে এনক্রিপশন
যেহেতু প্রযুক্তিপণ্যগুলোর মূল চালিকাশক্তি 'ইন্টারনেট', সেহেতু প্রথমেই ওয়াইফাই রাউটারের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। আপনার রাউটারটি সর্বোচ্চ স্তরের এনক্রিপশন ব্যবহার করছে তা নিশ্চিত করতে হবে। এটা আপনার ডাটা নিরাপদ রাখতে সহায়তা করে। এখানে মনে রাখবেন, যে কোনো অভ্যন্তরীণ ওয়াইফাই এক্সটেন্ডার বা পাওয়ারলাইন হোম নেটওয়ার্কগুলোও এনক্রিপশন সমর্থন করে। ডাটা এনক্রিপশন কেবল আপনার রাউটারের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে না, স্মার্ট ডিভাইসগুলোর সুরক্ষার একটি অতিরিক্ত স্তরও যুক্ত করবে।

রাউটারের পাসওয়ার্ড
ওয়াইফাই পাসওয়ার্ড ছাড়াও রাউটারে ভিন্ন আরও একটি পাসওয়ার্ড রয়েছে। বেশিরভাগ রাউটারে একটি সাধারণ ডিফল্ট পাসওয়ার্ড দেওয়া হয়, যাতে প্রথমবার ইনস্টল করা সহজে সেটআপ করার অনুমতি দেওয়া হয়। এই পাসওয়ার্ড সম্পর্কে বেশিরভাগ ব্যবহারকারী জানেনই না। ফলে হ্যাকারদের সহজ লক্ষ্যে পরিণত হয় রাউটার। অনলাইনে এরকম সবচেয়ে সাধারণ পাসওয়ার্ডের তালিকাও রয়েছে, যা ব্যবহার করে অনেক রাউটারের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া সম্ভব। তাই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আপনি এই পাসওয়ার্ড পরিবর্তন নিশ্চিত করুন। নিজে না পারলে ইন্টারনেট সংযোগ প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা নিন।

স্বতন্ত্র ওয়াইফাই নেটওয়ার্ক
বেশিরভাগ রাউটার আপনাকে আপনার স্মার্ট হোম ডিভাইসগুলোর জন্য একটি পৃথক নেটওয়ার্ক তৈরি করার অনুমতি দেবে। এটি নিরাপত্তার অতিরিক্ত স্তর যোগ করে। প্রয়োজনে আপনার ওয়াইফাই নেটওয়ার্কে একটি 'অতিথি সেটিং' তৈরি করুন, যাতে বন্ধু এবং পরিবারের সদস্যরা আপনার সঙ্গে দেখা করার সময় ইন্টারনেট অ্যাক্সেস করতে পারে। কিন্তু স্মার্ট হোম ডিভাইসগুলোর তৈরি করা পৃথক নেটওয়ার্কের পাসওয়ার্ড কারও সঙ্গে শেয়ার করা যাবে না।

পাসওয়ার্ডে ব্যক্তিগত তথ্য নয়
ডিভাইসের জন্য পাসওয়ার্ড তৈরি করার ক্ষেত্রে নিশ্চিত করুন যে, সেগুলো এলোমেলো এবং জটিল। আপনি যদি জটিল পাসওয়ার্ড মনে রাখা কঠিন মনে করেন তাহলে আপনার ডিভাইস সুরক্ষিত রাখতে একটি পাসওয়ার্ড ম্যানেজার ব্যবহার করার কথা বিবেচনা করুন। কিন্তু কখনোই ব্যক্তিগত কোনো তথ্য পাসওয়ার্ড হিসেবে ব্যবহার করবেন না।

টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন
বর্তমানে টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন খুবই জনপ্রিয় নিরাপত্তা কৌশল। আপনার ডিভাইসে টু ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবস্থা থাকলে তা ডিভাইসকে সুরক্ষিত রাখতে অনেকটাই যথেষ্ট।