বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে স্মার্টফোন উৎপাদন শুরু করেছে শাওমি। ইতোমধ্যে শাওমি দেশে তৈরি তিনটি স্মার্টফোন বাজারে এনেছে। দেশের বাজারে শাওমির অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা বলেছেন শাওমি বাংলাদেশের কান্ট্রি ম্যানেজার জিয়াউদ্দিন চৌধুরী। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন হাসান জাকির

- বাংলাদেশে ফ্যাক্টরি স্থাপনের মাধ্যমে স্মার্টফোন উৎপাদন করছে শাওমি। ইতোমধ্যে দেশে তৈরি কয়েকটি হ্যান্ডসেট বাজারেও ছেড়েছেন। কেমন সাড়া পাচ্ছেন?
-- আমরা বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনের মাধ্যমে সম্প্রতি শাওমির 'মেইড ইন বাংলাদেশ' যাত্রা শুরু করেছি। এই বিশাল উদ্যোগটি সরাসরি বিদেশি বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থায়ন করা হয়েছে। এরই মধ্যে দেশের কারখানায় উৎপাদিত তিনটি স্মার্টফোন রেডমি ৯এ, রেডমি ১০ (২০২২) এবং রেডমি নোট ১১ বাংলাদেশের বাজারে এসেছে। এসব স্মার্টফোন অপেক্ষাকৃত সাশ্রয়ী দামে গ্রাহকরা কিনতে পারছে।

- দেশজুড়ে শাওমির কতগুলো সার্ভিস সেন্টার রয়েছে। সার্ভিসিংয়ে শাওমির সক্ষমতা কেমন?
-- বাজারের উপযোগী পণ্য এবং বিক্রয়োত্তর সেবা প্রদানের মাধ্যমে শাওমি বাংলাদেশে দ্রুত ভক্তদের আস্থা ও হৃদয় জয় করেছে। সম্প্রতি শাওমি নতুন বারোটি সার্ভিস পয়েন্ট চালু করেছে। এই নতুন সার্ভিস পয়েন্টসহ, শাওমি বাংলাদেশে ৩৫টি সার্ভিস সেন্টার স্থাপন করেছে, যা কোম্পানিটিকে তার সার্ভিস নেটওয়ার্ক কভারেজ ৮৫ শতাংশ বৃদ্ধি করতে সক্ষম করেছে। আমাদের প্রতিশ্রুতি হচ্ছে, ডিভাইস ব্যবহারে সর্বোত্তম অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বিক্রয়োত্তর সেবা নিশ্চিত করা। শীর্ষস্থানীয় কনজ্যুমার ইন্টেলিজেন্স ফার্ম রেডকোয়ান্টা বাংলাদেশ বিক্রয়োত্তর সেবায় শাওমিকে সেরা ব্র্যান্ড হিসেবে ঘোষণা দিয়েছে আগেই। তাই আমরা সেটা অব্যাহত রাখার চেষ্টা করেই যাচ্ছি।

- শাওমি কারখানায় এখন কী ধরনের স্মার্টফোন তৈরি হচ্ছে?
-- আমরা সব শ্রেণির মানুষ বিশেষ করে প্রান্তিক মানুষ যেন সাশ্রয়ী দামে মানসম্মত স্মার্টফোন কিনতে পারে এদিকটায় নজর দিচ্ছি। এ লক্ষ্যেই আমরা প্রথম নিয়ে আসি রেডমি ৯এ, যা দেশে তৈরি প্রথম ফোন। তারপর আমরা এনেছি রেডমি ১০ (২০২২) সংস্করণটি। এরপর এসেছে অ্যামোলেড ডিসপ্লের রেডমি নোট ১১।

- শাওমি বাংলাদেশ ফোন ছাড়া আর কোন কোন পণ্য তৈরি করবে?
-- প্রাথমিকভাবে আমরা স্মার্টফোন তৈরিতে গুরুত্ব দিচ্ছি, পর্যায়ক্রমে অন্যান্য ক্যাটাগরির টেক ডিভাইস নিয়ে অগ্রসর হতে চাই।

- বাংলাদেশে তৈরি স্মার্টফোন কি বৈশ্বিক মান অর্জন করতে পারছে?
-- দেশে আমরা যে ফোন তৈরি করি সেটির পরীক্ষা হয় কয়েক ধাপে। আমরা শুরু থেকেই একটি কথা বলে এসেছি, স্থানীয়ভাবে উৎপাদন হলেও ফোনের কোয়ালিটি বা মান অবশ্যই বৈশ্বিক, এটা শাওমি সবসময় নিশ্চিত করে থাকে। এখানেও কয়েকটি ধাপে পরীক্ষার পরই স্মার্টফোন বাজারে ছাড়া হয়। বাংলাদেশের ফ্যাক্টরিতে সেই মানদণ্ডই অনুসরণ করা হয়, যা বিশ্বব্যাপী আমাদের অন্যান্য ফ্যাক্টরি যেমন চীন, ভিয়েতনাম, ভারতে বজায় রয়েছে।

- শাওমির কারখানায় কতজন কর্মী রয়েছেন। কারখানার উৎপাদন সক্ষমতা কেমন?
-- গাজীপুর বাইপাস রোডের কাছে ভগরায় আমরা কারখানা স্থাপন করেছি। কারখানায় এখন কয়েকটি স্তরে প্রকৌশলী ও কর্মীরা কাজ করেন। বাংলাদেশে বর্তমানে ৩ হাজারের বেশি লোক শাওমি ব্র্যান্ডের জন্যে কাজ করছে, যার একটা বড় অংশ কারখানায়। ভবিষ্যতে এই সংখ্যা বাড়বে। আমরা কারখানায় যে লোকবল নিয়োগ দিচ্ছি তার ৯৯ শতাংশ বাংলাদেশি। আমাদের যে সক্ষমতা রয়েছে তাতে এই কারখানায় বছরে ৩০ লাখের বেশি স্মার্টফোন উৎপাদন করা যাবে।

- সরকারের পলিসি স্মার্টফোন ইন্ডাস্ট্রিবান্ধব কিনা?
-- স্মার্টফোন অত্যন্ত সম্ভাবনাময় একটি খাত, বাংলাদেশের জনবলও অনেক দক্ষ। স্মার্টফোন খাতটিকে এগিয়ে নিতে সরকারের নীতিমালা সত্যিই চমৎকার। এই পলিসি বজায় থাকলে আমরা বিশ্বাস করি সরকারের সহযোগিতায় বাংলাদেশে স্মার্টফোন ও ডিজিটাল ডিভাইস রপ্তানির হাব হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শাওমি স্মার্টফোন রপ্তানি করতে পারব।