তরুণ শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ আর উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) অনুষ্ঠিত হলো বিডিবিও-সমকাল বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান উৎসবের জাহাঙ্গীরনগরের আঞ্চলিক পর্ব।

৬ মে শুক্রবার ভোর থেকেই শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্বেচ্ছাসেবকদের আগমনে জমজমাট হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস।
জাতীয় সংগীত ও পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।

আঞ্চলিক পর্ব উদ্বোধন শেষে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত কক্ষে নিয়ে যান সুহৃদ ও এনজাইমরা। সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত বিশ্ব্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান অনুষদের গ্যালারিতে লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীদের বিশ্ববিদ্যালয়ের জহির রায়হান অডিটোরিয়ামের সেমিনার কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পুরস্কার বিতরণ ও প্রশ্নোত্তর পর্বের আয়োজন করা হয়। পরীক্ষা শেষে সবাই যখন ক্লান্ত তখন তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল তাদের পছন্দের সেশন প্রশ্নোত্তর পর্ব।
সমকাল সুহৃদ সমাবেশ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিনের উপস্থাপনায় প্রশ্নোত্তর পর্বের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা জীববিজ্ঞানসহ বিজ্ঞানবিষয়ক নানা প্রশ্ন করার সুযোগ পান।

বিজ্ঞানপ্রেমী শিক্ষার্থীদের নানা বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্নের সম্মুখীন হন শিক্ষকরা। শিক্ষার্থীদের এমন বুদ্ধিদীপ্ত প্রশ্ন আর বিশেষজ্ঞ প্যানেলের সদস্যদের যুক্তিনির্ভর উত্তরে মুখর হয়ে ওঠে উৎসবের প্রশ্নোত্তর পর্ব।

শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের (বিডিবিও) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহিদুর রশিদ ভূঁইয়া, বিডিবিওর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক সৌমিত্র চক্রবর্তী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. গোলাম মোস্তফা, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সভাপতি অধ্যাপক উম্মে সালমা যোহরা, বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সোহায়েল, বিডিবিও জাহাঙ্গীরনগর অঞ্চলের আহ্বায়ক ও বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ শাহেদুর রহমান ও পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তাজউদ্দিন সিকদার।

এ সময় প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শহিদুর রশিদ ভূঁইয়া বলেন, বিজ্ঞান সৃষ্টিশীল বিষয়। যে সৃষ্টি করতে পারে না তার মূল্য নেই। বিজ্ঞানে আমরা অনেক পিছিয়ে রয়েছি। এখনও আমাদের গ্রামের স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানবিষয়ক যন্ত্রের সঙ্গে পরিচিত নয়। এমনকি বিজ্ঞান ল্যাবটা পর্যন্ত সচল নয়। স্বাধীনতার এই ৫০ বছরেও আমরা বিজ্ঞানে আশানুরূপ অগ্রগতি দেখতে পাইনি। তাই আমরা চাই এর মাধ্যমে সারাদেশে বিজ্ঞান ছড়িয়ে দিতে।
আঞ্চলিক উৎসবে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজ থেকে

তিনটি ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থী রেজিস্ট্রেশন করে পরীক্ষায় অংশ নেন।
পরে জুনিয়র, সেকেন্ডারি ও হায়ার সেকেন্ডারি এই তিন ক্যাটাগরিতে দ্বিতীয় রানার আপ, প্রথম রানার আপ, চ্যাম্পিয়ন ও ক্যাটাগরি চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীদের হাতে সার্টিফিকেট, মেডেল ও টি-শার্ট তুলে দেন অনুষ্ঠানের অতিথিরা।

বিডিবিও-সমকাল বাংলাদেশ জীববিজ্ঞান উৎসবের জাহাঙ্গীরনগরের আঞ্চলিক পর্বের সহযোগিতায় ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ।

সমকালের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি আবু নাঈম তরুণ তত্ত্বাবধানে সুহৃদ ও এনজাইমদের সার্বিক সহযোগিতায় উৎসব
জাবি প্রতিনিধি