বাংলাদেশের জনপ্রিয় বিজ্ঞান লেখক, শিক্ষাবিদ এবং ছোটদের মধ্যে বিজ্ঞানকে জনপ্রিয় করার পথিকৃৎ আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন। তবে তিনি আবদুল্লাহ আল-মুতী নামেই সমধিক পরিচিত। এমন কিছু মানুষ আছেন, যাদের চারিত্রিক মাধুর্যই তাদের ব্যক্তিসত্তাকে উদ্ভাসিত করে তুলতে মুখ্য ভূমিকা রাখেন। অপরাপর গুণাবলি সে ক্ষেত্রে সংযোজনীয় কাতারে এসে পড়ে। ড. আবদুল্লাহ আল-মুতী এমনই বিরল মানুষদের একজন। তবে তার ব্যতিক্রমী বিশেষত্ব হচ্ছে তার ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্যের কাছে তার অপরাপর বিশিষ্টতার অবস্থানও এক কাতারে; অর্থাৎ গৌণ নয় কিছুই। এর পরও বলা চলে, তিনি আর কোনো গুণে-গুণান্বিত হলেও শুধু ব্যক্তি চারিত্রিক মহিমার জন্যই মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছেন। বাংলা ভাষায় বিজ্ঞান চর্চা প্রসারে আল-মুতী শরফুদ্দিনের অবদান অসামান্য। তিনি ছিলেন একাধারে বিজ্ঞানী, শিক্ষাবিদ ও সাহিত্যিক। বিশেষভাবে শিশুসাহিত্যে তার অবদান অপরিসীম। তিনি শিশু-কিশোর আর সাধারণ মানুষের কাছে বিজ্ঞানকে পৌঁছে দিতে চেয়েছেন বিশেষভাবে। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার ফুলবাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৫২ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পদার্থবিজ্ঞানে বিএসসি (অনার্স) ডিগ্রি অর্জন করার পর বৃত্তি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে যান এবং সেখানে পড়াশোনা করেন শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ১৯৬০ সালে এমএ ডিগ্রি এবং ১৯৬২ সালে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।

কর্মজীবনে আল-মুতী শরফুদ্দিন প্রথম প্রবেশ করেন সরকারি শিক্ষা বিভাগে। এরপর ১৯৫৪ সালে রাজশাহী সরকারি কলেজে পদার্থবিজ্ঞানের প্রভাষক হিসেবে যোগ দেন এবং ছয় মাস পরেই অধ্যাপক হন। সেখান থেকে ঢাকার টিচার্স ট্রেনিং কলেজে বদলি হন ১৯৫৬ সালে। ছয় বছর পর পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ও প্রধান হয়ে চট্টগ্রাম সরকারি কলেজে চলে যান।

দেশ স্বাধীনের পর ১৯৭৩ সালে আল-মুতী শরফুদ্দিন সোভিয়েত ইউনিয়নে বাংলাদেশের দূতাবাসে শিক্ষা ও সংস্কৃতিবিষয়ক কাউন্সেলর হিসেবে যোগদান করেন। দু'বছর পর ঢাকায় ফিরে প্রথমে সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগের যুগ্ম সচিব নিযুক্ত হন। তারপর গণশিক্ষা বিভাগের পরিচালকে দায়িত্ব পালন করেন। তারপর কিছুকাল কাটালেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে। সবশেষে সচিব হিসেবে ফিরে গেলেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিভাগে। ১৯৮৬ সালে তিনি সরকারি কর্ম থেকে অবসর নিলেন। কর্মজীবন থেকে অবসর নেওয়ার পরও তিনি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

এসব গুরুদায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রচুর লেখালেখি করেছেন আবদুল্লাহ আল-মুতী। বড়দের জন্য লিখেছেন 'বিজ্ঞান ও মানুষ', 'শিক্ষা ও অন্যান্য প্রসঙ্গ', 'এ যুগের বিজ্ঞান', 'বিচিত্র বিজ্ঞান', 'বিপন্ন পরিবেশ', 'বিজ্ঞানের বিস্ময়' নামের আলোচিত সব বই। আর ছোটদের জন্য লিখেছেন : 'জানা-অজানার দেশে', 'সাগরের রহস্যপুরী', 'আয় বৃষ্টি ঝেঁপে'।১৯৯৮ সালের ৩০ নভেম্বর আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিন মৃত্যুবরণ করেন।

তিনি শুধু সহজবোধ্য বিজ্ঞানবিষয়ক লেখার কাজ নয়, শিক্ষা ও বিজ্ঞানসংক্রান্ত নানা কাজকর্মেও থাকতেন সক্রিয়। তার জীবনের সর্বশেষ বড় কাজ হচ্ছে বাংলা একাডেমি কর্তৃক প্রকাশিত 'বিজ্ঞান বিশ্বকোষ'-এর প্রধান সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন। প্রথম খে র কাজ তিনি শেষ করে গিয়েছিলেন। পরবর্তী খ গুলোর রচনা ও সম্পাদনার কাজ তিনি করে যেতে পারেননি। আবদুল্লাহ আল-মুতী মানুষ হিসেবেও ছিলেন সবার প্রিয়জন। তার অমায়িক ব্যবহার, যুক্তিনিষ্ঠ আচরণ সবার জন্য আদর্শস্বরূপ। যারা তার সান্নিধ্যে এসেছেন তাদের পক্ষে তার ব্যক্তিত্ব ও চরিত্রমাধুর্যের কথাটি ভুলে যাওয়া সম্ভব নয় কখনও।

প্রশ্ন
১। শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ে আব্দুল্লাহ আল-মুতীর পিএইচডি অভিসন্দর্ভের শিরোনাম কী ছিল?
২। তিনি কোন সময়ে বাংলা একাডেমির সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছিলেন?
৩। তিনি ক'বার পাকিস্তান সরকার কর্তৃক গ্রেপ্তার হয়েছিলেন?

কুইজ ৫৩-এর উত্তর
১। দীনবন্ধু মিত্রকে
২। ছিয়াত্তরের মন্বন্তর এবং উত্তরবঙ্গের সন্ন্যাসী বিদ্রোহ
৩। দ্য অ্যাবে অব ব্লিস

কুইজ ৫৩-এর জয়ী
আবু সালেহ কিবরিয়া
তানোর, রাজশাহী

রাজেশ বৈদ্য
মাধবপুর, হবিগঞ্জ

নিয়ম
পাঠক, কুইজে অংশ নিতে আপনার উত্তর পাঠিয়ে দিন ১৭ মে মঙ্গলবারের মধ্যে কালের খেয়ার ঠিকানায়। পরবর্তী কুইজে প্রথম তিন বিজয়ীর নাম প্রকাশ করা হবে। বিজয়ীর ঠিকানায় পৌঁছে যাবে পুরস্কার।