মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব। তাই সহজেই মানুষ যে কোনো প্রাণীকে ভালোবাসা দিয়ে পোষ মানাতে পারে। মানুষের সঙ্গে প্রাণীর এই ভালোবাসার সম্পর্ক পৃথিবীর সূচনালগ্ন থেকেই। বলা হয়ে থাকে- মানুষ জন্ম নেয় অসীম ভালোবাসার ক্ষমতা নিয়ে। সে জন্যই বোধ হয় মহাত্মা গান্ধী বলেছিলেন, 'কোনো জাতির মাহাত্ম্য এবং এর নৈতিক অগ্রগতি বিচার করা যায়, যেভাবে তার প্রাণীদের সঙ্গে আচরণ করা হয়।'

অনলাইনে এমন অনেক সংগঠন রয়েছে, যারা বিনামূল্যে নিরীহ প্রাণীর (কুকুর, বিড়াল) আবাসস্থল অথবা খাদ্য জোগান দিয়ে মানবিকতার পরিচয় দিচ্ছে। কিন্তু বাণিজ্যিকভাবে এসব গৃহপালিত প্রাণীর জন্য আবাসিক হোটেল তৈরি বিরল ঘটনা।

রাজধানীর মিরপুর চিড়িয়াখানা রোড এলাকায় এমনই একটি হোটেল রয়েছে। এটি বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো প্রাণীর জন্য আবাসিক হোটেল 'ফুরি ঘর' নামে প্রতিষ্ঠিত। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসেই প্রতিষ্ঠানটি যাত্রা শুরু করে। কয়েক মাসের ব্যবধানে ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে। গৃহপালিত প্রাণীর জন্য এটি দ্বিতীয় ঘর বলা যেতে পারে।

আমাদের মধ্যে এমন অনেকেই রয়েছে যারা কুকুর-বিড়াল পালন করতে খুব পছন্দ করেন। কিন্তু সমস্যা হয় তখন যখন আমাদের কিছুদিনের জন্য ছুটি কাটাতে বা কাজের সূত্রে বাসার বাইরে যেতে হয়। অনেকে তো শুধু এ সমস্যার জন্য শখ থাকা সত্ত্বেও প্রাণী লালন-পালন করতে পারেন না। মূলত এসব সমস্যা সমাধানে 'ফুরি ঘর' কাজ করে চলেছে।

যে কেউ চাইলেই তাদের পোষা প্রাণীকে একটি নির্দিষ্ট সময় ও চার্জের বিনিময়ে ফুরি ঘরে রেখে যেতে পারেন। প্রতিষ্ঠানটি প্রতিদিনের হিসাবে একটি বিড়ালের জন্য ৫০০ এবং কুকুরের জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা নির্ধারণ করেছে। পাঁচ দিন থেকে শুরু করে এক মাস মেয়াদি তাদের প্যাকেজ রয়েছে। এর মধ্যে ডিসকাউন্ট বিদ্যমান। বর্তমানে সেখানে বিড়ালের জন্য ১৪টি কেবিন ও কুকুরের জন্য ৩টি কেবিন রয়েছে। একই পরিবারের প্রাণীর জন্য একটি কেবিনে সর্বোচ্চ তিনটি রাখার সুবিধা রয়েছে। সেই সঙ্গে প্রাণীর প্রয়োজনীয় খাবার, ওষুধ; সেই সঙ্গে বিনোদনের যথেষ্ট সুবিধা নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
অনলাইনের মাধ্যমে খুব সহজেই 'ফুরি ঘর' পেজে ইনবক্স করে অথবা সরাসরি আউটলেট ভিজিটিং করে যে কেউ তার প্রাণীটি নিরাপদে সেখানে রেখে আসতে এবং ২৪ ঘণ্টা যোগাযোগ রাখতে পারেন। সে জন্য অবশ্য দুটি শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। শর্ত দুটি হলো- প্রাণীটি অবশ্যই ভ্যাক্সিনেট হতে হবে অর্থাৎ প্রাণীর ভ্যাকসিন কার্ড ও গ্রাহকের ভোটার আইডি কার্ডের ফটোকপি জমা দিতে হবে।

প্রতিষ্ঠানটিতে কর্মরত তারিন নাজ মিরা বলেন, 'জীবনের সব ক্রান্তি, হতাশা ভুলে যাই যখন সকালের শুরুতে ও বিকাল গড়াতে প্রাণীগুলোর সঙ্গে খেলা করি। এটি আমার জন্য চমৎকার অভিজ্ঞতা ও স্বস্তির।'

বিষয় : প্রাণীর হোটেল নিরীহ প্রাণী ফুরি ঘর

মন্তব্য করুন