নীল আকাশে সর্বোচ্চ সীমায় উড়ে বেড়ানো নারী বিমানচালকদের কথা এলে অ্যামেলিয়া ইয়ারহার্ট এবং অ্যামি জনসনের মতো পরিচিত নাম হরহামেশাই শুনতে পাই। তবে ১৯৬৫ থেকে ১৯৭২ সালের মধ্যে শতাধিক রেকর্ড, ট্রফি ও পুরস্কার অর্জন করে নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়েছিলেন ব্রিটিশ বৈমানিক শিলা স্কট। ১৯৭১ সালে 'ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হাফ' ফ্লাইটে ৫৫ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দেন এই নারী বিমানচালক। একক ফ্লাইটে তিনি তিনবার বিশ্ব পরিভ্রমণ করেন। নারী-পুরুষ বিমানচালকদের মধ্যে তিনিই প্রথম বৈমানিক যিনি একটি হালকা যানে উত্তর মেরুর ওপর একাধিকবার বিমান ওড়ান। বিমান চালনার বাইরে তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে নেভাল হাসপাতালে নার্সের দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৪৩ সালে শিলা স্কট কর্মজীবনের শুরুতে অভিনেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠা করার ব্যর্থ চেষ্টা চালান। মূল নাম শিলা ক্রিস্টিন হপকিন্সের পরিবর্তে শিলা স্কট নাম ধারণ করেন। পরে ১৯৫৮ সালে বিমান চালনা শুরু করলে তার জীবনের মোড় ঘুরে যায়। পরের বছর তিনি একটি কনভার্টেড বিমান 'টাইগার মথ' ক্রয় করেন। ১৯৬৬ সালে বিশ্বব্যাপী বিমান চালনার সিদ্ধান্ত নেন এবং যাত্রা শুরু করেন।

১৮৯ ঘণ্টা উড়ন্ত অবস্থায় থেকে প্রায় ৩১ মাইল পথ সফলভাবে অতিক্রম করেন। এটি ছিল তার প্রথম সফলতা। ব্রিটিশ বৈমানিক হিসেবে প্রথম এবং বিশ্বে তৃতীয় নারী হিসেবে একক ফ্লাইটে দীর্ঘতম দূরত্বের পথ অতিক্রম করা পাইলট ছিলেন শিলা স্কট। এরপর একের পর এক নিজের রেকর্ডই ভাঙতে শুরু করেন।

১৯৬৭ সালে লন্ডন এবং কেপটাউনের মধ্যে, একই বছর উত্তর আটলান্টিকজুড়ে, ১৯৬৯ সালে দক্ষিণ আটলান্টিকজুড়ে, ১৯৭১ সালে উত্তর মেরু হয়ে এক নিরক্ষরেখা থেকে আরেক নিরক্ষরেখা অতিক্রম করেন তিনি। নারী-পুরুষ বিমানচালকদের মধ্যে তিনিই প্রথম, যিনি একটি হালকা যানে উত্তর মেরুর ওপর দিয়ে বিমান ওড়ানোর দক্ষতা দেখিয়েছেন।

নিরক্ষরেখা ও উত্তর মেরু অতিক্রমকারী এই বিশ্ব রেকর্ডের পর তিনি তৃতীয়বারের মতো আকাশে পাখা মেলে তার ব্যক্তিগত ১০০ ওয়ার্ল্ড-ক্লাস রেকর্ড গড়েন। এই অভিযানে তিনি ডারউইন, অস্ট্রেলিয়া থেকে লন্ডনে দিনের এক-তৃতীয়াংশ সময় নিয়েছেন; যা আগের অর্ধদিনের তুুলনায় অনেক কম। ১৯৬৭ সালে এই অর্জনের মধ্য দিয়ে তিনি এক বছরে সর্বাধিক ২৩টি ওয়ার্ল্ড রেকর্ড গড়তে সক্ষম হন। আকাশে ওড়ার সব রেকর্ড ভঙ্গ করার পর তিনি নিজের কাজ ও জীবনগাথা লিপিবদ্ধ করার পরিকল্পনা নেন। ১৯৭৪ সালে ম্যাকমিলান প্রকাশনীর মাধ্যমে 'বেয়ারফুট ইন দ্য স্কাই' নামে আত্মজীবনী প্রকাশ করেন। মজার বিষয় হলো, আকাশে অভাবনীয় দক্ষতা সত্ত্বেও শিলা স্কট স্থলে তেমন সফল নন। তিন তিনবার ড্রাইভিং পরীক্ষা দিয়ে ব্যর্থ হয়ে চতুর্থ প্রচেষ্টায় সফল হন! শিলা সর্বদা তহবিল সংগ্রহের জন্য সংগ্রাম করলেও জীবনের শেষ দিনগুলো তাকে লন্ডনে বিছানায় দুঃখ ও নিঃসঙ্গ সময় কাটাতে হয়েছে। ৬৬ বছর বয়সে ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। া

বিষয় : শিলা স্কট বৈমানিক ওয়ার্ল্ড অ্যান্ড হাফ

মন্তব্য করুন