নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধ ও আত্মরক্ষার কৌশল হিসেবে মার্শাল আর্টের একটি প্রকার তায়কোয়ান্দো প্রশিক্ষণের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ছবিঘর। বিভিন্ন সময় বখাটে ও উত্ত্যক্তকারীদের দৌরাত্ম্যের শিকার হচ্ছেন নারীরা। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মক্ষেত্রে আসা-যাওয়ার পথে প্রায়ই ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে তাদের। নারীর মনোবল বৃদ্ধি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তাদের এমন উদ্যোগ বলে জানায় সংগঠনটি। এ উদ্যোগের মাধ্যমে ইতোমধ্যে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের প্রায় ৩ হাজার শিক্ষার্থী আত্মরক্ষার কৌশল রপ্ত করেছে।

শুরুটা খুব সহজ ছিল না। কোনো স্কুল অনুমতি দিতে চায়নি। পরে সাভার বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অনুমতি পেয়ে শুরু করলে এগিয়ে আসে আরও অনেক বিদ্যালয়। প্রথম পর্বে ৭০ জন শিক্ষার্থীর মাধ্যমে শুরু করা হয় প্রশিক্ষণ। প্রশিক্ষণের জন্য প্রাথমিকভাবে একজনের সাহায্য নিলেও বর্তমানে তাদের প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক তানজিল তাবাসসুম আস্থা (কারাতে ব্ল্যাক বেল্টপ্রাপ্ত), সুমাইয়া ইভা ও রিমি এই প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন।

ছবিঘরের শুরু ২০১৮ সালে। এর প্রতিষ্ঠাতা সাভার পৌর এলাকার ব্যাংক কলোনির কলেজছাত্র প্রিন্স ঘোষ ও তার চার বন্ধু। শুরুতে ছবি নিয়ে কাজ করলেও দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর থেকে প্রতিষ্ঠানটি অসহায় মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

নারীকে কী ধরনের কৌশল শেখানো হয়, তা জানতে চাইলে প্রিন্স ঘোষ বলেন, প্রথমেই শেখানো হয় বিপদে পড়লে কীভাবে সর্বশক্তিতে গলা চড়িয়ে চিৎকার করে সাহায্য চাইতে হবে। তিনি মনে করেন, ছোটবেলা থেকেই মেয়েদের রক্ষণশীল পরিবেশে গড়ে তোলা হয়। তাই যখন বিপদে পড়ে, মেয়েরা চিৎকার করে সাহায্য পর্যন্ত চাইতে পারে না। পাঞ্চিং, উল্টে ফেলা দেওয়াসহ আত্মরক্ষার অনেক সহজ কিছু কৌশল শেখানো
হয় মেয়েদের।

নীলা সাভার বালিকা বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তিনি জানান, বিভিন্ন সময় রাস্তায় হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে তাকে। ছবিঘরের মাধ্যমে তায়কোয়ান্দো শেখার পর তার মনোবল বেড়েছে। এখন মনে হয় রাস্তায় কোনো বিপদের মুখোমুখি হলে খুব সহজেই সেখান থেকে মুক্ত হওয়া যাবে।
নারীকে আত্মরক্ষার কৌশল শেখানোর পাশাপাশি সংগঠনটি আরও কিছু সামাজিক উদ্যোগ পরিচালনা করে থাকে। তার মধ্যে একটি হলো নারীর পিরিয়ডকালীন সুরক্ষায় একটি উদ্যোগ। সংগঠনের উদ্যোক্তাদের একজন বলেন, মাসিক একজন নারীর জীবনে স্বাভাবিক একটি ঘটনা কিন্তু বাংলাদেশের মানুষ এ নিয়ে তেমন সতর্ক নয়। বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, শপিংমল ও স্কুলে 'মাসিক সুরক্ষা বক্স' নামে বক্স স্থাপন করা যেতে পারে, যেখান থেকে নারীরা যে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত সময়ে স্যানিটারি প্যাড বিনামূল্যে ব্যবহার করতে পারেন। এ ছাড়া ২০২০ সাল থেকে সুবিধাবঞ্চিত কয়েকশ' পরিবারের জন্য সংগঠনের সদস্যরা 'এক টাকার ভাসমান দোকান' স্থাপন করেন। প্রিন্স ঘোষ বলেন, অনেকেই ত্রাণ নিতে

সংকোচ বোধ করেন। তাই উপকারভোগীরা যাতে মনে করেন ত্রাণ নয়, টাকার বিনিময়ে তারা পণ্য কিনে নিচ্ছেন- এই ধারণা থেকে
এক টাকার দোকান নামে ভ্রাম্যমাণ দোকান চালু করা হয়। া