এলিজাবেথ টেইলর। ব্রিটিশ-আমেরিকান অভিনেত্রী। হলিউডের স্বর্ণালি যুগের অন্যতম গ্লামার-আইকনের সাক্ষাৎকার থেকে অনুপ্রেরণামূলক অংশ অনুবাদ করেছেন শাহনেওয়াজ টিটু

প্রাতিষ্ঠানিক বা প্রথাগত কোনো পাঠ কোনো দিনই নিইনি আমি। বলছি অভিনয়ের কথা। তবে স্পেনসার ট্রেসি, মারলন ব্র্যান্ডো ও জিমি ডিনের মতো অভিনেতাদের কাজ দেখে নিজের মতো করেই শিখে নিয়েছি কী করে অভিনয় করতে হয়। খুব অল্প বয়সেই বুঝে গিয়েছিলাম পুতুলের মতো অভিনয় আমি করব না; বরং অভিনয় জগতে আমাকে দৃঢ়ভাবে বাঁধতে পারে- এমন সব কাজ করব। আমার ধারণা, আমার ভেতরে একটা শিশুসত্তা রয়েছে- যে সঠিক পরিচর্যায় বড় ও বিকশিত হতে উন্মুখ। কেউ যদি আমাকে অভিনেত্রী বলতে চায়, তাহলে তাকে বলতে হবে, আমি স্বতন্ত্র ধারার অভিনেত্রী ছিলাম না। কেননা, আমি নিশ্চিতভাবেই কোনো পরিপাটি টেকনিশিয়ান নই।

প্রথম অভিনয়
৯ বছর বয়সে আমি হলিউডের সিনেমায় প্রথম অভিনয় করি। আমার যখন ১৫ বছর বয়স, একদিন লুইস বি. মেয়ার মানে আমেরিকান ফিল্ম প্রডিউসার এবং মেট্রো-গোল্ডওয়াইন-মেয়ার বা এমজিএম স্টুডিওর যুগ্ম প্রতিষ্ঠাতা আমার মাকে এমন অকথ্য ভাষায় গালাগাল দিলেন, যা আগে কখনোই শুনিনি আমি। আমিও জীবনের প্রথমবার বিশ্রী ভাষা ব্যবহার করলাম, মাকে নিয়ে স্টুডিও থেকে বেরিয়ে গেলাম।

হলিউড একটা কারখানা
'হলিউড অভিনেত্রী'- এই পরিচয়টিকে আমার ঘৃণা লাগে। এমনকি 'স্টার' হলেও। আর 'সুপারস্টার' বললে তো কথাই নেই! হলিউডের সব কিছুই আমার কাছে জঘন্য লাগে। হলিউডকে আমার কাছে স্রেফ একটা ব্যাপক বিস্তৃত 'কারখানা' বলে মনে হয়। তবে আপনি যদি ধুমধাম পছন্দ করেন, সে ক্ষেত্রে এটি একটি ব্যাপক ফলদায়ক পরিবার। একজন অভিনেতার পরিচয় শুধু অভিনেতাই- তা তিনি হলিউডে কাজ করুন, কিংবা আফ্রিকার কোথাও। আর তা হোক মঞ্চ, টেলিভিশন কিংবা সিনেমায়।

মনোযোগের বিষয়
অন্য অভিনেতাদের অপেক্ষায় রেখে, শট নেওয়ার আগ মুহূর্তে অস্থির পায়চারী আর হাত-পা ছোড়াছুড়ি করে ডিরেক্টরদের যারা বলে, 'আমাকে একটু সময় দিন, আমি রেডি হয়ে আসছি'- এমন ধরনের অভিনেতাদের সঙ্গে কাজ করতে আমার বিশ্রী লাগে। আমার কাছে অভিনয় হলো, একটা গভীর মনোযোগের বিষয়। ডিরেক্টর 'অ্যাকশন' বলার আগমুহূর্ত পর্যন্ত চাইলে আপনি হাসাহাসি, নাচানাচি করতেই পারেন। কিন্তু এরপর আপনাকে চরিত্রটির মধ্যে একেবারেই ঢুকে যেতে হবে। যাদের সঙ্গে যা নিয়ে এতক্ষণ হাসি-মশকরা করছিলেন, সব কিছু ভুলে যেতে হবে বেমালুম। এ একান্তই মনোজাগতিক পাঠ- যেটির শিক্ষা আপনাকে আপনি নিজে ছাড়া কোনো প্রতিষ্ঠান দিতে পারবে না।

জীবন এক অভিযাত্রার মতো
আগুন যে কাউকে মুগ্ধ করতেই পারে। কিন্তু যখন সেটিকে পেরিয়ে যেতে পারব, তখনই আমার আসল শক্তি প্রকাশ পাবে বলে মনে করি আমি। এটিই আসলে মুগ্ধতা আর প্যাশনের মধ্যে পার্থক্য। যে বিষয় বা বস্তুর প্রতি আপনার কোনো সহানুভূতি নেই, সেটির প্রতি প্যাশন অনুভব করতে পারবেন না আপনি। আর কারও মধ্যে যদি প্যাশন কাজ না করে, তাহলে তার পক্ষে কাউকে ভালোবাসা মোটেও সম্ভব নয়। ভালোবাসার পরতে পরতে প্যাশন জড়িয়ে থাকে বলেই আমি বিশ্বাস করি। নিজের ভাবনার মধ্যে এখনও নানা বৈচিত্র্যের দেখা পেয়ে আমি শিশুদের মতো খুশি হয়ে ওঠি। কেননা, কোনো কিছুই ভয় পাই না আমি। জীবন আমার কাছে স্রেফ একটি অভিযাত্রার মতো। জীবনকে জীবনের মতো আলিঙ্গন করে, সেটির মোড়কে নিজেকে জড়িয়ে নিতে হয় বলেই বিশ্বাস করি আমি।