দেশের অন্যতম সেরা গিনেস রেকর্ডসধারী কনক কর্মকার। বর্তমানে তিনি ২০টি গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের মালিক। এ নিয়ে তার অনুভূতি জানতে চাইলে কনক বলেন, 'কাজের প্রাপ্তি সবার কাছে যেমন সুখকর, তেমনি আমার কাছেও অনেক আনন্দের। এই রেকর্ড করতে সময় যেমন লেগেছে, তেমনি একটা রেকর্ডের পেছনে অসংখ্যবার কসরত করেছি। সবকিছু মিলিয়ে যখন আমার রেকর্ড হাতে এসেছে, তখনকার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না।

' কনক ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় সেমিস্টারে পড়ছেন। পড়াশোনার পাশাপাশি তার ব্যস্ততা গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস ঘিরে। কনকের ঝুলিতে যুক্ত হওয়া ২০ রেকর্ড করতে তার সময় লেগেছে প্রায় তিন বছর। ২০১৮ সালে প্রথম ফ্রি স্টাইল শুরু করেন কনক। প্রথমে ফুটবলকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে যেমন- কপালে, থুতনিতে, মুখে, হাঁটুতে ও পায়ের তালুতে রাখার চেষ্টা করতেন। এই কসরত করতে গিয়ে কনক দেখলেন ফুটবল মাথায় ব্যালেন্স করতে পারছেন।

তখন ফ্রি স্টাইল করার ফলে ফুটবলের ওপর ভালো দক্ষতা চলে আসে তার। ২০১৮ সালের মাঝামাঝি কনকের ব্যালেন্সিং দক্ষতা উন্নতির দিকে যায়। এরপর ফুটবলের জায়গায় গিটার, চেয়ার ও ফুটবল আর্ম রোল রাখার চেষ্টা করতেন। এসব অনুশীলনের ফলে দিন দিন ব্যালেন্সিং উন্নতি হতে থাকে। তখন বড় বড় জিনিস ব্যালেন্স করতে শিখতে থাকেন। এরপর আস্তে আস্তে ব্যালেন্সিংকে ফুটবল ফ্রি স্টাইলের সঙ্গে যোগ করেন নতুন নতুন টেকনিক। শুরুতে কনকের এসব অনুশীলন দেখে আশপাশের মানুষ তাকে নিরুৎসাহিত করতেন। বলতেন কটু কথাও।

কনক তাদের সমালোচনার জবাব দিতে নিজ চেষ্টা ও পরিশ্রম অব্যাহত রাখেন। গিনেস রেকর্ডসের ইচ্ছাও জাগে মনে। আর মনে থাকা স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে দিনরাত কাজ করে যান। কনক ব্যালেন্সিং, ফুটবল ফ্রি স্টাইল এবং বঙ্গবন্ধু ওয়ার্ল্ড রেকর্ড এই তিন ক্যাটাগরিতে রেকর্ডগুলো করেছেন। ব্যালেন্সিংয়ের ওপর প্রায় ১১টি রেকর্ড রয়েছে তার। এ ছাড়া ব্যালেন্সিং ও ফুটবল ফ্রি স্টাইলেও রয়েছে তার অন্যান্য রেকর্ড।

কনক কেবল নিজের রেকর্ডেই নয়, দেশের তরুণদের গিনেস রেকর্ডস গড়তেও সব রকম সহযোগিতা করেন। ২০১৮ সাল থেকে সরাসরি আটজনকে গিনেস রেকর্ডস গড়ায় সহযোগিতা করেন। এজন্য ফেসবুকে Create New Guinness World Records For BangladeshÑ- নামে একটা গ্রুপও খুলেছেন। তা ছাড়া যারা ফুটবল ফ্রি স্টাইলে আসতে চান, তাদেরও প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকেন কনক। কনকের স্বপ্ন শততম গিনেস রেকর্ডসের মাধ্যমে লাল-সবুজের পতাকাকে বিশ্বের মাঝে তুলে ধরা।