ছাদবাগান বাড়ির টপ ফ্লোরকে তুলনামূলক শীতল রাখে। দূষণমুক্ত রাখে পরিবেশ। ছাদবাগানের যত্ন নিয়ে লিখেছেন শাহিনা নদী

কর্মব্যস্ততায় মগ্ন নগরীর মানুষের কাছে ছাদবাগান সতেজতার পরিচয় বহন করে। ইট-পাথরের তৈরি বড় বড় অট্টালিকা কিংবা ছোট দালানকোঠার দিকে তাকালে ছাদের ওপর গড়ে ওঠা ছোট সবুজের ছোপ যেন নজর এড়ায় না। মূলত করোনাকালে ছাদবাগানকারীদের সংখ্যা বিপুল পরিমাণে বৃদ্ধি পেয়েছে। নগরে অবকাঠামো বা আবাসস্থল তৈরিতে যে পরিমাণ সবুজায়িত স্থান ও চাষের জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তার কিছু অংশ ভবনের ছাদে বাগান করার মাধ্যমে পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব। এটি একদিকে যেমন বাড়তি আয়ের সুযোগ করে দেবে, অন্যদিকে দৈনন্দিন বাজার খরচ কমাতেও সহায়তা করে। পাশাপাশি শিশুরা সবুজের কাছাকাছি একটি মনোরম পরিবেশে বেড়ে উঠতে পারে। ছাদবাগান বাড়ির টপ ফ্লোরকে তুলনামূলক শীতল রাখে। দূষণমুক্ত রাখে পরিবেশ। এ ছাড়া জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ছাদবাগানের রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

অল্প জায়গায়, কম খরচে করা যায় বিধায় অনেকেই ছাদবাগান গড়ে তুলতে উৎসাহী। তাই জেনে নিন ছাদবাগানের ক্ষেত্রে কোন কোন বিষয়গুলোর দিকে আমাদের বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।

ছাদবাগানের জন্য মাটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ছাদবাগানের জন্য সবচেয়ে উপযোগী মাটি হলো বেলে-দোঁআশ। গাছ লাগানোর আগে মাটি ভালোভাবে ঝুরঝুরে করে চেলে নিতে হবে। মাটি উর্বর করতে গরুর শুকনো গোবর সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও কার্যকরী জৈবসার কম্পোস্ট, ভার্মিকম্পোস্ট ইত্যাদি উপাদান মাটির সঙ্গে পরিমিত পরিমাণে বা এক-তৃতীয়াংশ হারে মিশিয়ে উপযুক্ত মাটি প্রস্তুত করা যেতে পারে।

শাকসবজি, মৌসুমি ফুল গাছ লাগানোর জন্য টবে স্তর ৮ থেকে ১২ ইঞ্চি পুরু হতে হবে এবং ফলসহ মাঝারি ধরনের ও বড় শিকড়ের গাছের জন্য টবে মাটির গভীরতা কমপক্ষে দুই থেকে তিন ফুট হতে হবে।

গাছ লাগানোর জন্য ছাদে স্থায়ী বেড় বানাতে চাইলে তা ছাদ থেকে অন্তত আট ইঞ্চি ওপর থেকে শুরু করতে হবে। ছাদবাগান করার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন জমে থাকা পানি দ্রুত ছাদ থেকে বেরিয়ে যেতে পারে। এ জন্য ড্রাম বা টবগুলোকে রিং বা ইটের ওপর রাখা যেতে পারে। এতে পাত্রের নিচ দিয়ে আলো-বাতাস চলাচল করবে এবং ছাদও স্যাঁতসেঁতে হওয়া থেকে রক্ষা পাবে। টবের ঠিক নিচের জায়গাটুকুতে পানি জমে থাকতে পারে, যা শুকানোর বা গড়িয়ে চলে যাওয়ার সুযোগ পায় না। তাই যে পাত্রেই গাছ রাখা হোক না কেন, টবটি স্থাপন করার আগেই সেখানে পানিরোধী ইপোক্সি পেইন্ট করিয়ে নিন অথবা ওই জায়গায় সিরামিক টাইলসও বসিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এ ছাড়া ছাদ থেকে যদি ক্রমাগত পানি গড়িয়ে পড়ে ভবনের দেয়াল ঘেঁষে, তাহলে দেয়ালের রং চটে যেতে থাকে। তাই এমনভাবে পানি নিস্কাশনের ব্যবস্থা করা উচিত, যাতে টবের বাড়তি পানি এবং বৃষ্টির পানি ভবনের দেয়াল ঘেঁষে না পড়ে।

ভরদুপুরে বা কড়া রোদে অবশ্যই নতুন চারা লাগানো, গাছে পানি দেওয়া এবং বালাইনাশক প্রয়োগ করা উচিত নয়। এর জন্য উপযুক্ত সময় ভোর ও পড়ন্ত বিকেল।

ড্রামে লাগানো গাছে বছরে একবার বা দু'বার পরিমিত পরিমাণে সার দেওয়া যায়। তবে বেশি শীত ও বর্ষা মৌসুমে সার না দেওয়া ভালো। ফল গাছে ফুল আসার অন্তত দু'মাস আগে সার দেওয়ার কাজ শেষ করতে হবে। সেই সঙ্গে গাছের রোগাক্রান্ত ও মরা ডালগুলো ছাঁটাই করতে হবে। ফল সম্পূর্ণ তোলার পর মরা মুকুল, বোঁটাসহ ফল গাছের কিছু ডগা ভেঙে দিতে হবে।

গাছের রোগবালাই দমনে পরিবেশবান্ধব সমন্বিত বালাই ব্যবস্থাপনা বা আইপিএম পদ্ধতি অনুসরণ করা উত্তম। আর কীটনাশক প্রয়োগ করতে চাইলে সঠিক নিয়মে ও নির্দিষ্ট সময়ে ভালো কোম্পানির কীটনাশক প্রয়োগ করা শ্রেয়।

ছাদে বাগান করার আগে কতটুকু জায়গায় বাগান করবেন ও কী কী গাছ লাগাবেন তার একটা পরিকল্পনা ও নকশা করে নিতে পারেন।