আপনি ঘরে যে জায়গাটিতে বসে কাজ করছেন, তা দেখতে কেমন? সেই জায়গাটির একটা প্রভাব আপনার কাজে বা আপনার ওপর পড়ছে? ঘরের পরিপাটি কাজ করার টেবিলটি আমাদের যেমন ভালো অনুভূতি দেয়, তেমনি অগোছালো কাজের টেবিলের উল্টো। তবে সব সময় কাজের টেবিলটি পরিপাটি রাখা দীর্ঘদিনের অভ্যস্ততার বিষয়। আপনি যদি আপনার কাজকে মনেপ্রাণে ভালোবাসেন বা বাসতে চান তাহলে অবশ্যই আপনার কাজের টেবিলটি পরিপাটি করে সাজানোতে মনোনিবেশ করে দেখুন। দেখবেন ধীরে ধীরে কাজেও এর প্রতিফলন পড়ছে। ঘরের কোথায় আপনি আপনার কাজের টেবিলটি রাখবেন, তা প্রথমে ভাবুন। সম্ভব হলে এমন একটি জায়গা বেছে নিন যেখানে আপনার মনোযোগে ব্যাঘাত ঘটবে না। কাজে ধ্যানমগ্ন না হতে পারলে কখনও কখনও ছোট কাজও শেষ করতে অনেক সময় লেগে যায়; যা হতে পারে কাজের প্রতি বিরক্তির কারণ।

কী ধরনের চেয়ার-টেবিল ব্যবহার করছেন, তা নিয়ে সচেতন থাকুন। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করলে অবশ্য এমন চেয়ার ব্যবহার করবেন, যা আরামদায়ক। আর চেয়ারের সঙ্গে টেবিলের উচ্চতার সমতা লক্ষ্য করুন। ঠিকঠাক না হলে তা পরিবর্তন করুন বা আলাদা উচ্চতা ব্যবহার করে তা ঠিক করুন। এমন চেয়ার ব্যবহার করুন, যা সহজেই অ্যাডজাস্টেবল। নোটিশ বোর্ড কাজের টেবিলে খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাজের নানা চাপে আমরা প্রায়ই অনেক কিছু ভুলে যাই। কিন্তু কাজের টেবিলের ঠিক সামনেই যদি একটি ছোট নোটিশ বোর্ড রাখা যায়, তবে তা ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম থাকে। কলমদানিতে চেষ্টা করুন নানা রঙের কলম রাখতে। কারণ আমরা যখন কোনো কাজ নানাদিক থেকে বিশ্নেষণ করি, সে ক্ষেত্রে আলাদা আলাদা রং ব্যবহার করলে আমাদের মস্তিস্ক তা সহজে মনে রাখতে পারে। স্টেপলার, পাঞ্চ মেশিন, কলম ইত্যাদি ছোট ছোট জিনিস কাজ শেষে নির্দিষ্ট স্থানে রাখুন। কাজের ধরন অনুযায়ী আলাদা ড্রয়ারে রাখতে পারেন। রাত জেগে কাজ করতে হলে টেবিলে অবশ্যই একটি সুন্দর টেবিল ল্যাম্প রাখবেন, যাতে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা থাকে।

কাজের টেবিলের আশপাশে পানির একটি বোতল রাখতে পারেন। সঙ্গে হালকা খাবার। এতে কাজ করতে বসলে বারবার উঠতে হবে না। টেবিলে টিস্যু বক্স এবং টেবিলের নিচে পায়ের কাছে একটি ছোট ময়লা ফেলার ঝুড়ি রাখতে পারেন। অফিসের জরুরি কাগজ বা ফাইল খুঁজে পেতে ব্যবহার করতে পারেন লেবেল মার্ক। ফাইল বা ফোল্ডার লেবেল করে সাল অনুযায়ী গুছিয়ে রাখলে কাজ অনেক সহজ হবে। কাজের টেবিলে একাধিক ইলেকট্রনিক কর্ড থাকলে সেগুলোও লেবেল করে রাখতে পারেন। ফোন চার্জার, ল্যাপটপ, ডেস্কটপ বা নোটপ্যাডের চার্জারের জন্য আলাদা লেবেল মার্ক পাবেন বিভিন্ন মার্কেট কিংবা অনলাইন শপে। কাজের টেবিলে একটি ছোট গাছ রাখতে পারেন। মানিপ্ল্যান্ট রাখতে পারেন টেবিলের একদিকে বা আলো, বাতাস, পানি কম লাগে এমন যে কোনো গাছ। আমরা যতই নিয়মিত পরিস্কার করি না কেন অপ্রয়োজনীয় নানা কাগজ আমাদের কাজের টেবিলে জমেই যায়। এ ছাড়া বিনা নিমন্ত্রণের অতিথি ধুলাবালি তো আছেই। তাই চেষ্টা করুন সপ্তাহে অন্তত এক দিন কাজের টেবিলটিকে সম্পূর্ণ পরিস্কার করতে।

ঘরে নিজের মতো পরিবেশে, পছন্দ মতো সময়ে কাজ করা যায়। একসঙ্গে একাধিক কাজ যেমন সেরে ফেলা যায় তেমনি কাজের পাশাপাশি পরিবারকেও সময় দেওয়া যায়। এছাড়াও সময়, যাতায়াত খরচ, কর্মশক্তি সবকিছুই সাশ্রয় হয়।

তবে যতটাই মজার বিষয় হোক না কেনো কাজে মনোযোগ ধরে রাখা বেশ কষ্টসাধ্য কাজ। কয়েক মিনিট পরেই কাজ থেকে উঠে অন্যদিকে সময় নষ্ট করা হয়, পরিবারের বিভিন্ন প্রয়োজনে এগিয়ে যেতে হয়। আর ঘরের আরামের পরিবেশে নিজের আলসেমিও কাজের পথে একটি বড় অন্ত্মরায়।
ঘরের কাপড় পরে যদি কাজ করতে বসেন তবে ঘরোয়া আলসেমি না কাটার সম্ভাবনাই বেশি। তাই ঘরে বসে অফিসের কাজ করলেও গোসল করে, খাওয়াদাওয়া সেরে, পরিপাটি হয়ে কাজ করতে বসতে হবে। জীবন শুধু অফিসের কাজেই সীমাবদ্ধ নয়। পারিবারিক বিভিন্ন কাজেও আপনার মনোযোগ আবশ্যক। তাই প্রতিদিনের কাজের তালিকা তৈরি করতে হবে এবং সেই তালিকার প্রতিটি কাজ যাতে ওই দিনই সম্পন্ন হয় সেই পরিকল্পনা তৈরি করতে হবে। সবচাইতে গুরল্ফম্নত্বপূর্ণ হল সেই পরিকল্পনা মাফিক কাজ করা, আলসেমিকে সুযোগ না দেওয়া। া