বিশ্বে প্রতি বছর হাজার হাজার প্রজাতির প্রাণী বিলুপ্ত হচ্ছে। জলবায়ুর পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরায়ণ, নির্বিচারে বন উজাড়, আক্রমণাত্মক প্রজাতিসহ বিভিন্ন রোগে জীববৈচিত্র্যের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ফলে প্রতিনিয়ত জীববৈচিত্র্য নিয়ে আমরা বৈশ্বিক সংকটের দিকে ধাবিত হচ্ছি। বিশেষজ্ঞদের মতে, ১৯৭০-এর দশকের পর থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্বের প্রায় অর্ধেক প্রাণী প্রজাতির বিলুপ্তি ঘটেছে।

জীববৈচিত্র্যের ধ্বংস রোধ করে প্রকৃতিকে রক্ষার উপায় হিসেবে ফরচুন ম্যাগাজিনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জীববৈচিত্র্য বিশেষজ্ঞ নিশান দেগনারায়ণ এবং রায়ান ফেলান পাঁচটি বায়োটেকনোলজি পদ্ধতিকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরেছেন। এগুলো হলো-

১. বায়োব্যাংকিং
গবেষণা এবং জেনেটিক বৈচিত্র্য সংরক্ষণের জন্য একটি ব্যাকআপ সংস্থান হিসেবে জৈবিক নমুনা সংরক্ষণ করে বায়োব্যাংক। এসব নমুনা টিস্যু, সেল লাইন এবং জেনেটিক তথ্য সরবরাহ করে, যা জিনোমিক অন্তর্দৃষ্টি এবং প্রজনন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিপন্ন বন্যপ্রাণী পুনরুদ্ধার এবং এ প্রক্রিয়ার ভিত্তি তৈরি করতে পারে।

২. জেনোমিকস
জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে সব জীবিত প্রজাতির জিনোম সিকোয়েন্স করা সম্ভব। তাদের মধ্যে উল্লি ম্যামথ, থাইলাসিন এবং যাত্রী কবুতরের মতো বিলুপ্ত প্রজাতির জিন প্রতিস্থাপন এবং সেসব প্রাচীন জীব ফিরিয়ে আনা সম্ভব।
এসব বায়োইনফরম্যাটিক তথ্য বিপন্ন বন্যপ্রাণীর পর্যবেক্ষণ, ব্যবস্থাপনা এবং পুনরুদ্ধারের জন্য জিনোমিক অন্তর্দৃষ্টি সরবরাহ করে। মূলত এই জিনোমিক অন্তর্দৃষ্টি হলো জৈবপ্রযুক্তি বিজ্ঞানের বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের ভিত্তি।

৩. বায়োসিন্থেসিস
বায়োসিন্থেসিসের একটি বড় উদাহরণ হলো, ব্যাকটেরিয়ার সাহায্যে উৎপাদিত ইনসুলিন। এই প্রক্রিয়া ব্যবহার করে বন্য প্রজাতি থেকে জৈবিক পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে বাণিজ্যিক প্রয়োজন কমানো সম্ভব। প্রযুক্তির কল্যাণে আজ জিনোমিক ডাটাবেজ থেকে ডিএনএ বা আরএনএ বিশ্নেষণ সম্ভব। বন্যপ্রাণী রোগ এবং উদ্ভূত ছত্রাকের কারণে অনেক প্রবাল প্রাচীর সিস্টেম এবং গাছপালা ধ্বংস হয়েছে। এই প্রযুক্তি পরিবেশের এ ক্ষতির গতি কমিয়ে দিতে পারে বা বন্ধ করে দিতে পারে।

৪. প্রজনন প্রযুক্তি
নতুন প্রজনন তৈরির সরঞ্জামগুলোর মধ্যে একটি হলো জিনোম এডিটিং। CRISPR-Cas9 প্রযুক্তি ব্যবহার করে ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা শিংছাড়া দুগ্ধ গবাদি পশুর একটি প্রজন্মের প্রজনন করেছেন। এই সুনির্দিষ্ট প্রজনন পদ্ধতিটি বন্যপ্রাণীদের জিন কাটছাঁটের মধ্য দিয়ে একটি প্রজাতিকে জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সহায়তা করতে পারে।

৫. জিন ড্রাইভ
জিন ড্রাইভ হলো এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে একটি জিনের রূপ এমনভাবে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত হয়, যা যৌন প্রজননের ফলে লিঙ্গ নির্ধারণের ৫০-৫০ সুযোগের নিয়মকে ভেঙে দেয়। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, আক্রমণাত্মক ইঁদুরের সমস্যা সমাধানের জন্য একটি দ্বীপে ইঁদুরের মোট সংখ্যার লিঙ্গ অনুপাত পরিবর্তন করা দরকার। এ ক্ষেত্রে জিন ড্রাইভ প্রযুক্তি প্রয়োগ করা যেতে পারে। যাতে তারা সবাই পুরুষ হয়ে যায় এবং প্রজনন করতে ব্যর্থ হয়।
ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ বা প্রাণীর আক্রমণ জীববৈচিত্র্য এবং পার্শ্ববর্তী লোকালয়ের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য হুমকির কারণ। আক্রমণাত্মক প্রজাতিগুলো নিয়ন্ত্রণের জন্য গতানুগতিক পদ্ধতি, যেমন বিষ প্রয়োগ বা বৈদ্যুতিক তার ব্যবহার স্থানীয় বন্যপ্রাণীদের জন্য ক্ষতিকারক। এ ক্ষেত্রে জিন ড্রাইভ হতে পারে একটি সময়োপযোগী প্রযুক্তি। া

বিষয় : বিপন্ন প্রজাতি বায়োব্যাংকিং বায়োসিন্থেসিস প্রজনন প্রযুক্তি

মন্তব্য করুন