স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল কিংবা সুস্থ দেহে সুন্দর মন- স্বাস্থ্যবিষয়ক এমন প্রবাদবাক্য শোনেননি এ রকম মানুষ খুঁজে পাওয়া দুরূহ। অথচ পরিসংখ্যান বলছে, স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের দিক থেকে বাংলাদেশের অবস্থান একেবারে তলানিতে। পাশাপাশি বিভিন্ন কুসংস্কার, অন্ধ রীতিনীতির চর্চা তো আছেই। এই যখন অবস্থা, তখন একজন নারী, যাঁর বয়স বর্তমানে ৪৮, কাজ করে যাচ্ছেন শরীর ও স্বাস্থ্য নিয়ে। একজন ব্যায়ামবিদ হয়ে মানুষকে তিনি স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ, দিকনির্দেশনা তো দিচ্ছেনই; পাশাপাশি কারাতে, ইয়োগা, পিলাত, বডি বিল্ডিং, পাওয়ার লিফটিং, সাভাতে, কুংফু, ক্রাভ মাগার মতো ইভেন্ট খেলতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ চষে বেড়াচ্ছেন। সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের লাস ভেগাসে অনুষ্ঠিত 'দি ওজাওয়া কাপ' টুর্নামেন্টে অংশ নিয়ে ব্রোঞ্জ পদক জয় করেছেন বাংলাদেশের কারাতেকা শামিমা আখতার তুলি। তিনি ভ্যাটেরান (৪৫-৫৯ বছর) ক্যাটাগরিতে কাতা ইভেন্টে এ পদক পান। টুর্নামেন্টে বিশ্বের ৩০টি দেশের প্রায় ৯০০ কারাতেকা তাঁদের নৈপুণ্য প্রদর্শন করেন।

এখানেই শেষ নয়, এ আসরে নিজের ছেলের সঙ্গে অনন্য এক ইতিহাস গড়েছেন তুলি। টুর্নামেন্টের ১৮-৩০ বছর ক্যাটাগরিতে কাতা ও কুমি ইভেন্টে অংশ নিয়েছিলেন ছেলে লিওন। মায়ের মতো তিনিও ব্রোঞ্জ পদক জিতেছেন এই আসরে। তবে সংখ্যাটি একটু ওপরে- দুটি। এভাবে মা ও ছেলে মিলে কোনো টুর্নামেন্টে তিন পদক জেতার ঘটনা বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসে এবারই প্রথম।

ইতিহাস রচনাকারী এমন সাফল্যের পর তুলি বলেন, "কথা নয়, কাজের মাধ্যমে সবকিছুর জবাব দিতে চেয়েছি সব সময়। ১৮ বছর বয়স থেকে কারাতের সঙ্গে যুক্ত আমি, এখনও আছি। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যখন কারাতে করতাম, 'পড়াশোনা নষ্ট হবে', 'এ সময়টা শুধু লেখাপড়া করার'- এমন অনেক কথা শুনতে হতো। সেই সময় থেকেই ইচ্ছা ছিল, একটা দৃষ্টান্ত তৈরি করার যে বয়স কোনো বাধা নয়। আত্মবিশ্বাস, কর্মস্পৃহা থাকলে যে কোনো বয়সে যে কোনো কিছু করা সম্ভব।" তিনি যোগ করেন, 'অনেকে মনে করেন, মা হওয়ার পর আলাদা একটা পরিচয় তৈরির সুযোগ থাকে না। এবারের টুর্নামেন্টের মাধ্যমে আমরা কিন্তু সেই ভ্রান্ত ধারণাটাও ভেঙেছি।'

প্রসঙ্গত, সম্মাননা বা পদকপ্রাপ্তি তুলির জন্য নতুন নয়। ১৮ বছর বয়সের আগেই জাতীয় চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন। বাংলাদেশের প্রথম ব্ল্যাক বেল্ট পাওয়া নারী কারাতেকাও তিনি। এ ছাড়া ১৯৮৯ থেকে ১৯৯৩ পর্যন্ত টানা পাঁচবার জাতীয় শিরোপা ঘরে তোলার কীর্তি রয়েছে তাঁর। 

বিষয় : কারাতে প্রতিযোগিতা মা-ছেলের জয় কাতা ইভেন্ট

মন্তব্য করুন