যারা পরিবেশ ধ্বংস করছে, তারা তো এটার জন্য ভুগছে না, ভুগছে পরবর্তী প্রজন্ম। এটাই সবচেয়ে বড় সমস্যা। উক্তিটি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রথম নারী অধ্যাপিকা ওয়াঙ্গারি মাথাইয়ের। ১৯৪০ সালের ১ এপ্রিল কেনিয়ার নায়েরি শহরে জন্মগ্রহণ করেন মাথাই।

১৯৭৬ সালে তিনি কেনিয়ার জাতীয় নারী পরিষদে (ন্যাশনাল কাউন্সিল অব উইমেন) ছিলেন। লেখাপড়া বিদেশে হলেও কেনিয়ার গ্রামেই তাঁর বেড়ে ওঠা। প্রকৃতির খুব কাছ থেকে তাঁর জানাশোনা। মাটির গন্ধ তাঁকে খুব টানত। পড়াশোনা শেষে অধ্যাপনার সময় কেনিয়ার নির্যাতিত নারীদের জন্য কাজ করছিলেন। এ সময় তিনি দেখলেন, কৃষকদের ফসল উৎপাদন থেকে বিরত রেখে স্বার্থান্বেষী মহল রপ্তানির জন্য অর্থকরী ফসল চা ও কফি উৎপাদন করতে উদ্বুদ্ধ করছে। এতে উজাড় হচ্ছে বন। কৃষক খাদ্য উৎপাদন করতে পারছে না। নারী ও শিশুরা অপুষ্টিতে ভুগছে।

মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, গবাদি পশুর খাদ্য নেই, রান্নার জন্য জ্বালানি নেই, খাওয়ার জন্য পানি নেই। নিজ দেশের এই ভয়াবহ সংকটের সমাধান কোথায়? এমন ভাবনা থেকেই একটি সহজ সমাধান বের করলেন ওয়াঙ্গারি- গাছ লাগানো। তাঁর মতে, গাছ খাদ্য দেবে, গাছ রান্নার জ্বালানি দেবে; গাছের মাধ্যমেই মিলবে এই সমস্যার সঠিক সমাধান।

এক পর্যায়ে গ্রামীণ নারীদের জীবন-জীবিকার জন্য গাছ লাগানো, পরিস্কার পানির ব্যবস্থা করা, রান্নার জন্য জ্বালানির ব্যবস্থা করার জন্য প্রতিষ্ঠা করেন 'গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট'। ১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত তাঁর এই আন্দোলনের শুরুটা মোটেও সহজ ছিল না। তাঁর উদ্যোগে কেনিয়াতে সে সময় সাড়ে চার কোটি গাছ লাগানো হয়। প্রায় ৯ লাখ নারী চারার নার্সারি করে, গাছ লাগিয়ে রুখতে পেরেছিলেন মরুময়তা; ব্যবস্থা করতে পেরেছিলেন কর্মসংস্থানের।

গ্রামীণ নারীর পাশাপাশি গির্জা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও তাঁর গাছ লাগানোর কাজ ছড়িয়ে পড়েছিল। তখন তাঁর গ্রিন বেল্ট মুভমেন্ট আফ্রিকার অন্যান্য দেশের নেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। এই আন্দোলনে যোগদান করে তানজানিয়া, উগান্ডা, মালাবি, লেসোথো, ইথিওপিয়া, জিম্বাবুয়েসহ আরও কয়েকটি দেশ গাছ লাগিয়ে মরুময়তা রোধ করার উদ্যোগ নেয়। ১৯৪০ সালের ১ এপ্রিল কেনিয়ার নায়েরি জেলায় কিকুয়ু নামে বিখ্যাত এথনিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন ওয়াঙ্গারি মাথাই।

অধ্যাপিকা মাথাই তাঁর পরিবেশ ও সমাজবাদী কাজের স্বীকৃতি হিসেবে ২০০৪ সালে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ২০০৫ সালে ফোর্বস এবং টাইম ম্যাগাজিনের তৈরি বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী নারীর তালিকায় ছিলেন মাথাই। ২০০৬ সালে মাথাইকে ফ্রান্স সরকার সে দেশের সর্বোচ্চ সম্মানজনক পদক 'লেজিও দ্য অনার'-এ ভূষিত করে। এ বছরই তিনি ভারতের ইন্দিরা গান্ধী শান্তি পুরস্কার লাভ করেন। আজীবন পরিবেশ রক্ষায় সংগ্রাম করেছেন মাথাই। এ ছাড়া নাগরিক ও নারী অধিকারের জন্যও আজীবন লড়াই চালিয়ে গেছেন এই সংগ্রামী নারী ওয়াঙ্গারি মাথাই।

বিষয় : বৃক্ষমাতা ওয়াঙ্গারি মাথাই নোবেল পুরস্কার বিজয়ী

মন্তব্য করুন