মানবজাতির অস্তিত্ব নির্ভর করবে বায়োটেকনোলজির ওপর। তাই জীববিজ্ঞান, রসায়ন, পদার্থবিজ্ঞান- এ বিষয়গুলোর ওপর বিশেষ শিক্ষা, প্রশিক্ষণ এবং প্রায়োগিক বিষয়ে জ্ঞান অর্জনের কোনো বিকল্প নেই। শুধু অবকাঠামো নির্মাণের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন হবে না। ভবন ও ল্যাব নির্মাণের সঙ্গে প্রায়োগিক শিক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

জীববিজ্ঞান নিয়ে এমন আয়োজন দেখে দৃশ্যমান আয়োজকরা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বিজ্ঞানের স্বার্থে, বিজ্ঞান শিক্ষাকে আনন্দময় করে তুলতে। বিজ্ঞান শিক্ষা তথ্য ও স্মরণশক্তি নির্ভর হয়ে উঠেছে। এর মধ্যে ক্রিটিক্যাল থিঙ্কিং ও প্রায়োগিক দিকটি গুরুত্ব পাচ্ছে না। নানা ধরনের সফট স্কিল আমরা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনতে ব্যর্থ হচ্ছি। এ বিষয়ে আমাদের কাজ করতে হবে। নির্দিষ্ট গণ্ডিতে শিক্ষার্থীরা যা শিখছে তাই পরীক্ষায় প্রতিফলিত হচ্ছে। এটি দক্ষতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে অন্যতম অন্তরায়। না জেনে-বুঝে পড়া মেধা মূল্যায়নের মাধ্যম হয়ে গেলে বিজ্ঞান শিক্ষা নিরানন্দময় হয়ে যায়।

উৎসবমুখর এমন আয়োজন বৈজ্ঞানিক চিন্তা, বোঝাপড়া ও প্রয়োগের মাধ্যমে জীববিজ্ঞানকে আয়ত্ত ও প্রয়োগ করতে সাহায্য করবে। জ্ঞানকে প্রায়োগিক পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। শুধু জ্ঞানই যথেষ্ট নয়, তথ্য-উপাত্ত স্মরণে রাখাই দক্ষতার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, জ্ঞানটা হচ্ছে নূ্যনতম। মনে রাখতে হবে দক্ষতা বৃদ্ধি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যে কাজটি করেছিলেন জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমান, ড. কুদরত-এ-খোদা শিক্ষা কমিশন গঠনের মাধ্যমে।

আমাদের জীবনটাই হচ্ছে জীববিজ্ঞাননির্ভর। আমার শ্বাস-প্রশ্বাস, কৃষি থেকে আমাদের বেঁচে থাকা সবই জীববিজ্ঞানের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই সব পর্যায়ে জীববিজ্ঞান শিক্ষা অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে এসএসসি পর্যন্ত সবার জন্য পরবর্তী কারিকুলামে নূ্যনতম জীববিজ্ঞাব, পদার্থ বিজ্ঞান শিক্ষা নিশ্চিত করতে চাই। আগামী দিনে জীববিজ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকায় থাকবে। আগামী দিনের জ্ঞাননির্ভর যে অর্থনীতির কথা আমরা বলছি, তা বাস্তবায়নে বায়োটেকনোলজির ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে জীববিজ্ঞানেরর প্রায়োগিক দিকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। করোনা মহামারির সংকট সমাধানে জীববিজ্ঞান তাৎপর্যপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। কৃষির সঙ্গে জীববিজ্ঞান ওতপ্রোতভাবে সম্পর্কিত। কৃষিতে সফলতার ফলে আমাদের দেশের মানুষ খেয়েপরে বেঁচে আছে। পৃথিবীর জনবহুল একটা দেশের এই অর্জন জীববিজ্ঞানের জয়গান।

তোমরা শুধু অংশগ্রহণকারী নয়, পুরো দেশে জীববিজ্ঞানের বিজয়ের অন্যতম উদাহরণ। শিশুকাল থেকে খাদ্য-পুষ্টি নিশ্চিতের মাধ্যমে সার্বিক অবদানের সুফল তোমরা।

আগামীর বিশ্ব হবে জীববিজ্ঞাননির্ভর; তাই আমাদের শিক্ষকদের মান বাড়াতে হবে, শিক্ষার্থীদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। কর্মমুখী শিক্ষায় গভীর মনোযোগ দিতে হবে। না হলে ২০৪১ সালে আমরা যে উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন দেখছি, তা বাস্তবায়ন হবে না। বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় শিক্ষা-প্রশিক্ষণ নিয়ে প্রায়োগিক দিক বিবেচনায় নিয়ে আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করার কোনো বিকল্প নেই। শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ দিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে সঠিক জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে হবে। তৃণমূল পর্যায় থেকে মানবসম্পদ কাজে লাগাতে হবে। তাহলে আমরা একটি সুখী, সমৃদ্ধ বিজ্ঞানমনস্ক জাতি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারব। এ উৎসব থেকে যারা বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে, তাদের জন্য অগ্রিম শুভ কামনা রইল।